বাণী
উত্তরীয় লুটায় আমার ধানের ক্ষেতে, হিমেল্ হাওয়ায়। আমার চাওয়া জড়িয়ে আছে নীল আকাশের সুনীল চাওয়ায়॥ ভাটির শীর্ণা নদীর কূলে আমার রবি-ফসল দুলে, নবান্নেরই সুঘ্রাণে মোর চাষির মুখে টপ্পা গাওয়ায়॥
হৈমন্তী
রাগ ও তাল
রাগঃ
তালঃ তেওড়া
উত্তরীয় লুটায় আমার ধানের ক্ষেতে, হিমেল্ হাওয়ায়। আমার চাওয়া জড়িয়ে আছে নীল আকাশের সুনীল চাওয়ায়॥ ভাটির শীর্ণা নদীর কূলে আমার রবি-ফসল দুলে, নবান্নেরই সুঘ্রাণে মোর চাষির মুখে টপ্পা গাওয়ায়॥
হৈমন্তী
রাগঃ
তালঃ তেওড়া
রিনিকি ঝিনিকি ঝিনিরিনি রিনি ঝিনিঝিনি বাজে পায়েলা বাজে নওল কিশোরী ধায় অভিসারে ভবন তেয়াগি' বন-মাঝে।। বারণ করে তায় লতিকা ধরি' পায় ভাব-বিলাসিনী না মানে গুরুজন-ভয় লাজে।। আবেশ বিহ্বল এলোমেলো কুন্তল ছায়া-নটিনী চলে মধুকর গুঞ্জে মাধবী কুঞ্জে কুসুম দীপালি জ্বলে। সে রূপ হেরি' হায় মুরলী থামিয়া যায় পথ-ভোলা শশী কাননে এলো যেন রাধা-সাজে।।
রাগঃ ছায়ানট
তালঃ ত্রিতাল

বাজে মঞ্জুল মঞ্জির রিনিকি ঝিনি নীর ভরণে চলে রাধা বিনোদিনী তার চঞ্চল নয়ন টলে টলমল যেন দু'টি ঝিনুকে ভরা সাগর জল।। ও সে আঁখি না পাখি গো রাই ইতি-উতি চায় কভু তমাল-বনে কভু কদম-তলায়। রাই শত ছলে ধীরে পথ চলে কভু কন্টক বেঁধে চরণে তবু যে কাঁটা-লতায় আঁচল জড়ায় বেণী খুলে যায় অকারণে। গিয়ে যমুনার তীরে চায় ফিরে ফিরে আনমনে ব'সে গণে ঢেউ চকিতে কলসি ভরি’লয় তার যেই মনে হয় আসে কেউ। হায় হায় কেউ আসে না “ভোলো অভিমান রাধারানী” বলি’ শ্যাম এসে সম্ভাষে না। রাই চলিতে পারে না পথ আর, বিরস বদন অলস চরণ শূন্য-কলসি লাগে ভার। বলি,কালা নাহি এলো যমুনা তো ছিল লইয়া শীতল কালো জল। কেন ডুবিয়া সে-কলে উঠিলি আবার কাঁদায়ে ভাসাতে ধরাতল।।
রাগঃ
তালঃ ফের্তা (দাদ্রা ও কাহার্বা)

কে নিবি মালিকা এ মধু যামিনী, আয় লো যুবতী কুল কামিনী॥ আমার বেল ফুলের মালা গুণ জানে গো, পরবাসী বঁধুকে ঘরে আনে গো। আমার মালার মায়ায় ভালোবাসা পায় কেঁদে কাটায় রাতি যে অভিমানিনী॥ আমি রূপের দেশের মায়া পরী, (সেই) আমার মালার গুণে কুরূপা যে সে হয় সুন্দরী। যে চঞ্চলে অঞ্চলে বাঁধিতে চায়, যার নিঠুর বঁধু সদা পালিয়ে বেড়ায়। আমার মালার মোহে ঘরে রহে সে ফোটে মলিন মুখে হাসির সৌদামিনী॥
রাগঃ
তালঃ দ্রুত-দাদ্রা

ভোরে ঝিলের জলে শালুক-পদ্ম তোলে কে ভ্রমর-কুন্তলা কিশোরী ফুল দেখে বেভুল সিনান বিসরি’।। একি নূতন লীলা আঁখিতে দেখি ভুল কমল ফুল যেন তোলে কমল ফুল ভাসায়ে আকাশ-গাঙে অরুণ-গাগরি।। ঝিলের নিথর জলে আবেশে ঢল ঢল গ’লে পড়ে শত সে তরঙ্গে, শারদ-আকাশে দলে দলে আসে মেঘ, বলাকার খেলিতে সঙ্গে। আলোক-মঞ্জরি প্রভাত বেলা বিকশি’ জলে কি গো করিছে খেলা বুকের আঁচলে ফুল উঠিছে শিহরি’।।
রাগঃ জিলফ্
তালঃ ত্রিতাল

নীরব সন্ধ্যা, নীরব দেবতা খোলো মন্দির দ্বার। ম্লান হ’ল বেদনায় অঞ্জলি নিশি-গন্ধ্যার।। নিভিয়া যায় হায় অঞ্চল-তলে নয়নের প্রদীপ নয়নের জলে, শুকাইল নিরাশায় চন্দন ফুলদল তোমার বরণ ডালার।। মৌন র’বে আর কতকাল বল পাষাণ-বেদীতে, কত জনম কত পূজারিণীর আয়ু-দীপ নিভাইতে। দিনের তপস্যার শেষে সাঁঝ-লগনে আশার চাঁদ কি গো উঠিবে না গগনে, আমার শেষ বাণী তোমার চরণে — নিবেদনের ক্ষণ পাব নাকি আর।।
রাগঃ
তালঃ