ঠাকুর তেমনি আমি বাঘা তেঁতুল

বাণী

ঠাকুর! তেমনি আমি বাঘা তেঁতুল (তুমি) যেমন বুনো ওল।
তোমার কুলের কথা (গোকুলের কথা) রটিয়ে দোবো
বাজিয়ে ঢাক ঢোল, বাজিয়ে শ্রীখোল।।
কেঁদে হেঁই হেঁই যে করে, তার তরে তোমার প্রেম নেই,
তুমি আয়ান ঘোষকে দেখা দিলে দেখলে লাঠি যেই।
সেদিনও নদীয়াতে কল্‌সি কানার এক ঘায়েতে
পাপ নিয়ে জগাই মাধাই-এ দিলে তুমি কোল, বাজিয়ে শ্রীখোল।।
ঐ অগ্রদ্বীপে ভোগ দিল না গোবিন্দ ঘোষ,
তারে বাবা ব’লে করলে আপোষ;
বাগবাজারে ধমক খেয়ে
সাজ্‌লে তামাক মদ্‌না হয়ে
বদ্‌লে ফেলে ভোল, ঠাকুর বাজিয়ে শ্রীখোল।।
ভালো চাও ত’ শুনিয়ো নূপুর, রাত্রি দুপুর কালে,
মন্দিরে মোর নেই অধিকার এসো ঘরের চালে –
আমার ভাঙা কুঁড়ের চালে।
জান আমি ভীষণ গোঁয়ার, ধার ধারি না ভক্তি ধোঁয়ার
ধরব যেদিন বুঝবে ইয়ে,
চাঁচর কেশ মুড়িয়ে ঢাল্‌ব মাথায় ঘোল।।

হায় হায় উঠিল মাতম আকাশ পবন ভুবন ভরি

বাণী

হায় হায় উঠিল মাতম আকাশ পবন ভুবন ভরি’।
আখেরি নবী দ্বীনের রবি বিদায় নিল বিশ্ব-নিখিল আঁধার করি’।।
অসীম তিমিরে পুণ্যের আলো
আনিল যে চাঁদ, সে কোথায় লুকালো
আকাশে ললাট হানি’ কাঁদিছে মরুভূমি
শোকে গ্রহ-তারকা পড়িছে ঝরি’।।
তৃণ নাহি খায় উট, মেষ নাহি মাঠে যায়;
বিহগ-শাবক কাঁদে জননীরে ভুলি হায়!
বন্ধুর বিরহ কি সহিল না আল্লার,
তাই তারে ডাকিয়া নিল কাছে আপনার’;
হায় কান্ডারি গেল চ’লে রাখিয়া পারের তরী।।

বৈতালিক

আমার লীলা বোঝা ভার

বাণী

আমার লীলা বোঝা ভার।
নদীতে বান আনি আমি আমিই করি পার।।
	আমার যারা করে আশ
	করি তাদের সর্বনাশ,
তবু আশা ছাড়ে না যে মিটাই আশা তার।।

রেকর্ড নাটিকা : ‌‌‘সুভদ্রা’ (নাট্যকার : বরদাপ্রসন্ন দাশগুপ্ত)

যাক্ না নিশি গানে গানে

বাণী

যাক্ না নিশি গানে গানে জাগরণে
আজকে গানের বান এসেছে আমার মনে।।
	মন ছিল মোর পাতায় ছাওয়া
	হঠাৎ এলো দিখন্ হাওয়া
পাতার কোলে কথার কুঁড়ি ফুট্‌লো অধীর হরষণে।।
সেই কথারই মুকুলগুলি সুরের সুতোয় গেঁথে গেঁথে,
কা’রে যেন চাই পরাতে কাহারে চাই কাছে পেতে।
	জানি না সে কোন্ বিজনে
	নিশীথ জেগে এ গান শোনে
না-দেখা তার চোখের চাওয়ায় আবেশ জাগায় মোর নয়নে।।

বল্ মা শ্যামা বল্ তোর বিগ্রহ কি মায়া জানে

বাণী

	বল্ মা শ্যামা বল্ তোর বিগ্রহ কি মায়া জানে।
আমি	যত দেখি তত কাঁদি ঐ রূপ দেখি মা সকলখানে॥
	মাতৃহারা শিশু যেমন মায়ের ছবি দেখে,
	চোখ ফিরাতে নারে মাগো, কাঁদে বুকে রেখে।
তোর	মূর্তি মোরে তেমনি ক’রে টানে মাগো মরণ টানে॥
ও-মা,	রাত্রে নিতুই ঘুমের ঘোরে দেখি বুকের কাছে,
যেন,	প্রতিমা তোর মায়ের মত জড়িয়ে মোরে আছে।
	জেগে উঠে আঁধার ঘরে
	কাঁদি যবে মা তোরই তরে
দেখি	প্রতিমা তোর কাঁদছে যেন চেয়ে চেয়ে আমার পানে॥

তুমি শুনিতে চেয়ো না আমার মনের কথা

বাণী

তুমি	শুনিতে চেয়ো না আমার মনের কথা
	দখিনা বাতাস ইঙ্গিতে বোঝে
			কহে যাহা বনলতা।।
	চুপ ক'রে চাঁদ সুদুর গগনে
	মহা-সাগরের ক্রন্দন শোনে,
	ভ্রমর কাদিঁয়া ভাঙিতে পারে না
			কুসুমের নীরবতা।।
	মনের কথা কি মুখে সব বলা যায়?
	রাতের আঁধারে যত তারা ফোটে
			আঁখি কি দেখিতে পায়?
	পাখায় পাখায় বাঁধা যবে রয়
	বিহগ-মিথুন কথা নাহি কয়,
	মধুকর যবে ফুলে মধু পায়
			রহে না চঞ্চলতা।।

গীতিচিত্রঃ ‌‘অতনুর দেশ’