এসো মাধব এসে পিও মধু

বাণী

এসো মাধব এসে পিও মধু।
এসো মাধবী লতার কুঞ্জ বিতানে (মধু) মাধবী রাতে এসো বঁধু।।
এসো মৃদুল মধুর পা ফেলে
এসো ঝুমুর ঝুমুর ঘুমুর বাজায়ে শ্রবণে অমিয়া মধু ঢেলে,
এসো বাজায়ে বাঁশরি যে সুর-লহরী শুনে কুল ভোলে ব্রজবধূ।।
এসো নিবিড় নীরদ বরণ শ্যাম
তমাল কাননে কাজল বুলায়ে দুলায়ে চাঁচর চিকুর দাম,
এসো বামে হেলায়ে শিখী-পাখা ত্রিভঙ্গ ঠামে এসো বঁধু।।
এসো নারায়ণ এসো অবতার
পার্থসারথি বেশে এসো পাপ কুরুক্ষেত্রে আরবার,
তুমি মহাভারতের ভাগ্যবিধাতা গীতি উদ্গাতা নহ শুধু।।

কোন্ মহাব্যোমে ধ্বনি ওঠে ওম্

বাণী

কোন্ মহাব্যোমে ধ্বনি ওঠে ওম্, আদি আকাশ বাণী।
কোন্ মহামৌনীর ধ্যান ভাঙে কোন্ বিরহের বীণাপাণি —
			নাহি জানি নাহি জানি।।
	নিথর শূন্য অসীমে কোথায়
	কে সে প্রণব-শঙ্খ বাজায়,
সেই ধ্বনি বুঝি জ্যোতির্জ্জগতে বাহিরে আনিছে টানি।।
কোন্ অজানার অলখ-জটায় কথার গঙ্গা কাঁদে
কোন্ মায়াতীত সুন্দর হ’ল পড়িয়া মায়ার ফাঁদে।
	কার সাথে এত কথা কহিবার
	এত সে-গোপন সাধ ছিল তার,
তাহারি বাঁশরি-ধ্বনির কথা কি ব্রজে হয় কানাকানি।।

স্বপ্নে দেখি একটি নতুন ঘর

বাণী

স্বপ্নে দেখি একটি নতুন ঘর
তুমি আমি দু’জন প্রিয় তুমি আমি দু’জন।
বাহিরে বকুল-বনে কুহু পাপিয়া করে কুজন।।
		আবেশে ঢুলে’ ফুল-শয্যায় শুই
		মুখ টিপে হাসে মল্লিকা যুঁই
কানে কানে গানে গানে কহে ‘চিনেছি উতল সমীরণ’।।
পূর্ণিমা চাঁদ কয়, গান আর সুর, চঞ্চল ওরা দু’জন
প্রেম-জ্যোতি আনন্দ-আঁখিজল, ছল ছল ওরা দু’জন।
মৌমাছি কয়, গুন্‌ গুন্‌ গান গাই
মুখোমুখি দু’জনে সেইখানে যাই
শারদীয়া শেফালি গায়ে পড়ে কয় —
‘ব্রজের মধুবন — এই তো ব্রজের মধুবন’।।

কিছু নাহি যার তোমারে দিবার

বাণী

কিছু নাহি যার তোমারে দিবার কি তার ভিক্ষা লবে!
তুমি কেঁদে গেলে আমারে শুধুই নীরবে কাঁদিতে হবে।।
	হেথা একদিন কিশোর বেলায়
	বেঁধেছিনু ঘর পুতুল-খেলায়,
সে সাথি আমার ফিরিবে না আর নব বসন্ত-উৎসবে।।
একদা হেথায় ফুটেছিল হেনা,
সে-ফুল আবার ফুটিবে হেথায় সে তো আর আসিবে না
	ওগো ভিখারি কি দিব তোমায়
	শূন্য দেউলে কুসুম শুকায়,
ক্ষমিও আমার শত অপরাধ, ভিখারিনী আমি ভবে।।

প্রদীপ কি জ্বলিল আবার

বাণী

প্রদীপ কি জ্বলিল আবার।
দিন কি গো শেষ হল মোর নিরাশার।।
বিরহ দাহন কি গো ফুরালো
বৈকালি বায়ে তনু জুড়ালো,
উঠিবে কি চাঁদ আর রবে না আঁধার।।
সে কি গো রাধারে ত্যজিয়া ব্রজপথে
আরোহিবে মথুরার রথে,
যমুনায় আবার কি বহিবে জোয়ার।।

আজও মা তোর পাইনি প্রসাদ

বাণী

আজও মা তোর পাইনি প্রসাদ আজও মুক্ত নহি।
আজও অন্যে আঘাত দিলে কঠোর ভাষা কহি।।
	মোর আচরণ, আমার কথা
	আজও অন্যে দেয় মা ব্যথা
আজও আমার দাহন দিয়ে শত জনে দহি।।
শত্রুমিত্র মন্দভালোর যায়নি আজও ভেদ
কেহ ব্যথা দিলে, প্রাণে আজও জাগে খেদ।
	আজও মাগো দুঃখে শোকে
	অশ্রু ঝরে আমার চোখে,
আমার আমার ভাব ওগো মা আজও জাগে রহি’ রহি’।।

১. আজও অন্যে কষ্ট দিলে / কষ্ট ভাষা কহি।।