প্রথম প্রদীপ জ্বালো মম ভবনে হে আয়ুষ্মতী

বাণী

প্রথম প্রদীপ জ্বালো মম ভবনে হে আয়ুষ্মতী
আঁধার ঘিরে' আশার আলো আনুক তোমার গৃহের জ্যোতি।।
	হেরিয়া তোমার আঁখির আলোক
	বিষদিত সাঁঝ পুলকিত হোক,
যেন দূরে যায় সব দুখ শোক, তব শঙ্খরব শুনি', হে সতী।।
	কাঁকন পরা তব শুভ কর
	মুখর করুক এ নীরব ঘর
এ গৃহে আনুক বিধাতার বর তোমার মধুর প্রেম-আরতি।।

ওরে আজ ভারতের নব যাত্রা পথের

বাণী

ওরে	আজ ভারতের নব যাত্রা পথের
	বাঁশি বাজলো, বাজলো বাঁশি
	ফেলে তরুর ছায়া ভুলে ঘরের মায়া
	এলো তরুণ পথিক ছুটে রাশি রাশি॥
	তারা আকাশকে আজ চাহে লুটে নিতে
	তারা মন্থর ধরায় চাহে দুলিয়ে দিতে
	তারা তরুণ তরুণ প্রাণ জাগায় মৃতে
	সাহস জাগায় চিতে তাদের অট্টহাসি॥
	মোরা প্রাচীরের পরে রে প্রাচীর তুলে
	ভাই হয়ে ভাইকে হায় ছিলাম ভুলে।
	আজ ভেঙে প্রাচীর হল ঘরের বাহির
	একই অঙ্গনে দাঁড়ালো উন্নত শির
	এলো মুক্ত গগন তলে প্রাণ পিয়াসি
	এলো তরুণ পথিক ছুটে রাশি রাশি॥

মরম-কথা গেল সই মরমে ম’রে

বাণী

মরম-কথা গেল সই মরমে ম’রে।
শরম বারণ যেন করিল চরণ ধ’রে।।
ছল ক’রে কত শত সে মম রুধিত পথ
লাজ ভয়ে পলায়েছি সে ফিরেছে ব্যথাহত
অনাদরে প্রেম-কুসুম গিয়াছে ম’রে।।
কত যুগ মোর আশে ব’সে ছিল পথ-পাশে
কত কথা কত গান জানায়েছে ভালোবেসে
শেষে অভিমানে নিরাশে গিয়াছে স’রে।।

জাগো নারী জাগো বহ্নি-শিখা

বাণী

জাগো নারী জাগো বহ্নি-শিখা।
জাগো স্বাহা সীমন্তে রক্ত-টিকা।।
দিকে দিকে মেলি’ তব লেলিহান রসনা,
নেচে চল উন্মাদিনী দিগ্‌বসনা,
জাগো হতভাগিনী ধর্ষিতা নাগিনী,
বিশ্ব-দাহন তেজে জাগো দাহিকা।।
ধূ ধূ জ্ব’লে ওঠ ধূমায়িত অগ্নি,
জাগো মাতা, কন্যা, বধূ, জায়া, ভগ্নী!
পতিতোদ্ধারিণী স্বর্গ-স্খলিতা
জাহ্নবী সম বেগে জাগো পদ-দলিতা,
মেঘে আনো বালা বজ্রের জ্বালা
চির-বিজয়িনী জাগো জয়ন্তিকা।।

বরিষণ শেষে ডাকিয়া যূথীরে

বাণী

বরিষণ-শেষে ডাকিয়া যূথীরে কহিল মালতী-কলি — 
‘আমি দুলিব পিয়াল-কোলে পিয়া, পিয়া বলি’।।
	চাহিয়া বারেক রবিকরে
	তুমি বুঝিবে ধূলির ’পরে,
সৌরভ তব থরে থরে, তবু আসিবে না তব অলি।।
	সিক্ত বাতাসে চাঁদের আবেশে
	শ্বেত পুষ্পের স্নিগ্ধ সুবাসে,
প্রেম ও প্রীতির সুরভি-আকাশে — যূথী-দল প’ড়ে ঢলি’।।
বিদায়-বেলায় যূথিকা কহিল — বিলাতে আমি
			আসিনু ধরায় নামি’,
প্রেমের মিলন-বাসরে, আমারে যেয়ো গো দলি’।।

আজি জ্যোৎস্না বিজড়িত ফাল্গুনী

বাণী

উভয়ে	:	আজি জ্যোৎস্না বিজড়িত ফাল্গুনী রাতে।
		ল’য়ে মঞ্জুল-মল্লিকা মালিকা হাতে।।
		আজি এসেছি মোরা এসেছি
		দোঁহে মিলেছি বাহুপাশে হিন্দোলাতে।।
শ্যাম	:	আজি বিকশিত উন্মুখ চিত্ত
রাধা	:	দিছি পদতলে ঢালি সব বিত্ত
		দিছি তনুমন যৌবন রিক্ত আজি হে
শ্যাম	:	ঊষর প্রাণের এ চির-পিপাসা কর গো তারে সিক্ত
		আজি মিলন প্রেম-বারি পাতে।।
রাধা	:	থর কম্পিত হিয়া-পরে বাঞ্ছিত এসো গো
শ্যাম	:	মম স্পন্দিত বাহুপাশে নন্দিতা এসো গো
রাধা	:	আন অন্তরে নিবিড় চেতনা
		হর মন্তরে এ চির বেদনা
শ্যাম	:	এসো মালতী বল্লরি বিতানে
		এসো মিলন-পুলকিত প্রাণে
		চির উৎসুক বিরহ অবসানে
		নবপ্রেমে আজি প্রাণ মাতে।।