এলো এলো রে ঐ সুদূর বন্ধু এলো

বাণী

এলো এলো রে ঐ সুদূর বন্ধু এলো।
এলো পথ চাওয়া এলো হারিয়ে পাওয়া
মনের আঁধার দূরে গেল, ঐ বন্ধু এলো।।
এলো চঞ্চল বন্যার ঢল মন্থর স্রোত-নীড়ে,
এলো শ্যামল মেঘ-মায়া তৃষিত গগন ঘিরে;
তার পলাতকা মৃগে বন ফিরে পেল।।
এলো পবনে বিহ্‌বল চঞ্চলতা
যেন শান্ত ভবনে এলো সারা ভুবনের কল-কথা।
অলি গুঞ্জরি’ কয় জাগো বনবীথি;
ডাকে দখিনা মলয় — এলো এলো অতিথি;
বাজে তোরণ দ্বারে বাঁশরি গীতি,
দুখ নিশি পোহাল, আঁখি মেল।।

নাটিকা: ‌‘বাসন্তিকা’

বাদল বায়ে মোর নিভিয়া গেছে বাতি

বাণী

বাদল বায়ে মোর নিভিয়া গেছে বাতি।
তোমার ঘরে আজ উৎসবের রাতি।।
তোমার আছে হাসি, আমার আঁখি-জল
তোমার আছে চাঁদ, আমার মেঘ-দল,
তোমার আছে ঘর, ঝড় আমার সাথী।।
শূন্য করি’ মোর মনের বন-ভূমি,
সেজেছ সেই ফুলে রানীর সাজে তুমি।
	নব বাসর-ঘরে
	যাও সে-সাজ প’রে,
ঘুমাতে দাও মোরে কাঁটার সেজ পাতি’।।

এই সুন্দর ফুল সুন্দর ফল মিঠা নদীর পানি

বাণী

এই সুন্দর ফুল সুন্দর ফল মিঠা নদীর পানি
		খোদা তোমার মেহেরবানী।
শস্য-শ্যামল ফসল-ভরা মাঠের ডালিখানি
		খোদা তোমার মেহেরবানী।।
	তুমি কতই দিলে রতন
	ভাই বেরাদর পুত্র স্বজন
ক্ষুধা পেলেই অন্ন জোগাও মানি চাই না মানি।।
খোদা তোমার হুকুম তরক করি আমি প্রতি পায়
তবু আলো দিয়ে বাতাস দিয়ে বাঁচাও এ বান্দায়।
	শ্রেষ্ঠ নবী দিলে মোরে
	তরিয়ে নিতে রোজ-হাশরে
পথ না ভুলি তাইতো দিলে পাক কোরানের বাণী।।

ব'লো বঁধুয়ারে নিরজনে

বাণী

(সখি) ব'লো বঁধুয়ারে নিরজনে
দেখা হ'লে রাতে ফুল-বনে।।
কে করে ফুল চুরি জেনেছে ফুলমালী
কে দেয় গহীন রাতে ফুলের কুলে কালি
জেনেছে ফুলমালী গোপনে।।
ও-পথে চোর-কাঁটা, সখি, তায় বলে দিও
বেঁধে না বেঁধে না লো যেন তার উত্তরীয়।
এ বনফুল লাগি' না আসে কাঁটা' দলি'
আপনি যাব চলি' বঁধুয়ার কুঞ্জ-গলি
বিনা মূলে বিকাইব ও-চরণে।।

ঐ ঐ ঐ আসে কর্ণ কৌরব সেনানী

বাণী

ঐ, ঐ, ঐ আসে কর্ণ কৌরব সেনানী।
মহাবীর ভীষ্ম গেছে, দ্রোণ গেছে জানি।
কর্ণে বধিতে হবে, কুরুক্ষেত্র রণে।
তারপর বধিব মোরা নীচ দুযোর্ধনে।।

লেটো গান: ‘কর্ণ বধ’

জীবন যাপন করিতে

বাণী

জীবন যাপন করিতে,
চাষ কর বিধিমতে,
রবে যদি সুখেতে —
		এই পৃথিবী মাঝার।।
জমি ‘উগালে’ ‘সামালে’
বীজ ফেলাও কুতুহলে,
পাবে তবে সেই ফসলে —
		মেহনতের সার।।
লাগাও ধান প্রধান ফসল,
তরকারি কলাই সকল,
দাও সময় মত জল —
		যাতে প্রাণ বাঁচে তার।।
অরি হতে ফসলে
রক্ষা কর সকলে,
নজরুল এসলাম বলে —
		নইলে বাঁচা হবে ভার।।

লেটো গান : ‘চাষার সঙ’