কুনুর নদীর ধারে ঝুনুর ঝুনুর বাজে

বাণী

পুরুষ	:	কুনুর নদীর ধারে ঝুনুর ঝুনুর বাজে
		বাজে বাজে লো ঘুঙুর কাহার পায়ে।
স্ত্রী	:	হাতে তল্‌তা বাঁশের বাঁশি মুখে জংলা হাসি
		কে ঐ বুনো গো বড়ায় আদুল গায়ে।।
পুরুষ	:	তার ফিঙের মত এলোখোঁপায় ঝিঙেরি ফুল
স্ত্রী	:	যেন কালো ভোম্‌রার গা কালার ঝামর চুল।
দ্বৈত	:	ও যদি না হতো পর
		দু’জনের হতো ঘর
		একই গাঁয়ে গো।।
পুরুষ	:	ওর বাঁকা ভঙ্গিমা দেখে
		তৃতীয়ার চাঁদ ডেকে,
		হতে চাহে ওর হাঁসুলি-হার।
স্ত্রী	:	ঝিলের শঙ্খ ঝিনুক বলে
		কিনুক বিনামূলে
		আমরা হব কালার কণ্ঠেরই হার।
পুরুষ	:	ও মেয়ে না পাহাড়ি-ঝর্নার সুর
স্ত্রী	:	ও পুরুষ না কষ্টি পাথরের ঠাকুর
দ্বৈত	:	যদি বাসত ভালো, যদি আসত কাছে
		রাখতাম হিয়ায় লুকায়ে গো।।

দেশে দেশে গেয়ে বেড়াই তোমার নামের গান

বাণী

দেশে দেশে গেয়ে বেড়াই তোমার নামের গান
হে খোদা, এ যে তোমারই হুকুম, তোমারই ফরমান।।
এমনি তোমার নামের আছর –
নামাজ রোজার নাই অবসর,
তোমার নামের নেশায় সদা মশগুল মোর প্রাণ।।
তকদিরে মোর এই লিখেছ হাজার গানের সুরে
নিত্য দিব তোমার আজান আঁধার মিনার-চূড়ে।
কাজের মাঝে হাটের পথে
রণ-ভূমে এবাদতে
আমি তোমার নাম শোনাব, করব শক্তি দান।।

তারকা-নূপুরে নীল নভে ছন্দ শোন্ ছন্দিতার

বাণী

তারকা-নূপুরে নীল নভে ছন্দ শোন্ ছন্দিতার।
সৃষ্টিময় বৃষ্টি হয় নৃত্য সেই নন্দিতার।।
সাগরে নদীতে ঢেউ তোলে সেই দেবীর মুক্তকেশ।
সঙ্গীতের হিন্দোলে তাঁর আঁখির প্রেম-আবেশ।
পবনে পবনে হিল্লোলে নীল আঁচল চঞ্চলার
ছন্দোময় আনন্দময় চরণশ্রী বন্দি তাঁর।।

ঘন ঘোর বরিষণ মেঘ-ডমরু বাজে

বাণী

ঘন ঘোর বরিষণ মেঘ-ডমরু বাজে
শ্রাবণ রজনী আঁধার।
বেদনা-বিজুরি-শিখা রহি’ রহি’ চমকে
মন চাহে প্রেম অভিসার॥
কোথা তুমি মাধব কোথা তুমি শ্যামরায়?
ঝরিছে নয়ন-বারি অঝোর ধারায়,
কদম-কেয়া-বনে
ডাহুকী আনমনে —
সাথি বিনা কাঁদে অনিবার॥

ডাল মেল পত্র মেল ওরে তরুলতা

বাণী

ডাল মেল, পত্র মেল, ওরে তরুলতা!
কইতে পার, কইতে পার আমার প্রাণের বন্ধু গেল কোথা (রে)।।
	ও তরু, তোর পাতার কোলে
	ফোটা ফুলের হাসি দোলে (রে)।
সে কি তোর কুসুমের মালা গলে বসেছিল হোথা (রে)।।
	তোর ফুল ঝরে যে যথা
	তোর ছায়া থাকে যথা।
ঢেউ-এর মালা গলায় পরে নাচিস নদী জল,
তরী বেয়ে বন্ধু আমার কোথায় গেল বল।
	চাঁদের তিলক প’রে আকাশ
	হেসে হেসে কেন তাকাস্?
তোর চাঁদ কি জানে, মোর আকাশের চাঁদেরই বারতা।।

আল্লাহ থাকেন দূর আরশে

বাণী

আল্লাহ থাকেন দূর আরশে, নবীজী রয় প্রাণের কাছে।
প্রাণের কাছে রয় যে প্রিয়, সেই নবীরে পরান যাচে।।
	পয়গম্বরও পায় না খোদায়
	মোর নবীরে সকলে পায়,
নবীজী মোর তাবিজ হ’য়ে আমার বুকে জড়িয়ে আছে।।
খোদার নামে সেজ্‌দা করি, নবীরে মোর ভালোবাসি,
খোদা যেন নূরের সূরয, নবী যেন চাঁদের হাসি।
	নবীরে মোর কাছে পেতে
	হয় না পাহাড়-বনে যেতে,
বৃথা ফকির-দরবেশ মরে পু’ড়ে খোদার আগুন-আঁচে।।