হে প্রিয়! তোমার আমার মাঝে

বাণী

হে প্রিয়! তোমার আমার মাঝে এ বিরহের পারাবার
				কেমনে হইব পার।।
	নিশীথের চখা-চখির মতন
	দুই কূলে থাকি’ কাঁদি দুই জন
আসিল না দিন মোদের জীবনে অন্তহীন আঁধার।।
সেধেছিনু বুঝি বাদ
কাহার মিলনে সে কোন্‌ জনমে তাই মিটিল না সাধ।
	স্মৃতি তব ঝরা পালকের প্রায়
	লুটায় মনের বালুচরে, হায়।
সে কোন্‌ প্রভাতে কোন্‌ নবলোকে মিলিব মোরা আবার।।

কল-কল্লোলে ত্রিংশ কোটি-কণ্ঠে উঠেছে গান

বাণী

কল-কল্লোলে ত্রিংশ কোটি-কণ্ঠে উঠেছে গান
জয় আর্যাবর্ত, জয় ভারত, জয় হিন্দুস্থান।।
শিরে হিমালয় প্রহরী, পদ বন্দে সাগর যাঁর,
শ্যাম বনানী কুন্তলা রানী জন্মভূমি আমার।
	ধূসর কভু উষর মরুতে,
	কখনো কোমল লতায় তরুতে,
কখনো ঈশানে জলদ-মন্দ্রে বাজে-মেঘ বিষাণ।।
সকল জাতি সকল ধর্ম পেয়েছে হেথায় টাই
এসেছিল যারা শত্রুর রূপে, আজ সে স্বজন ভাই।।
	বিজয়ীর বেশে আসিল যাহারা,
	আজি মা’র কোলে সন্তান তারা,
(তাই) মা’র কোল নিয়ে করে কাড়াকাড়ি হিন্দু মুসলমান।।
জৈন পার্শী বৌদ্ধ শক্তি খ্রিস্টান বৈষ্ণব
মা’র মমতায় ভুলিয়া বিরোধ এক হয়ে গেছে সব।
	ভুলি’ বিভিন্ন ভাষা আর বেশ
	গাহিছে সকলে আমার স্বদেশ
শত দল মিলে’ শতদল হ’য়ে করিছে অর্ঘ্য দান।।

নাহি ভয় নাহি ভয়

বাণী

নাহি ভয় নাহি ভয়।
মৃত্যু সাগর মন্থন শেষ আসে মৃত্যুঞ্জয়।।
কৃষ্ণাতিথির তিমির হরণ
আসিল কৃষ্ণ তিমির বরণ,
দিকে দিকে ঐ গাহে জনগণ —
জয় হে জ্যোতির্ময়।।
দলিত হৃদয়-শতদলে তাঁর
আঁখি-জল-ঘেরা আসন বিথার,
ব্যথা-বিহারীরে দেখিবি কে আয়।
ধ্বংসের মাঝে বংশী বাজায়,
নিখিলের হৃদি বেদনা-আভায় —
নবীন অভ্যুদয়।।

ওমা নির্গুণেরে প্রসাদ দিতে

বাণী

ওমা	নির্গুণেরে প্রসাদ দিতে তোর মত কেউ নাই।
তোর	পায়ে মা তাই রক্তজবা গায়ে শ্মশান-ছাই।।
		দৈত্য-অসুর হনন ছলে
		ঠাঁই দিস্ তুই চরণ তলে,
আমি	তামসিকের দলে মা গো তাই নিয়েছি ঠাঁই।।
	কালো ব’লে গৌরী তোরে কে দিয়েছে গালি,
(ওমা)	ত্রিভুবনের পাপ নিয়ে তোর অঙ্গ হ’ল কালি।
		অপরাধ না করলে শ্যামা
		ক্ষমা যে তোর পেতাম না মা,
(আমি)	পাপী ব’লে আশা রাখি চরণ যদি পাই।।

পরজনমে যদি আসি এ ধরায়

বাণী

পরজনমে যদি আসি এ ধরায়।
ক্ষণিক বসন্ত যেন না ফুরায়॥
মিলনে নাহি যেন রহে অবসাদ
ক্ষয় নাহি হয় যেন চৈতালি-চাঁদ,
কণ্ঠ-লগ্ন মোর প্রিয়ার বাহু
খুলিয়া২ না পড়ে যেন, নিশি না পোহায়॥
বাসি নাহি হয় যেন রাতের মালা,
ভরা থাকে যৌবন-রস-পেয়ালা।
জীবনে না রহে যেন মরণ-স্মৃতি
পুরাতন নাহি হয় প্রেম-প্রীতি,
রবে অভিমান রহিবে না বিরহ,
ফিরে যেন আসে প্রিয়া মাগিয়া বিদায়॥

১. মিলনে যেন নাহি আসে অবসাদ, ২. ঢলিয়া

হে পাষাণ দেবতা

বাণী

হে পাষাণ দেবতা!
মন্দির দুয়ার খোল কও কথা।।
দুয়ারে দাঁড়ায়ে শ্রান্তি-হীন দীর্ঘ দিন,
অঞ্চলের পূষ্পাঞ্জলি শুকায়ে যায় উষ্ণ বায়;
আঁখি দীপ নিভিছে হায়, কাঁপিছে তনুলতা।
শুভ্রবাসে পূজারিণী, দিন শেষে —
গোধুলির গেরুয়া রঙ হের প্রিয় লাগে এসে;
খোল দ্বার শরণ দাও, সহে না আর নীরবতা।।