আজি চৈতী হাওয়ার মাতন লাগে

বাণী

আজি	চৈতী হাওয়ার মাতন লাগে হলুদ চাঁপার ডালে ডালে।
	তালী বনে বাজে তারি করতালি ঐ তালে তালে।।
		ভ্রমর মুখে গুনগুনিয়ে
		যায় সে মৃদু সুর শুনিয়ে
	শুকনো পাতার মর্মরে তার নূপুর বাজে রুনুঝুনিয়ে।।
	ফুলে পাতায় রঙ মাখায় সে ফিকে সবুজ নীলে লালে
আজি	ওড়ে তাহার রঙের নিশান প্রজাপতির পাখার পালে পালে।।

রেকর্ড-নাটিকা, ‘বাসন্তিকা’

ধীরে যায় ফিরে ফিরে চায়

বাণী

ধীরে যায় ফিরে ফিরে চায়।
চলে নব অভিসারে, ভীরু কিশোরী,
ওঠে পাতাটি নড়লে সে চম্‌কে।।
হরিণ নয়নে সভয় চাহনি,
আসিছে কে যেন দেখিবে এখনি
পথে সে দেয় ফেলে মুখর নূপুর খুলে,
আপন ছায়া হেরি ওঠে গা ছম্‌কে॥
‘চোখ গেল চোখ গেল’ ডাকে পাপিয়া
শুনিয়া শরমে ওঠে কাঁপিয়া;
হায়, যার লাগি এত, কোথায় সে
ঝিল্লি-রবে ভাবে কেউ হবে
বনে ফুল ঝরার আওয়াজে দাঁড়ায় সে থম্‌কে॥

ওগো এলে কি শ্যামল পিয়া কাজল মেঘে

বাণী

ওগো	এলে কি শ্যামল পিয়া কাজল মেঘে
	চাঁচর চিকুর ওড়ে পবন বেগে॥
	তোমার লাবনি ঝ’রে পড়িছে অবনি-পরে
	কদম শিহরে কর-পরশ লেগে॥
	তড়িৎ ত্বরিত পায়ে বিরহী-আঁখিরে ছায়ে তরাসে লুকায়।
	চলিতে পথের মাঝে ঝুমুর ঝুমুর বাজে নূপুর দু’পায়।
	অশনি হানার ছলে প্রিয়ারে ধরাও গলে,
ওগো	রাতের মুকুল কাঁদে কুসুম জেগে॥

পথিক ওগো চল্‌তে পথে

বাণী

পথিক ওগো চল্‌তে পথে
	তোমায় আমায় পথের দেখা।
ঐ দেখাতে দুইটি হিয়ায়
	জাগ্‌ল প্রেমের গভীর রেখা।।
এই যে দেখা শরৎ-শেষে
পথের মাঝে অচিন্‌ দেশে,
কে জানে ভাই কখন কে সে
	চল্‌ব আবার পথটি একা।।
এই যে মোদের একটু চেনার
	আবছায়াতেই বেদন জাগে
ফাগুন হাওয়ার মদির ছোঁওয়া
	পূবের হাওয়ার কাঁপন লাগে।
হয়ত মোদের শেষ দেখা এই
এম্‌নি ক’রে পথের বাঁকেই
রইল স্মৃতি চারটি আঁখেই
	চেনার বেদন নিবি লেখা।।

সপ্ত-সিন্ধু ভরি’ গীত-লহরী

বাণী

‍
সপ্ত-সিন্ধু ভরি’ গীত-লহরী।
হিল্লোলি’ হিল্লোলি’ ওঠে দিবা বিভাবরী।।
	এসো এসো বিরহী
	আমি এনেছি বহি’,
(সেই) সিন্ধুতে সাঁতরিতে সোনার তরী।।
কেন তীরের বালুকা ল’য়ে খেলিছ খেলা,
গাহন করিবে এসো (হের) ফুরায় বেলা।
	বল বল সে কবে
	অভিষেক হবে,
হে বিজয়ী! শুকাইল তীর্থ-জলের গাগরী।।

কেমনে কহি প্রিয় কি ব্যথা প্রাণে বাজে

বাণী

কেমনে কহি প্রিয় কি ব্যথা প্রাণে বাজে
কহিতে গিয়ে কেন ফিরিয়া আসি লাজে।।
	শরমে মরমে ম'রে
	গেল বনফুল ঝ'রে
ভীরু মোর ভালোবাসা শুকালো মনের মাঝে।।
	আজিকে ঝরার আগে,
	নিলাজ অনুরাগে
ধরিতে যে সাধ জাগে হৃদয়ে হৃদয় রাজে।।