মনের রঙ লেগেছে বনের পলাশ

বাণী

মনের রঙ লেগেছে বনের পলাশ জবা অশোকে
রঙের ঘোর জেগেছে পারুল কনক-চাঁপার চোখে।।
মুহু মুহু বোলে কুহু কুহু কোয়েলা, মুকুলিত আমের ডালে
				গাল রেখে ফুলের গালে।
দোয়েলা দোল দিয়ে যায়, ডালিম ফুলের নব-কোরকে।।
ফুলের পরাগ ফাগের রেণু ঝুরু ঝুরু ঝরিছে গায়ে
				ঝিরি ঝিরি চৈতী বায়ে
বকুল বনে ঝিমায় মধুপ মদির নেশার ঝোঁকে।।
হরিত বনে হরষিত মনে হোরির হর্‌রা জাগে
				রঙিলা অনুরাগে
নূতন প্রণয়-সাধ জাগে চাঁদের রাঙা আলোকে।।

দেবযানীর মনে প্রথম প্রীতির কলি জাগে

বাণী

দেবযানীর মনে প্রথম প্রীতির কলি জাগে।
কাঁপে অধর-আঁখি অরুণ অনুরাগে।।
	নব-ঘন-পরশে
	কদম শিহরে যেন হরষে,
ভীরু বুকে তা’র তেমনি শিহরণ১ লাগে।।
দেব-গুরু-কুমার ভোলে সঞ্জীবনী-মন্ত্র,
তপোবনে তার জাগে ব্যাকুল বসন্ত।
	নব-সুর-ছন্দ
	আনিল অজানা আনন্দ,
পূজা-বেদী তার রাঙিল চন্দন-ফাগে।।

১. হরষণ

প্রভাত বীণা তব বাজে হে

বাণী

প্রভাত বীণা তব বাজে হে
উদার অম্বর মাঝে হে।।
তুষার কান্তি তব প্রশান্তি
শুভ্র আলোকে রাজে হে।।
তব আনন্দিত গভীর বাণী
শোনে ত্রিভুবন যুক্ত পাণি
মন্ত্রমুগ্ধ ভাব গঙ্গা নিস্তরঙ্গা লাজে হে।।

বাদ্‌লা-কালো স্নিগ্ধা আমার

বাণী

বাদ্‌লা-কালো স্নিগ্ধা আমার কান্তা এলো রিম্‌ঝিমিয়ে
বৃষ্টিতে তার বাজ্‌লো নুপূর পায়জোরেরই শিঞ্জিনী যে।
ভিজ্‌লো কুঁড়ির বক্ষ-পরাগ হিম্‌-শিশিরের আমেজ পেয়ে
হর্‌দম! হর্‌দম দাও মদ, মস্ত্ করো গজল গেয়ে!
ফেরদৌসের ঝরকা বেয়ে গুল-বাগিচায় বইছে হাওয়া,
এই তো রে ভাই ওক্ত খুশির, দ্রাক্ষারসে দিল্‌কে নাওয়া।
কুঞ্জে জরিন ফারসি ফরাস্‌ বিছিয়েছে আজ ফুলবালারা,
আজ চাই-ই চাই লাল-শিরাজি স্বচ্ছ-সরস খোর্মা-পারা!
খাম্‌খা তুমি মরছ কাজী শুষ্ক তোমার শাস্ত্র ঘেঁটে,
মুক্তি পাবে হারামখোরের আল-কিমিয়ার পাত্র চেটে!

নাচে সুনীল দরিয়া আজি

বাণী

নাচে	সুনীল দরিয়া আজি দিল্-দরিয়া পূর্ণিমা চাঁদেরে পেয়ে।
	কূলে তার ঝুমুর ঝুমুর ঘুঙুর বাজে মিঠে আওয়াজে
				নাচে জল্-পরীর মেয়ে।।
	তার জল-ছলছল্ কূলে কূলে
	ফেনিল যৌবন ওঠে দু’লে,
	চাঁদিনী উজল্ তনু ঝলমল্
		পরানে উছল জাগে জোয়ার —
		আধো ঘুমে আসে তার নয়ন ছেয়ে।।
	জল-বালা মুক্তা-মালা গাঁথে নিরালা চাঁদের তরে,
	কাজল-বরণী তরুণী তটিনী চলেছে ধেয়ে।।

সখি সেই ত পুষ্প-শোভিতা হ’ল

বাণী

সখি, সেই ত পুষ্প-শোভিতা হ’ল আবার মাধবীলতা।
মাধবী চাঁদ উঠেছে আকাশে, আমার মাধব কোথা।
রাধা আজ নিরাধারা সখি রাধামাধব কোথা।
মধুপ গুঞ্জরে মালতী-বিতানে, নূপুর-গুঞ্জরণ নাহি শুনি কানে।
মোর মনো-মধুবনে মধুপ কানু কই –
আনন্দ-রাস নাই – রাসবিহারী নাই, আমি আর রাধা নই।
সখি পূর্ণ রাসে আমি জনম লভিয়া পুষ্প আহরণ তরে,
কৃষ্ণ-পূজার লাগি পুষ্প আহরণ তরে ধেয়েছিনু বনে অনুরাগ ভরে,
বৃন্দাবনচারী কৃষ্ণে না পেয়ে, রাধা কাঁদে ব্রজ-পথে ধেয়ে ধেয়ে –
‘প্রাণবল্লভ আমার কই গো, সখি আমায় বলে দে গো।’
রাধা হ’ল আজি অশ্রুর ধারা
কৃষ্ঞ-আনন্দিনী রাধা বিনোদিনী কবে হবে শ্রীকৃষ্ণ-হারা।।