কত সে-জনম কত সে-লোক

বাণী

কত সে-জনম কত সে-লোক পার হয়ে এলে, হে প্রিয় মোর।
নিভে গেছে কত তপন-চাঁদ তোমারে খুঁজিয়া, হে মন চোর।।
	কত গ্রহে, প্রিয়, কত তারায়
	তোমারে খুঁজিয়া ফিরেছি, হায়!
চাহ এ নয়নে হেরিবে তায়, সে-দূর স্মৃতির স্বপন-ঘোর।।
	আজো অপূর্ণ কত সে-সাধ
	অভিমানী তাহে সেধো না বাদ!
না মিটিতে সাধ, স্বপন-চাঁদ, মিলনের নিশি ক’রো না ভোর।।

বিদায় সন্ধ্যা আসিল ওই

বাণী

বিদায়–সন্ধ্যা আসিল ওই ঘনায় নয়নে অন্ধকার।
হে প্রিয়, আমার, যাত্রা–পথ অশ্রু–পিছল ক’রোনা আর।।
		এসেছিনু ভেসে স্রোতের, ফুল
		তুমি কেন প্রিয় করিলে ভুল
তুলিয়া খোঁপায় পরিয়া তা’য় ফেলে দিলে হায় স্রোতে আবার।।
		হেথা কেহ কারো বোঝে না মন
		যারে চাই হেলা হানে সে’ জন
যারে পাই সে না হয় আপন হেথা নাই হৃদি ভালোবাসার।
		তুমি বুঝিবেনা কি অভিমান
		মিলনের মালা করিল ম্লান
উড়ে যাই মোর, দূর বিমান সেথা গা’ব গান আশে তোমার।।

যত নাহি পাই দেবতা তোমায়

বাণী

যত নাহি পাই দেবতা তোমায় , তত কাঁদি আর পূঁজি।
ত্ই লুকাও ধরা নাহি দাও, ততই তোমারে খুঁজি
কত সে রূপের রঙের মায়ায়, আড়াল করিয়া রাখ আপনায়
তবু তব পানে অশান্ত মন কেন ধায় নাহি বুঝি।।
কাঁদালে যদি গো এমন করিয়া কেন প্রেম দিলে তবে
অন্তবিহীন এ লুকোচুরির শেষ হবে নাথ কবে?
সহে না হে নাথ বৃথা আসা যাওয়া-
জনমে জনমে এই পথ চাওয়া
কাঁদিয়া কাঁদিয়া ফুরায়ে গেল চোখের জলের পুঁজি।।

এমনি মধুর ক্ষণে প্রিয়তম নাহি

বাণী

এমনি মধুর ক্ষণে প্রিয়তম নাহি পাশে।
আকুল পরান মম চম্পা-ফুল-সুবাসে।।
উতলা সমীরে বাজে ব্যাকুল বাঁশি
কাননে উছলি’ পড়ে সুরের রাশি,
আলোকে সুরভি তারি গগন ভরিয়া হাসে।।
বাতায়নে মোর নিশীথের তারা সুধায় নীরবে ডাকি,
‘হায় গো উদাসী এমন নিশায় সজল কেন গো আঁখি।’
	সুদূরে রহিল বঁধু একেলা আমি
	অসহ বিরহ সহি দিবসযামী,
আশার মালিকা রচি’, বসিয়া তাহারি আশে।।

তুমি শুনিতে চেয়ো না আমার মনের কথা

বাণী

তুমি	শুনিতে চেয়ো না আমার মনের কথা
	দখিনা বাতাস ইঙ্গিতে বোঝে
			কহে যাহা বনলতা।।
	চুপ ক'রে চাঁদ সুদুর গগনে
	মহা-সাগরের ক্রন্দন শোনে,
	ভ্রমর কাদিঁয়া ভাঙিতে পারে না
			কুসুমের নীরবতা।।
	মনের কথা কি মুখে সব বলা যায়?
	রাতের আঁধারে যত তারা ফোটে
			আঁখি কি দেখিতে পায়?
	পাখায় পাখায় বাঁধা যবে রয়
	বিহগ-মিথুন কথা নাহি কয়,
	মধুকর যবে ফুলে মধু পায়
			রহে না চঞ্চলতা।।

গীতিচিত্রঃ ‌‘অতনুর দেশ’

গাগরী ভরণে চলে চপলা ব্রজনারী

বাণী

গাগরী ভরণে চলে চপলা ব্রজনারী
যৌবন-লাবনি অঙ্গে বিথারি’।
কাজল-কালো নয়ন গরল মাখানো বাণ,
চকিত চাহনি হানে চতুরা শিকারী।।
চঞ্চল-অঞ্চল উড়ায়ে সাঁজের বায়
আধো আলো আধো ছায়া লুকোচুরি খেলে যায়,
রাঙা তপন হেসে লুকায় লতার পাশে কাঁদে দরশ-ভিখারি।।