ফিরিয়া এসো এসো হে ফিরে

বাণী

ফিরিয়া এসো এসো হে ফিরে
বঁধু এ ঘোর বাদলে নারি থাকিতে একা।
হায় গগনে মনে আজি মেঘের ভিড়
	যায় নয়ন-জলে মুছে কাজল-লেখা।।
ললাটে কর হানি’ কাঁদিছে আকাশ
শ্বসিছে শন-শন হুতাস বাতাস।
তোমারি মত ঝড় হানিছে দ্বারে কর,
	খোঁজে বিজলি তোমারি পথ-রেখা।।
মেঘেরে সুধাই তুমি কোথায়
কাঁদন আমার বাতাসে ডুবে যায়!
ঝড়ের নূপুর পরি’ রাঙা পায়
	শ্যামল-সুন্দর দাও দেখা।।

পলাশ-মঞ্জরি পরায়ে দে লো মঞ্জুলিকা

বাণী

পলাশ-মঞ্জরি পরায়ে দে লো মঞ্জুলিকা
আজি রসিয়ার রাসে হবো আমি নায়িকা লো মঞ্জুলিকা।।
কৃষ্ণচূড়ার সাথে রঙ্গনে অশোকে
বুলালো রঙের মোহন তুলিকা লো মঞ্জুলিকা।।
	মাদার শিমুল ফুলে
	রঙিন পতাকা দোলে
জ্বলিছে মনে মনে আগুন শিখা লো মঞ্জুলিকা।।

সখি যায়নি ত শ্যাম মথুরায়

বাণী

সখি যায়নি ত শ্যাম মথুরায়,
আর আমি কাঁদব না সই।
সে যে রয়েছে তেমনি ঘিরে আমায়।
মোর অন্তরতম আছে অন্তরে অন্তরালে সে যাবে কোথায়?
আছে ধেয়ানে স্বপনে জাগরণে মোর নয়নের জলে আঁখি-তারায়।।
কে বলে সখি অন্ধকার, এ বৃন্দাবনে কৃষ্ণ নাই, সখি গো –
আমি অন্তরে পেয়েছি লো, বাহিরে হারিয়ে তায়,
যাক্‌ না সে মথুরায়, যেথা তা’র প্রাণ চায়।।
শ্যামে হেরিয়াছি যমুনার কালো জলে, সাগরে,
আষাঢ়ের ঘন মেঘে হেরিয়াছি নাগরে।
হেরিয়াছি তায় শ্যাম-শস্যে হেমন্তে,
পীত-ধড়া হেরি তায় কুস্‌মি বসন্তে।।
এঁকেছিলাম শ্যামের ছবি সেদিন সখি খেলার ছলে,
আঁকিনি লো চরণ তাহার, পালায়ে সে যাবে ব’লে।
আনিয়া দে আজ সে চিত্রপট আঁকিব লো আজ চরণ তা’র,
সে যায়নি মথুরা কাঁদিস নে তোরা আছে আছে শ্যাম হৃদে আমার।।

তাপসিনী গৌরী কাঁদে বেলা শেষে

বাণী

তাপসিনী গৌরী কাঁদে বেলা শেষে,
উপবাস-ক্ষীণ তবু যোগিনী বেশে।।
বুকে চাপি’ করতল বিল্বপত্র-দল,
কেঁপে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে শিব-আবেশে।।
অস্ত রবি তা’র সহস্র করে
চরণ ধ’রে বলে ফিরে যেতে ঘরে,
‘শিব দাও শিব দাও’ ব’লে লুটায় ধূলি-তলে —
কৈলাস-গিরি পানে চাহে অনিমেষে।।

আজি দোল্-পূর্ণিমাতে দুল্‌বি তোরা আয়

বাণী

আজি দোল্-পূর্ণিমাতে দুল্‌বি তোরা আয়।
দখিনার দোল্ লেগেছে দোলন্-চাঁপায়।।
	দোলে আজ দোল্-ফাগুনে	
	ফুল-বাণ আঁখির তূণে,
দুলে আজ বিধুর হিয়া মধুর ব্যথায়।।
দুলে আজ শিথিল বেণী, দুলে বধূর মেখলা
দুলে গো মালার পলা জড়াতে বঁধুর গলা!
	মাধবীর দোলন্-লতায়
	দোয়েলা দোল্ খেয়ে যায়,
দুলে যায় হল্‌দে পাখি সোঁদাল-শাখায়।।
বিরহ-শীর্ণা নদীর আজিকে আঁখির কূলে
ভরে জল কানায় কানায় জোয়ারে উঠ্‌ল দু’লে।
	দুলে বসন্ত-রানী
	কুসুমিতা বনানী
পলাশ রঙন দোলে নোটন-খোঁপায়।।
দোলে হিন্দোল-দোলায় ধরণী শ্যাম-পিয়ারী,
দুলিছে গ্রহ-তারা আলোক-গোপ-ঝিয়ারি।
	নীলিমার কোলে বসি’
	দুলে কলঙ্কী-শশী,
দোলে ফুল-উর্বশী ফুল-দোলায়।।

রাত্রি-শেষের যাত্রী আমি

বাণী

রাত্রি-শেষের যাত্রী আমি যাই চ’লে যাই একা।
শুকতারাতে রইল আমার চোখের জলের লেখা।।
	ফোটার আগে ঝরে যে ফুল
	সঙ্গী আমার সেই সে-মুকুল,
ছায়াপথে জাগে আমার বিদায় পথ-রেখা।।
অনেক ছিল আশা আমার অনেক ছিল সাধ,
ব্যর্থ হ’ল না পেয়ে কা’র আাঁখির পরসাদ।
	দীপ নেভানো শূন্য ঘরে
	এসো না আর খুঁজতে মোরে,
তারার দেশে চন্দ্রলোকে হবে আবার দেখা।।