তোর বিদায়-বেলার বন্ধুরে

বাণী

তোর বিদায়-বেলার বন্ধুরে দেখে নে নয়ন পুরে’।
সে যায় মিশে’ ঐ কোন্ দূরে দিন শেষের’ — শেষ সুরে।।
	ঘুমের মাঝে বন্ধু তোর
	ছিঁড়বে বাহুর বাঁধন-ডোর,
যাবে নয়ন, রবে নয়ন-লো — যায় রে বিহগ যায় উড়ে।।
	(তুই) বহাবি নদী কেঁদে
	পাষাণে হৃদয় বেঁধে,
তবু যেতে হবে তায় অসহায় অচিন্ পুরে।।

নাটক : ‘সাবিত্রী’

আমি হেরে এবার নেবো লো

বাণী

ঘুমপরী	:	আমি হেরে এবার নেবো লো সই বঁধুর গলার হার।
স্বপনপরী	:	হার মেনে তুই জিত্‌বি ওলো হবে না তা আর।।

নাটক : ‘মধুমালা’

তোমারি আশায় সব সুখ ছাড়িনু

বাণী

তোমারি আশায় সব সুখ ছাড়িনু
আর কেন রাখ প্রভু দূরে।
তুমি ছেড়ো না মোরে মোর গিরিধারী
বাঁধো মোরে চরণ-নূপুরে।।
বিরহ বেদনা মোর জ্বলে হৃদিকন্দরে
মুছাইয়া দাও আঁখিলোর।
তব চিত্তে মিলায় আজি চিত্ত হে মম
অঙ্গে মিলাও তব অঙ্গ পীতম।
জনমে জনমে মীরা তোমারি দাসী
হৃদি-বৃন্দাবনে নিতি ঝুরে।।

বঁধু আমি ছিনু বুঝি বৃন্দাবনের

বাণী

বঁধু	আমি ছিনু বুঝি বৃন্দাবনের রাধিকার আঁখি-জলে।
	বাদল সাঁঝের যুঁই ফুল হয়ে আসিয়াছি ধরাতলে।।
তাই	যেমনি মিলন সাধ ওঠে জেগে
তুমি	লুকাও হে চাঁদ বিরহের মেঘে,
আমি	পূবালী পবনে ঝরে যাই বনে দলগুলি যেই খোলে।।
বঁধু	এই বুঝি হায় নিয়তির লেখা মিলন আমার নহে —
	ক্ষনিকের শুভ-দৃষ্টি লভিয়া কাঁদিব পরম বিরহে।
			বুঝি মিলন আমার নহে —
		আসিব না আমি মাধবী নিশীথে
		বরষায় শুধু আসিব ঝুরিতে,
	অসহায় ধারা-স্রোতে ভেসে যাব, মালা হব নাকো গলে।।

বন-হরিণীরে তব বাঁকা আঁখির

বাণী

	বন-হরিণীরে তব বাঁকা আঁখির।
	ওগো শিকারী, মেরো না তীর।।
	ভীরু-হিরণী বনের ছায়ায়,
	(চপলা) খেলে বেড়ায় সে অধীর।
তার	সুখ-হাসি-সাধ ল’য়ে হে নিষাদ
		দিও না নয়নে নীর।।
	আজো বোঝে না সে বাঁকা-চোখের ভাষা,
	পিয়ার লাগি’ জাগেনি পিয়াসা।
	সরল চোখে তার প্রেমের লালী
	(নয়নে) ফোটেনি আবেশ মদির।
তার	আয়নার প্রায় স্বচ্ছ হিয়ায়
		আঁকিও না হায়, দাগ গভীর।।

আল্লাহ রসুল বোল রে মন আল্লাহ রসুল বোল

বাণী

		আল্লাহ রসুল বোল রে মন আল্লাহ রসুল বোল।
		দিনে দিনে দিন গেল তোর দুনিয়াদারি ভোল।।
রোজ		কেয়ামতের নিয়ামত এই আল্লাহ-রসুল বাণী
তোর		আখেরের ভুখের খোরাক পিয়াসের ঐ পানি
তোর		দিল দরিয়ায় আল্লাহ-রসুল জপের লহর তোল।।
তোর		স্ত্রী-পুত্র ভাই-বেরাদর কেউ হবে না সাথি
   		আঁধার গোরে রইবি প’ড়ে জ্বালবে না কেউ বাতি।
যে		নামে হেসে পার হবি তুই পুল-সেরাতের পোল।।
(ওরে)		হাড়-ভাঙা খাটুনি খেটে ঘুরে ঘুরে পথে
		আনিস যা তুই লাগবে না তা তোর কাজে আকবতে।
যে		যে নাম জ’পে পাবি রে তুই মোস্তফারই কোল।।