বন-দেবী এসো গহন-বন-ছায়ে

বাণী

পুরুষ	: বন-দেবী এসো গহন-বন-ছায়ে।
স্ত্রী	: এসো বসন্তের রাজা নূপুর-মুখর পায়ে।।
পুরুষ	: তুমি কুসুম-ফাঁদ
স্ত্রী	: তুমি মাধবী চাঁদ,
উভয়ে	: আমরা আবেশ ফাল্গুনের ভাসিয়া চলি স্বপন-নায়ে।।
পুরুষ	: কল্প-লোকের তুমি রূপবাণী লো প্রিয়া,
	  অপাঙ্গে ফোটাও যুঁই চম্পা টগর মোতিয়া।
স্ত্রী	: নিষ্ঠুর পরশ তব (হায়) যাচিয়া জাগে বনভূমি
	  ফুলদল পড়ে ঝরি’ তব চারু পদ চুমি’,
উভয়ে	: সুন্দরের পথ সাজাই ঝরা-কুসুম-দল বিছায়ে।।

এলো ফুলের মহলে ভ্রমরা

বাণী

এলো ফুলের মহলে ভ্রমরা গুন্‌গুনিয়ে।
ও-সে কুঁড়ির কানে কানে কি কথা যায় শুনিয়ে।।
জামের ডালে কোকিল কোতুহলে
আড়ি পাতি’ ডাকে কূ কূ ব’লে,
হাওয়ায় ঝরা পাতার নূপুর বাজে রুন্‌ঝুনিয়ে।।
‘ধীরে সখা ধীরে’ কয় লতা দু’লে,
জাগিও না কুঁড়িয়ে কাঁচা ঘুমে তুলে,
গেয়ো না গুন্ গুন্ গুন্ গুন্ গুন্ গুন্ সুরে প্রেমে ঢুলে ঢুলে।’
নিলাজ ভোম্‌রা বলে, ‘না-না-না-না’, ফুল দুলিয়ে।।

মেঘ মেদুর বরষায় কোথা তুমি

বাণী

মেঘ মেদুর বরষায় কোথা তুমি
ফুল ছাড়ায়ে কাঁদে বনভূমি।।
ঝুরে বারিধারা
ফিরে এসো পথহারা
কাঁদে নদী তট চুমি’।।

মাতৃ নামের হোমের শিখা

বাণী

মাতৃ নামের হোমের শিখা আমার বুকে কে জ্বালালো
সেই শিখা আজ হরবে যেন মা ত্রিজগতের আঁধার কালো।।
	আজ মনে হয় দিবস যামী
	অমৃতেরই পুত্র আমি মা
আনন্দময় হল ত্রিলোক যেদিকে চাই কেবল আলো।।
সূর্য যেমন জানে না, তার আলোয় কত জগৎ জাগে,
বিকার-বিহীন তেমনি আমি, জ্বলি নামের অনুরাগে।
	হয়তো আমার আলো লেগে
	নতুন সৃষ্টি উঠবে জেগে,
তাই কি বিপুল আকর্ষণে সবারে চাই বাস্‌তে ভালো।।

এ কোথায় আসিলে হায়

বাণী

এ কোথায় আসিলে হায়, তৃষিত ভিখারি।
হায়, পথ-ভোলা পথিক, হায়, মৃগ মরুচারী।।
	মোর ব্যথায় চরণ ফেলে
	চির-দেবতা কি এলে,
হায়, শুকায়েছে যবে মোর নয়নে নয়ন-বারি।।
তোমার আসার পথে প্রিয় ছিলাম যবে পরান পাতি’,
সেদিন যদি আসিতে নাথ হইতে ব্যথার ব্যথী।
ধোওয়ায়ে নয়ন-জলে পা মুছাতাম আকুল কেশে
আজ কেন দিন-শেষে এলে নাথ মলিন বেশে!
হায়, বুকে ল’য়ে ব্যথা আসিলে ব্যথা-হারী।।
স্মৃতির যে শুকানো মালা যতনে রেখেছি তুলি’
ছুঁয়ে সে হার ঝরায়ো না ম্লান তার কুসুমগুলি,
হায়, জ্বলুক বুকে চিতা, তা’য় ঢেলো না আর বারি।।

দ্বীনের নবীজি শোনায় একাকী

বাণী

দ্বীনের নবীজি শোনায় একাকী কোরানের মধু-বাণী।
আয়েশা খাতুন শোনেন বসিয়া, নয়নে ঝরিছে পানি।।
	বে-দ্বীন দিওয়ানা হ’য়ে
	কাঁদে যে কোরান ল’য়ে,
বিশ্ববাসী আনিল ঈমান যে পাক কোরান মানি’।।
চন্দ্র-তারকা-গ্রহ আদি ঐ তরুলতা মরু-বায়,
কোরানের সেই আয়াত শুনিয়া লুটায় নবীর পায়।
	কোরানে জাগাও ওরে
	জ্ঞান-গরিমায় মোরে,
মরিতে আমায় দিও গো ল’য়ে বক্ষে কোরানখানি।