প্রিয় কোথায় তুমি কোন গহনে

বাণী

প্রিয় কোথায় তুমি কোন গহনে
কোন ধ্রুবলোকে কোন দূর গগনে।।
খোঁজে কানন তোমায় মেলি' কুসুম-আঁখি,
'তুমি কোথায়' বলি' ডাকে বনের পাখি।
আছ ঠকুর হয়ে কোন দেবালয়ে
কোন শ্রাবন-মেঘে দখিনা পবনে।।
সিন্ধু-বুকে মুখে লুকায়ে নদী
'তুমি কোথায়' বলি' কাঁদে নিরবধি।
	জ্বালি' তারার বাতি
	খোঁজে আঁধার রাতি,
তোমায় খুঁজিয়া নিভিল জ্যোতি মোর নয়নে।।

ঝরে বারি গগনে ঝুরু ঝুরু

বাণী

ঝরে বারি গগনে ঝুরু ঝুরু।
জাগি একা ভয়ে নিদ্‌ নাহি আসে,
ভীরু হিয়া কাঁপে দুরু দুরু।।
দামিনী ঝলকে, ঝনকে ঘোর পবন
ঝরে ঝর ঝর নীল ঘন।
রহি’ রহি’ দূরে কে যেন কৃষ্ণা মেয়ে
মেঘ পানে ঘন হানে ভুরু।।
অতল তিমিরে বাদলের বায়ে
জীর্ণ কুটীরে জাগি দীপ নিভায়ে,
দূরে দেয়া ডাকে গুরু গুরু।।

শূন্য আজি গুল-বাগিচা যায় কেঁদে দখিন হাওয়া

বাণী

শূন্য আজি গুল-বাগিচা যায় কেঁদে দখিন হাওয়া।
রাঙা গুলের বাজার আজি স্মৃতির কাটায় ছাওয়া।।
ধূলি ঢাকা ফুল সমাধি আজি সে গুলিস্তানে
ছিল যথায় খুশির জলসা বুলবুলির গজল গাওয়া।।
শুকনো পাতায় ছেয়েছে আজ সাকির চরণ রেখা
নাহি সেথায় বঁধুর লাগি বঁধূর আসা-যাওয়া।।
নাহি মিঠা পানির নহর আছে প'ড়ে বালুচর
এ যেন গো হৃদয়ের ভরা-ডুবির পথ বাওয়া।।

রাধা-তুলসী প্রেম-পিয়াসি গোলকবাসী শ্রীকৃষ্ণ নারায়ণ

বাণী

রাধা-তুলসী, প্রেম-পিয়াসি, গোলকবাসী শ্রীকৃষ্ণ নারায়ণ।
নাম জপ মুখে, মূরতি রাখ বুকে ধ্যান দেখ তারি রপ মোহন।।
	অমৃত রসঘন কিশোর-সুন্দর,
	নব নীরদ শ্যাম মদন মনোহর —
সৃষ্টি প্রলয় যুগল নূপুর শোভিত যাহার রাঙা চরণ।।
	মগ্ন সদা যিনি লীলারসে,
	যে লীলা-রস ভরা গোপী-কলসে,
কান্না-হাসির আলো-ছায়ার মায়ায় যাহার মোহিত ভূবন।।

দে জাকাত দে জাকাত তোরা

বাণী

	দে জাকাত, দে জাকাত, তোরা দে রে জাকাত।
	তোর দিল্‌ খুলবে পরে ওরে আগে খুলুক হাত।।
	দেখ পাক্‌ কোরআন শোন্‌ নবীজীর ফরমান
	ভোগের তরে আসেনি দুনিয়ায় মুসলমান।
তোর	একার তরে দেননি খোদা দৌলতের খেলাত।।
তোর	দর্‌ দালানে কাঁদে ভুখা হাজারো মুসলিম
আছে	দৌলতে তোর তাদেরও ভাগ, বলেছেন রহিম।
	বলেছেন রহমানুর রহিম, বলেছেন রসুলে করিম।
	সঞ্চয়ে তোর সফল হবে পাবি রে নাজাত।।
	এই দৌলত বিভব রতন যাবে না তোর সাথে
	হয়তো চেরাগ জ্বলবে না তোর গোরে শবেরাতে।
	এই জাকাতের বদলাতে পাবি বেহেশ্‌তী সওগাত।।

কদম কেশর পড়ল ঝরি

বাণী

কদম কেশর পড়ল ঝরি তখন তুমি এলে।
বাদল মেঘে গগন ঘেরি ঝড়ের কেতন মেলে।।
	ঝরিয়ে বন-কেয়ার রেণু
	বজ্ররবে বাজিয়ে বেণু,
বৃষ্টি ভেজা দুর্বা দ’লে অরুণ-চরণ ফেলে।।
নদীর দু’কূল ভাঙল যবে অধীর স্রোতের জলে,
তখন দেখি হে অশান্ত তোমার তরী চলে।
	যূথীর নীরব অশ্রু ঝরে
	শ্যামল তোমার চরণ ’পরে,
আকাশ চাহে তোমার পথে তড়িৎ প্রদীপ জ্বেলে।।