কে বিদেশি বন-উদাসী

বাণী

কে বিদেশি		বন-উদাসী'
বাঁশের বাঁশি		বাজাও বনে।
সুর-সোহাগে		তন্দ্রা লাগে
কুসুম-বাগের	গুল-বদনে।।
ঝিমিয়ে আসে	ভোমরা-পাখা
যুথীর চোখে		আবেশ মাখা
কাতর ঘুমে		চাঁদিমা রাকা
ভোর গগনের	দর-দালানে
দর-দালানে		ভোর গগনে।।
লজ্জাবতীর		লুলিত লতায়
শিহর লাগে		পুলক-ব্যথায়
মালিকা সম		বঁধুরে জড়ায়
বালিকা-বঁধু		সুখ-স্বপনে।।
বৃথাই গাঁথি		কথার মালা
লুকাস কবি		বুকের জ্বালা,
কাঁদে নিরালা	বনশিওয়ালা
তোরি উতলা	বিরহী মনে।।

মোরা ভেসে যাব কৃষ্ণ নামের স্রোতে

বাণী

মোরা ভেসে যাব কৃষ্ণ নামের স্রোতে গো
ঐ নাম ধরে গো, উঠব মোরা ব্রজধামের পথে।।
ঐ নামেরই মন্ত্র গুণে
পথের মানুষ গোঠের বেণু শোনে গো
ভুলের কূলে কূলে খেলে যে সে ওঠে ফুলের রথে।।
ঐ নাম পেল যে, সুমুখে তার শ্যাম গো
দেখা দেবার তরে নিতুই ঘোরে অবিরাম গো।
ঐ কৃষ্ণ নামের টানে
ধীরে ধীরে প্রেম যমুনা আনে।
ঐ নামের গুণে গঙ্গাধারা নামে হিমগিরি হতে।।

দেশে দেশে গেয়ে বেড়াই তোমার নামের গান

বাণী

দেশে দেশে গেয়ে বেড়াই তোমার নামের গান
হে খোদা, এ যে তোমারই হুকুম, তোমারই ফরমান।।
এমনি তোমার নামের আছর –
নামাজ রোজার নাই অবসর,
তোমার নামের নেশায় সদা মশগুল মোর প্রাণ।।
তকদিরে মোর এই লিখেছ হাজার গানের সুরে
নিত্য দিব তোমার আজান আঁধার মিনার-চূড়ে।
কাজের মাঝে হাটের পথে
রণ-ভূমে এবাদতে
আমি তোমার নাম শোনাব, করব শক্তি দান।।

তোমার প্রেমে সন্দেহ মোর

বাণী

তোমার প্রেমে সন্দেহ মোর দুর কর নাথ ভক্তি দাও।
যেখানে হোক তুমি আছ — এই বিশ্বাস শক্তি দাও।।
	যে কোন জনমে আমি
	পাইব পাব তোমায় আমি
অবিশ্বাসের আঁধার রাতে তোমায় পাওয়ার পথ দেখাও।।
শত দুঃখ ব্যথার মাঝে এইটুকু দাও শন্তি নাথ।
কাঁদিবে তুমি আমার দুঃখে আজকে যতই দাও আঘাত।।
	হয়ত কোটি জনম পরে
	পাব তোমায় আমার করে,
তোমায় আমায় মিলন হবে এই আশাতেই মন দোলাও।।

চারু চপল পায়ে যায়

বাণী

চারু চপল পায়ে যায় যুবতী গোরী।।
আঁচলের পাল তুলে সে চলে ময়ূর-পঙ্খি-তরী।।
	আয়রে দেখবি যদি
	ভাদরের ভরা নদী,
চলে কে বে-দরদি — ভেঙে কূল গিরি-দরি।।
	মুখে চাঁদের মায়া
	কেশে তমাল-ছায়া,
এলোচুলে দুলে দুলে নেচে চলে হাওয়া-পরী।।
	নয়ন-বাণে মারে প্রাণে
	চরণ-ছোঁয়ায় জীবন দানে,
মায়াবিনী যাদু জানে — হার মানে ঊর্বশী অপ্সরী।।

নয়ন মুদিল কুমুদিনী হায়

বাণী

		নয়ন মুদিল কুমুদিনী হায়!
		তাহার ধ্যানের চাঁদ ডুবে যায়।।
		ভরিল সরসী তা’রি আঁখি-জলে
		ঢলিয়া পড়িল পল্লব-তলে,
অকরুণ নিষাদের তীর সম অরুণ-কিরণ বেঁধে এসে গায়।।
		কপোলের শিশির অভিমানে শুকালো,
		পাপড়ির আড়ালে পরাগ লুকাল।
		সরসীর জলে পড়ে আকাশের ছায়া
		নাই সেথা তারা-দল, চাঁদের মায়া,
জলে ডুবে মেটে না প্রাণের তৃষা হৃদয়ের মধু তার হৃদয়ে শুকায়।।