তোমার আঁখির মত আকাশের দুটি তারা

বাণী

তোমার আঁখির মত আকাশের দু’টি তারা
চেয়ে থাকে মোর পানে নিশীথে তন্দ্রাহারা
		সে কি তুমি? সে কি তুমি??
ক্ষীণ আঁখি–দীপ জ্বালি’ বাতায়নে জাগি একা,
অসীম অন্ধকারে খুঁজি তব পথ রেখা;
সহসা দখিনা বায়ে চাঁপা–বনে জাগে সাড়া।
		সে কি তুমি? সে কি তুমি??
বৈশাখী–ঝড়ের রাতে চমকিয়া উঠি জেগে’
বুঝি অশান্ত মম আসিলে ঝড়ের বেগে,
ঝড় চ’লে যায় কেঁদে ঢালিয়া শ্রাবণ ধারা
		সে কি তুমি? সে কি তুমি??

নয়নে তোমার ভীরু মাধুরীর মায়া

বাণী

নয়নে তোমার ভীরু মাধুরীর মায়া
বন-মৃগী সম উঠিছ চমকি' হেরিয়া আপন ছায়া।।
	প্রাতে ঊষার প্রায়
	রেঙে ওঠো লজ্জায়,
এলায়িত লতিকায় ভঙ্গুর তব কায়া।।
দৃষ্টিতে তব আরতি-দীপের দ্যুতি
তুমি নিবেদিতা সন্ধ্যা-পূজা-আরতি।
	ভূমি অবলুণ্ঠিতা
	বনলতা কুণ্ঠিতা
কোলাহল-শঙ্কিতা যেন গো তাপস-জায়া।।

দুখের সাহারা পার হয়ে আমি চলেছি

বাণী

		দুখের সাহারা পার হয়ে আমি চলেছি ক্বাবার পানে।
		পড়িব নামাজ মা'রফাতের আরফাত ময়দানে।।
		খোদার ঘরের দিদার পাইব, হজ্জের পথের জ্বালা জুড়াইব,
(মোর)	মুর্শিদ হয়ে হজরত পথ দেখান সুদূর পানে।।
		রোজা রাখা মোর সফল হইবে, পাবো পিয়াসার পানি;
		আবে জম্‌জম্‌ তৌহিদ পিয়ে ঘুচাব পথের গ্লানি।
		আল্লার ঘর তওয়াফ করিয়া কাঁদিব সেথায় পরান ভরিয়া,
		ফিরিব না আর, কোরবানি দেবো এই জান সেইখানে।।

বিদ্রোহী (প্রথম খন্ড)

বাণী

বল	বীর –
	বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল	বীর –
বল	মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
	চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
	ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া
	খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
	উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর!
মম	ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
বল	বীর –
আমি	চির উন্নত শির!
আমি	চিরদূর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
	মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!
আমি	মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,
আমি	দুর্বার,
আমি	ভেঙে করি সব চুরমার!
আমি	অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি	দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!
আমি	মানি না কো কোন আইন,
আমি	ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন!
আমি	ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর
আমি	বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাতৃর!
বল	বীর –
	চির-উন্নত মম শির!
আমি	ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি,
আমি	পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’।
আমি	নৃত্য-পাগল ছন্দ,
আমি	আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ।
আমি	হাম্বীর, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল,
আমি	চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’
	পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’
	ফিং দিয়া দিই তিন দোল;
আমি	চপলা-চপল হিন্দোল।
আমি	তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা,
করি	শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা,
আমি	উন্মাদ, আমি ঝঞ্ঝা!
	ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা
আমি	মহামারী, আমি ভীতি এ ধরিত্রীর;
আমি	শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ঞ চির-অধীর!
বল	বীর –
আমি	চির উন্নত শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল	বীর -
	বল উন্নত মম শির!
আমি	বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস,
আমি	আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ!
আমি	বজ্র, আমি ঈশান-বিষাণে ওঙ্কার,
আমি	ইস্রাফিলের শিঙ্গার মহা হুঙ্কার,
আমি	পিণাক-পাণির ডমরু ত্রিশূল, ধর্মরাজের দন্ড,
আমি	চক্র ও মহা শঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ প্রচন্ড!
আমি	ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য,
আমি	দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব।
আমি	প্রাণ খোলা হাসি উল্লাস, – আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস,
আমি	মহা প্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু গ্রাস!
আমি	কভূ প্রশান্ত কভূ অশান্ত দারুণ স্বেচ্ছাচারী,
আমি	অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির দর্পহারী!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল	বীর -
	বল উন্নত মম শির!
	উন্নত মম শির!
	উন্নত মম শির!

মনের রঙ লেগেছে বনের পলাশ

বাণী

মনের রঙ লেগেছে বনের পলাশ জবা অশোকে
রঙের ঘোর জেগেছে পারুল কনক-চাঁপার চোখে।।
মুহু মুহু বোলে কুহু কুহু কোয়েলা, মুকুলিত আমের ডালে
				গাল রেখে ফুলের গালে।
দোয়েলা দোল দিয়ে যায়, ডালিম ফুলের নব-কোরকে।।
ফুলের পরাগ ফাগের রেণু ঝুরু ঝুরু ঝরিছে গায়ে
				ঝিরি ঝিরি চৈতী বায়ে
বকুল বনে ঝিমায় মধুপ মদির নেশার ঝোঁকে।।
হরিত বনে হরষিত মনে হোরির হর্‌রা জাগে
				রঙিলা অনুরাগে
নূতন প্রণয়-সাধ জাগে চাঁদের রাঙা আলোকে।।

আজি অলি ব‍্যাকুল ওই বকুলের ফুলে

বাণী

আজি অলি ব‍্যাকুল ওই বকুলের ফুলে
কত আদরে টানি, চুমে বদনখানি
ফুলকলি লাজে পড়ে বুকে ঢুলে ঢুলে।।
আসে ফুল-বধূ, বুকে ভরা মধু
হাসে ভ্রমর-বঁধু কলি সনে দুলে দুলে।।
সোহাগে গুনগুনিয়ে সব কথা তার কইতে বাকি
সলাজ ফুল-কুমারীর ঘোমটাখানি খুলতে বাকি,
গোপনে গোপন বুকের সুধাটুকু লুটতে বাকি,
না কওয়া যত কথা কানে কানে বলে খুলে।।