তুমি আমার চোখের বালি

বাণী

তুমি আমার চোখের বালি, ওগো বনমালী।
আমার চোখে পড়ল কখন, তোমার রূপের কালি।।
(চোখ)	চাইলে ও-রূপ সইতে নারি
	নয়ন মুদেও রইতে নারি,
তোমার লীলা, প্রিয়জনে কাঁদাও খালি।।
কাঁদিয়ে আমায় করলে কানা, কানাই একি লীলা,
এবার ম’রে আর জনমে যেন হই কুটিলা।
	তোমার নয়ন-মণি রাইকে নিয়ে
	রাখব ঘরে দুয়ার দিয়ে
চোখে চোখে সেদিন যেন হয় মিতালি।।

কালো মেয়ের পায়ের তলায়

বাণী

		কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন।
(তার)		রূপ দেখে দেয় বুক পেতে শিব যার হাতে মরণ বাঁচন।।
			কালো মায়ের আঁধার কোলে
			শিশু রবি শশী দোলে
(মায়ের)	একটুখানি রূপের ঝলক স্নিগ্ধ বিরাট নীল–গগন।।
		পাগলী মেয়ে এলোকেশী নিশীথিনীর দুলিয়ে কেশ
		নেচে বেড়ায় দিনের চিতায় লীলার রে তার নাই কো শেষ।
			সিন্ধুতে মা’র বিন্দুখানিক
			ঠিকরে পড়ে রূপের মানিক
		বিশ্বে মায়ের রূপ ধরে না মা আমার তাই দিগ্‌–বসন।।

নূরজাহান! নূরজাহান!

বাণী

নূরজাহান, নূরজাহান!
সিন্ধু নদীতে ভেসে,
এলে মেঘলামতীর দেশে, ইরানি গুলিস্তান।।
নার্গিস লালা গোলাপ আঙ্গুর–লতা
শিঁরি ফরহাদ সিরাজের উপকথা
এনেছিলে তুমি তনুর পেয়ালা ভরি’
বুলবুলি দিলরুবা রবাবের গান।।
তব প্রেমে উন্মাদ ভুলিল সেলিম, সে যে রাজাধিরাজ –
চন্দন সম মাখিল অঙ্গে কলঙ্ক লোক–লাজ।
যে কলঙ্ক লয়ে হাসে চাঁদ নীল আকাশে,
যাহা লেখা থাকে শুধু প্রেমিকের ইতিহাসে,
দেবে চিরদিন নন্দন–লোক–চারী
তব সেই কলঙ্ক সে প্রেমের সম্মান।।

সঙ্গীতালেখ্য : ‌‘পঞ্চাঙ্গনা’

আমারে ভাসালে অসীম আকাশে

বাণী

ঘুম	:	আমারে ভাসালে অসীম আকাশে তোমারে ভাসানু জলে।
স্বপন	:	মাটির মানুষ বোঝে না বেদনা, বুঝিত দেবতা হলে।।
ঘুম	:	ওগো সুন্দর তুমি ত জানো না
		ভালোবাসার কি নিবিড় বেদনা,
স্বপন	:	জান না ত আমি কাঁদি কত তোমারে কাঁদাই ব’লে।।

নাটক : ‘মধুমালা’ (ঘুমপরী স্বপনপরীর গান)

পরম পুরুষ সিদ্ধ যোগী মাতৃভক্ত যুগাবতার

বাণী

পরম পুরুষ সিদ্ধ যোগী মাতৃভক্ত যুগাবতার,
পরমহংস শ্রীরামকৃষ্ণ লহ প্রণাম নমস্কার।
	জাগালে ভারত শ্মশান তীরে
	অশিব-নাশিনী মহাকালীরে
মাতৃনামের অমৃত-নীরে বাঁচালে মৃত ভারত আবার।।
সত্যযুগের পুণ্য স্মৃতি আনিলে কলিতে তুমি তাপস,
পাঠালে ধরার দেশে দেশে ঋষি পূর্ণতীর্থ-বারি-কলস।
	মন্দিরে মসজিদে গির্জায়
	পূজিলে ব্রহ্মে সমশ্রদ্ধায়,
তব নাম মাখা প্রেম-নিতেকনে ভরিয়াছে তাই ত্রিসংসার।।

ও বন্ধু! দেখলে তোমায় বুকের মাঝে

বাণী

ও বন্ধু! দেখ্‌লে তোমায়, বুকের মাঝে জোয়ার-ভাঁটা খেলে।
আমি এক্‌লা ঘাটে কুলবধূ কেন তুমি এলে
			বন্ধু, কেন তুমি এলে।।
ও বন্ধু, আমার অঙ্গে কাঁটা দিয়ে ওঠে বাজাও যখন বাঁশি
আমি খিড়্‌কি দুয়ার দিয়ে বন্ধু, জল ভরিতে আসি
ভেসে’ নয়ন-জলে ঘরে ফিরি ঘাটে কলস ফেলে।।
আমার পাড়ায়, বন্ধু, তোমার নাম যদি নেয় কেউ
বুকে আমার দুলে ওঠে পদ্মা নদীর ঢেউ বন্ধু পদ্মা নদীর ঢেউ।
	ওগো ও চাঁদ, এনো না আর
	দু’কূল-ভাঙা এমন জোয়ার
কত ছল ক’রে জল লুকাই চোখের কাঁচা কাঠে আগুন জ্বেলে।।