তোমার সৃষ্টি মাঝে হরি হেরিতে

বাণী

তোমার সৃষ্টি মাঝে হরি হেরিতে যে নিতি পাই তোমায়।
তোমার রূপের আবছায়া ভাসে গগনে, সাগরে, তরুলতায়॥
চন্দ্রে তোমার মধুর হাসি, সূর্যে তোমার জ্যোতি প্রকাশ;
করুণা সিন্ধু তব আভাস বারি-বিন্দুতে হিমকণায়॥
ফোটা ফুলে হরি, তোমার তনুর গোপী-চন্দন গন্ধ পাই,
হাওয়ায় তোমার স্নেহের পরশ অন্নে তোমার প্রসাদ খাই।
রাসবিহারী তোমার রূপ গোলে, দুঃখ শোকের হিন্দোলে,
তুমি, ঠাঁই দাও যবে ধর কোলে মোর বন্ধু স্বজন কেঁদে ভাসায়॥

ফুটলো সন্ধ্যামণির ফুল আমার মনের আঙিনায়

বাণী

ফুটলো সন্ধ্যামণির ফুল আমার মনের আঙিনায়
ফুল-ফোটাতে কে এলে ফুল ঝরানো সাঁঝ-বেলায়।।
	আজ কি মোর দিনের শেষে
	উঠলো চাঁদ মধুর হেসে'
কৃষ্ণা তিথির তৃষ্ণা মোর মিটলো ওই জোছনায়।।
আজ যে আঁখি অশ্রুহীন কি দিয়ে ধোয়াই চরণ'
সুন্দর বরের বেশে এলে কি আমার মরণ'!
	দেখ বসন্তের পাখি
	কোয়েলা গেছে ডাকি
আনন্দের দূত তুমি ডাকিয়া ফুল ফোটায়।।

মনে পড়ে আজ সে কোন্‌ জনমে

বাণী

মনে পড়ে আজ সে কোন জনমে বিদায় সন্ধ্যাবেলা –
আমি দাঁড়ায়ে রহিনু এপারে তুমি ওপারে ভাসালে ভেলা।।
সেই সে বিদায় ক্ষণে
শপথ করিলে বন্ধু আমার, রাখিবে আমারে মনে,
ফিরিয়া আসিবে খেলিবে আবার সেই পুরাতন খেলা।।
আজো আসিলে না হায়,
মোর অশ্রুর লিপি বনের বিহগী দিকে দিকে লয়ে যায়,
তোমারে খুঁজে না পায়।
মোর গানের পাপিয়া ঝুরে
গহন কাননে তব নাম লয়ে আজো পিয়া পিয়া সুরে;
গান থেমে যায়, হায় ফিরে আসে পাখী বুকে বিঁধে অবহেলা।।

শ্যামের সাথে চল সখি খেলি সবে হোরি

বাণী

শ্যামের সাথে চল সখি খেলি সবে হোরি।
রঙ নে, রঙ দে, মদির আনন্দে, আয় লো বৃন্দাবনী গোরী।।
আয় চপল যৌবন-মদে মাতি অল্প-বয়সী কিশোরী।।
রঙ্গিলা গালে তাম্বুল-রাঙা ঠোঁটে হিঙ্গুল রঙ লহ ভরি;
ভুরু-ভঙ্গিমা সাথে রঙ্গিম হাসি পড়ুক মুহু মুহু ঝরি’।।
আগুন-রাঙা ফুলে ফাগুন লাগে লাল,
কৃষ্ণচূড়ার পাশে অশোক গালে-গাল।
আকুল করে ডাকি’ বকুল বনের পাখি,
যমুনার জল লাল হ’ল আজ আবির, ফাগের রঙে ভরি।।

১. শ্যাম অঙ্গ আজি রঙে রঙে রাঙা হয়ে কি শোভা ধরেছে মরি! মরি!

মোর প্রথম মনের মুকুল

বাণী

মোর	প্রথম মনের মুকুল
	ঝরে গেল হায় মনে মিলনের ক্ষণে।
	কপোতীর মিনতি কপোত শুনিল না,
			উড়ে গেল গহন-বনে।।
	দক্ষিণ সমীরণ কুসুম ফোটায় গো
	আমারি কাননে ফুল কেন ঝরে যায় গো
	জ্বলিল প্রদীপ সকলেরি ঘরে হায়
	নিভে গেল মোর দীপ গোধূলি লগনে।।
	বিফল অভিমানে কাঁদে ফুলমালা কণ্ঠ জড়ায়ে
	কাঁদি ধূলি-পথে একা ছিন্ন-লতার প্রায় লুটায়ে লুটায়ে।
	দারুণ তিয়াসে এসে সাগর-মুখে
	ঢলিয়া পড়িনু হায় বালুকারি বুকে
	ধোঁয়ারে মেঘ ভাবি’ ভুলিনু চাতকী
			জ্বলিয়া মরি গো বিরহ-দহনে।।

তুমি সুন্দর কপট হে নাথ

বাণী

তুমি সুন্দর কপট হে নাথ! মায়াতে রাখ বিভোর।
তোমার ছলনা যে বোঝে না নাথ সেই সে দুঃখী ঘোর।।
	কত শত রূপে নিঠুর আঘাতে
	তুমি চাও নাথ তোমারে ভোলাতে
তবু যে তোমারে ভুলিতে পারে না ধরা দাও তারে চোর।।
কাঁদাও তাহারে নিশিদিন তুমি যপে যে তোমার নাম
তোমারে যে চাহে শত বন্ধনে বাঁধ তারে অবিরাম।
	সাগরে মিশাতে চায় বলে নদী
	জনম গোঁয়ায় কেঁদে নিরবধি
ভক্তে তেমনি দিয়াছ যে নাথ অসীম আঁখি - লোর।।