দুধে আলতায় রঙ যেন তার

বাণী

দুধে আলতায় রঙ যেন তার সোনার অঙ্গ ছেয়ে
		(সে) ভিন্ গেরামের মেয়ে।
চাঁদের কথা যায় ভুলে লোক তাহার মুখে চেয়ে,
		ভিন্ গেরামের মেয়ে।
ও পারে ওই চরে যখন চুল খুলে সে দাঁড়ায়,
কালো মেঘের ভিড় লেগে যায় আকাশের ওই পাড়ায়,
পা ছুঁতে তার নদীর জলে (ও ভাই) জোয়ার আসে ধেয়ে।।
চোখ তুলে সে মেঘের পানে ভুরু যখন হানে,
অম্‌নি ওঠে রামধনু গো সেই চাহনির টানে।
কপালের সে ঘাম মুছে গো আঁচল যখন খুলে,
ধানের ক্ষেতে ঢেউ খেলে যায়, দরিয়া ওঠে দুলে।
আমি চোখের জলে খুঁজি তারেই (ও ভাই) দুখের তরী বেয়ে।।

আমার ধ্যানের ছবি আমার হজরত

বাণী

আমার ধ্যানের ছবি আমার হজরত।
ও নাম প্রাণে মিটায় পিয়াসা,
আমার তামান্না আমারি আশা,
আমার গৌরব আমারি ভরসা,
এ দীন গোনাহগার তাঁহারই উম্মত।।
ও নামে রওশন জমীন আসমান,
ও নামে মাখা তামাম জাহান,
ও নামই দরিয়ায় বহায় উজান,
ও নাম ধেয়ায় মরু ও পর্বত।।
আমার নবীর নাম জপে নিশিদিন
ফেরেশ্‌তা আর হুর পরী জিন্‌,
ও নাম জপি আমার ভোমরায়
পাবো কিয়ামতে তাঁহার শাফায়ৎ।।

মহান তুমি প্রিয়

বাণী

মহান তুমি প্রিয়!
এই কথাটির গৌরবে মোর চিত্ত ভ’রে দিয়ো।।
অনেক আশায় ব’সে আছি যাত্রা শেষের পর,
তোমায় নিয়েই পথের ’পরে বাঁধবো আমার ঘর —
					হে চির-সুন্দর!
পথ-শেষে সেই তোমায় যেন করতে পারি ক্ষমা,
			হে মোর কলঙ্কিনী প্রিয়তমা!
সেদিন যেন বলতে পারি, — ‘এসো এসো প্রিয়,
বক্ষে এসো, এসো আমার পূত কমনীয়।।’
হায় হারানো লক্ষ্মী আমার! পথ ভুলেছ ব’লে
চির-সাথী যাবে তোমার মুখ ফিরিয়ে চ’লে?
জান্ ওঠে হায় মোচড় খেয়ে, চলতে পড়ি ট’লে
অনেক জ্বালায় জ্বলে’ প্রিয় অনেক ব্যথায় গলে’।
বারে বারে নানান রূপে ছ’ল্‌তে আমায় শেষে,
কলঙ্কিনী! হাতছানি দাও সকল পথে এসে,
			কুটিল হাসি হেসে।।
ব্যথায় আরো ব্যথা হানাই যে সে!
তুমি কি চাও তোমার মতই কলঙ্কী এই আমি?
এখন তুমি সুদূর হ’তে আসবে ঘরে নামি’।
হে মোর প্রিয়া হে মোর বিপথ-গামী!
পথের আজো অনেক বাকী, তাই যদি হয় প্রিয় —
পথের শেষে তোমায় পাওয়ার যোগ্য করেই নিও।।

আজি এ শ্রাবণ-নিশি কাটে কেমনে

বাণী

আজি এ শ্রাবণ-নিশি		কাটে কেমনে।
গুরু দেয়া গরজন			কাঁপে হিয়া ঘনঘন
শনশন কাঁদে বায়ু			নীপ-কাননে।।
অন্ধ নিশীথ, মন			খোঁজে কারে আঁধারে,
অন্ধ নয়ন ঝরে			শাওন-বারিধারে।
ভাঙিয়া দুয়ার মম			এসো এসো প্রিয়তম,
শ্বসিছে বাহির ঘর			ভেজা পবনে।।
কার চোখে এত জল		ঝরে দিক্‌ প্লাবিয়া,
সহিতে না পারি’ কাঁদে		‘চোখ গেল’ পাপিয়া।
কাহার কাজল-আঁখি		চাহি’ মোর নয়নে
ঝুরেছিল একা রাতে		কবে কোন্‌ শাওনে,
আজি এ বাদল ঝড়ে		সেই আঁখি মনে পড়ে,
বিজলি খুঁজিছে তারে		নভ-আঙনে।।

কে এলে হংস-রথে কোথা যাও

বাণী

কে এলে হংস-রথে, কোথা যাও?
তার লিপি এনেছ কি? দাও মোরে দাও।।
যা’র বিরহে মোর হৃদয়-কমল
অশ্রু-সরসী-নীরে কাঁপে টলমল,
শুনেছি তার সাথে তুমি কথা কও —
কার কথা হয় সেথা — শোনাও শোনাও।।
আনন্দ-দূত তুমি, লিপি আন নাই?
দেখিতে কি আসিয়াছ — কত দুঃখ পাই?
সে এত প্রেম দিয়ে কেন লুকিয়ে থাকে
কেন দেখা দেয় না এত যে ডাকে,
কেন মোর আর ভালো লাগে না কিছুই?
মনে ক’রে বলো যদি তার দেখা পাও।।

প্রাণ নিয়ে নিঠুর খেল

বাণী

(মম)	প্রাণ নিয়ে নিঠুর খেল এ কি খেলা (হায়)।
	ক্ষণে ভালোবাসা হায় ক্ষণে অবহেলা।।
	সকালে গাঁথিয়া মালা পায়ে দল বিকালে তায়।
	তেমনি দলিতে চাহ আমার পরান কি হায়।
	সহিতে পারি না আর এই হেলাফেলা।।
	জলরূপী একি কোন্ মরীচিকা তুমি কি গো।
	ডেকে এনে মরুভূমে বধিবে এ বনমৃগ।
	বুঝিয়াছি কখন হায় ফুরায়েছে বেলা।।