আমি কালি যদি পেতাম কালী

বাণী

আমি		কালি যদি পেতাম কালী রইত না এ মনে কালি।
মোর		সাদা মনের পদ্মপাতায় লিখ্তাম তোর শ্রীনাম খালি।।
		(মা)	কালী পেলে সকল কালো
			এই নিমিষে হ’ত আলো,
(মা)		কালো পাতার কোলে যেমন ফুটে থাকে ফুলের ডালি।।
(তোর)		কালো রূপের নীল যমুনা বইত যদি মনের মাঝে,
(শ্যামা!)		দেখ্‌তে পেত এই ত্রিভুবন, কোথায় শ্যামের বেণু বাজে।
		তোর কালো রূপের কৃষ্ণ আকাশ পেলে,
(আমি)		ময়ূর হয়ে নাচতাম মা তারার পেখম মেলে।
		দুঃখে কালো কপালে মোর হাস্‌ত শিশু-চাঁদের ফালি।।

ধূলি-পিঙ্গল জটাজুট মেলে

বাণী

	ধূলি-পিঙ্গল জটাজুট মেলে।
	আমার প্রলয় সুন্দর এলে॥
	পথে-পথে ঝরা কুসুম ছাড়ায়ে
	রিক্ত শাখায় কিশলয় জড়ায়ে,
	গৈরিক উত্তরী গগনে উড়ায়ে —
	রুদ্ধ ভবনের দুয়ার ঠেলে॥
	বৈশাখী পূর্ণিমা চাঁদের তিলক
		তোমারে পরাব,
মোর 	অঞ্চল দিয়া তব জটা নিঙাড়িয়া
		সুরধুনী ঝরাব।
	যে-মালা নিলে না আমার ফাগুনে
	জ্বালা তারে তব রূপের আগুনে,
	মরণ দিয়া তব চরণ জড়াব
	হে মোর উদাসীন, যেয়ো না ফেলে॥

যবে আঁখিতে আঁখিতে ওরা কহে কথা

বাণী

(যবে) আঁখিতে আঁখিতে ওরা কহে কথা দু’টি বনের পাখি।
শুধু শিরাজি ঢালি, আমি চোখের বালি আমি পাষাণ সাকি।।
রিক্ত ওদের হৃদয় পেয়ালায় আমি অমৃত ঢালি
আমারই অন্তর শুধু পাইল না প্রেম-মধু রহিল খালি,
আমি রহি আভরণ-হীনা বাঁধি’ ওদের হাতে প্রেমের রাখি।।
আমি হাসিয়া রচি যার কুঞ্জ-বাসর দুয়ারে দাঁড়ায়ে তারি’ জাগি রাতি,
আমি শিয়রে রহি’ হায় নিজেরে দহি যেন মোমের বাতি।
আমি গাঁথিয়া মালা, দিই সখির হাতে
দেখি কে দেয় কার মালা কার গলাতে,
শিরাজি ঢালিতে হায় পিয়ালা ভাঙিয়া যায় —
নিরালায় বন্ধুর মিলন-ছবি আমি হৃদয়ে আঁকি।।

এসো কল্যাণী চির-আয়ুষ্মতী

বাণী

এসো কল্যাণী চির-আয়ুষ্মতী।
তব নির্মল করে ভবন-প্রদীপ জ্বালো জ্বালো জ্বালো সতী।।
মঙ্গল-শঙ্খ বাজাও বাজাও সুমঙ্গলা
সকল অকল্যাণ সকল অমঙ্গল কর দূর (শুভ) সমুজ্জ্বলা!
এ মাটির কুটিরে দূর আকাশের অরুন্ধতী।।
এসো লক্ষ্মী গৃহের আঁকো অঙ্গনে মঙ্গল আল্‌পনা
তব পুণ্য-পরশ দিয়ে ধূলি-মুঠিরে কর গো সোনা,
তুমি দেবতার শুভ বর মূর্তিমতী।।
স্নান-শুদ্ধা তুমি পূজা-দেউলে যবে কর আরতি,
আনত আকাশ যেন তব চরণে করে প্রণতি।
	তব কুণ্ঠিত গুণ্ঠন-তলে
	চির শান্তির ধ্রবতারা জ্বলে,
সংসার অরণ্যে ধ্যান-মগ্না তুমি তপতী।।

কোকিল সাধিলি কি বাদ

বাণী

কোকিল, সাধিলি কি বাদ।
নিশি অবসান হল না মিটিতে সাধ।।
	মিলনের মোহ কেন
	ডাকিয়া ভাঙিলি হেন,
তুই রে সতিনী যেন — চন্দ্রাবলীর ফাঁদ।।
	সারা নিশি অভিমানে
	চাহিনি শ্যামের পানে,
জেগে দেখি কুহু-তানে — নাহি শ্যামচাঁদ।।
	ননদিনী কুটিলা কি
	পাঠায়েছে তোরে পাখি,
সুরের বাসরে ডাকি’ — আনিলি বিষাদ।।

ভাঙা মন (আর) জোড়া নাহি যায়

বাণী

ভাঙা মন (আর) জোড়া নাহি যায়
ওগো ঝরা ফুল আর ফেরে না শাখায়।।
	শীতের হাওয়ায় তুষার হয়ে
	গলি' খরতাপে বারি যায় ব'য়ে
গলে নাক' আর হৃদয়-তুষার এ উষ্ণ ছোঁওয়ায় ।।
	গাঁথি' ফুলমালা নাহি দিয়া গলে
	শুকালে নিঠুর তব মুঠি-তলে,
হাসিবে না সে ফুল শত আঁখি-জলে আর সে শোভায়।
	স্রোতের সলিলে
	যে বাঁধ বাঁধিলে
ভাঙিয়ে সে বাঁধ তোমারে ভাসায়।।