কুনুর নদীর ধারে ঝুনুর ঝুনুর বাজে

বাণী

পুরুষ	:	কুনুর নদীর ধারে ঝুনুর ঝুনুর বাজে
		বাজে বাজে লো ঘুঙুর কাহার পায়ে।
স্ত্রী	:	হাতে তল্‌তা বাঁশের বাঁশি মুখে জংলা হাসি
		কে ঐ বুনো গো বড়ায় আদুল গায়ে।।
পুরুষ	:	তার ফিঙের মত এলোখোঁপায় ঝিঙেরি ফুল
স্ত্রী	:	যেন কালো ভোম্‌রার গা কালার ঝামর চুল।
দ্বৈত	:	ও যদি না হতো পর
		দু’জনের হতো ঘর
		একই গাঁয়ে গো।।
পুরুষ	:	ওর বাঁকা ভঙ্গিমা দেখে
		তৃতীয়ার চাঁদ ডেকে,
		হতে চাহে ওর হাঁসুলি-হার।
স্ত্রী	:	ঝিলের শঙ্খ ঝিনুক বলে
		কিনুক বিনামূলে
		আমরা হব কালার কণ্ঠেরই হার।
পুরুষ	:	ও মেয়ে না পাহাড়ি-ঝর্নার সুর
স্ত্রী	:	ও পুরুষ না কষ্টি পাথরের ঠাকুর
দ্বৈত	:	যদি বাসত ভালো, যদি আসত কাছে
		রাখতাম হিয়ায় লুকায়ে গো।।

ফুল চাই চাই ফুল টগর চম্পা চামেলি

বাণী

ফুল চাই — চাই ফুল — টগর চম্পা চামেলি
ফিরি ফুলওয়ালী নিয়ে ফুল ডালি —
	মল্লিকা মালতী যুঁই বেলি।।
যার প্রাণে বিরহ জ্বালা
লহ এ অশোক মাধবী মালা,
এ হাস্নুহানা নেবে যে বালা —
	কাটিবে জীবন তার হাসি খেলি।।
মোর এই বকুল মালা পরে যে আদর ক’রে
বঁধু তার ব্যাকুল হয়ে ফিরিয়া আসে ঘরে।
আমার এই পলাশ জবা রঙন ও কৃষ্ণচূড়া
বিনোদ বেণীতে খোঁপায় পরে নববধূরা,
শুনি মোর ফুলের বাণী সন্ধ্যারানী পরে গোধূলি রাঙা চেলি।।

আল্লাহ্ আমার প্রভু আমার নাহি

বাণী

আল্লাহ্ আমার প্রভু, আমার নাহি নাহি ভয়।
আমার নবী মোহাম্মদ, যাঁহার তারিফ জগৎময়।।
	আমার কিসের শঙ্কা
	কোরআন আমার ডঙ্কা
ইসলাম আমার ধর্ম, মুসলিম আমার পরিচয়।।
কলেমা আমার তাবিজ, তৌহীদ্ আমার মুর্শিদ্,
ঈমান্ আমার বর্ম, হেলাল আমার খুর্শিদ্।
	‘আল্লাহ্ আকবর’ ধ্বনি
	আমার জেহাদ-বাণী,
আখের মোকাম ফেরদৌস্ খোদার আরশ যথায় রয়।।

তোমার নামে একি নেশা হে প্রিয় হজরত

বাণী

তোমার নামে একি নেশা হে প্রিয় হজরত।
যত চাহি তত কাঁদি, আমার মেটে না হসরত।।
কোথায় আরব কোথায় এ হিন্দ্
নয়নে মোর নাই তবু নিন্দ
প্রাণে শুধু জাগে (তোমার) মদিনার ঐ পথ।।
কে বলে তুমি গেছ চলে হাজার বছর আগে
আছ লুকিয়ে তুমি প্রিয়তম আমার অনুরাগে।
মোর অন্তরের হেরা গুহায়
আজো তোমার ডাক শোনা যায়
জাগে আমার মনের কাবা ঘরে তোমারি সুরত —
	হজরত তোমারি সুরত।।
যারা দোজখ হতে ত্রাণের তরে তোমায় ভালোবাসে
আমার এ প্রেম দেখে তারা কেউ কাঁদে কেউ হাসে।
তুমি জান হে মোর স্বামী, শাফায়াৎ চাহি না আমি
আমি শুধু তোমায় চাহি তোমার মুহব্বত
	হজরত তোমার মুহব্বত।।

অনেক মানিক আছে শ্যামা

বাণী

অনেক মানিক আছে শ্যামা তোর কালোরূপ-সাগরজলে
আমার বুকের মানিক কেড়ে রাখ্‌লি কোথায় দে মা ব’লে।।
কত লতার কোল ক’রে খালি, ফুলের অর্ঘ্য১ নিস্‌ মা কালি
(মোর) সারা বনের একটি কুসুম আছে কি ঐ চরণ-তলে।।
একখানি মুখ খুঁজি মাগো তোর কণ্ঠের মুন্ডমালায়
একটিবার মা সে মুখ দেখা, আবার কেড়ে পরিস্‌ গলায়।
			(না হয়) রাখিস্‌ পূজার থালায়।
অনন্ত তোর রূপের মাঝে, সে কোন্‌ রূপে মা কোথায় রাজে?
মোর নয়ন-তারা তারা হয়ে দোলে কি তোর বুকের কোলে।।

১. ফুলের অর্ঘ্য-এর পরিবর্তে কবি ‘পূজাঞ্জলি’ শব্দটিও ব্যবহার করেছেন।

জাগিলে ‘পারুল’ কিগো ‘সাত ভাই চম্পা’ ডাকে

বাণী

জাগিলে ‘পারুল’ কিগো ‘সাত ভাই চম্পা’ ডাকে।
উদিলে চন্দ্র-লেখা বাদলের মেঘের ফাঁকে।।
	চলিলে সাগর ঘু’রে’
	অলকার মায়ার পুরে,
ফোটে ফুল নিত্য যেথায় জীবনের ফুল্ল-শাখে।।
আধারের বাতায়নে চাহে আজ লক্ষ তারা,
জাগিছে বন্দিনীরা, টুটে ঐ বন্ধু কারা!
	থেকো না স্বর্গে ভু’লে
	এ পারের মর্ত্য-কূলে,
ভিড়ায়ো সোনার তরী আবার এই নদীর বাঁকে।।