মরুর ধুলি উঠলো রেঙে রঙিন গোলাপ রাগে

বাণী

মরুর ধুলি উঠলো রেঙে রঙিন গোলাপ রাগে
বুলবুলিরা উঠলো গেয়ে মক্কার গুলবাগে।।
	খোদার প্রেমের কোন দিওয়ানা
	দ্বারে দ্বারে দেয় রে হানা,
নবীন আশার আলোক পেয়ে, ঘুমন্ত সব জাগে।।
এ কোন তরণ প্রেমিক এলো কা'বার অঙ্গনে
সবুজ পাতার নিশান দোলায় শুকনো খেজুর বনে।
	এলো নব দীনের নকীব
	চির-চাওয়া খোদার হাবীব
নিখিল পাপী-তাপী যাঁহার পায়ের পরশ মাগে।।

রিমি ঝিম্ রিমি ঝিম্ ঐ নামিল দেয়া

বাণী

রিমি 		ঝিম্ রিমি ঝিম্ ঐ নামিল দেয়া।
শুনি’		শিহরে কদম, বিদরে কেয়া।।
			ঝিলে শাপলা কমল
			ওই মলিল দল,
		মেঘ-অন্ধ গগন, বন্ধ খেয়া।।
		বারি-ধারে কাঁদে চারিধার
		ঘরে ঘরে রুদ্ধ দুয়ার,
		তেপান্তরে নাচে একা আলেয়া।।
কাঁদে 	চখাচখি, কাঁদে বনে কেকা
		দীপ নিভায়ে কাঁদি আমি একা,
আজ 	মনে পড়ে সেই মন দেয়া-নেয়া।।

আমার যখন পথ ফুরাবে

বাণী

আমার যখন পথ ফুরাবে, আসবে গহীন রাতি (খোদা) —
তখন তুমি হাত ধ'রো মোর হয়ো পথের সাথী (খোদা)।। 
অনেক কথা হয়নি বলা, বলার সময় দিও, খোদা —
আমার তিমির অন্ধ চোখে দৃষ্টি দিও প্রিয়, খোদা
বিরাজ করো বুকে তোমার আরশটিকে পাতি'।।
সারা জীবন কাটলো আমার বিরহে বঁধু,
পিপাসিত কন্ঠে এসে দিও মিলন-মধু।
তুমি যথায় থাকো প্রিয় সেথায় যেন যাই, খোদা
সখা ব'লে ডেকো আমায়, দীদার যেন পাই, খোদা।
সারা জনম দুঃখ পেলাম, যেন এবার সুখে মাতি।।

ভাল লাগার স্মৃতি ভোলা নাহি যায়

বাণী

	ভাল লাগার স্মৃতি ভোলা নাহি যায়।
তাই	বারে বারে আসি ফিরে তব আঙিনায়।।
	আজো ওঠে বাঁকা চাঁদ নীল গগনে
	আজো ফোটে রাঙা ফুল মম কাননে,
	‘পিয়া পিয়া’ গাহে পাখি পিয়াল শাখায়।।
	যে আলো বাজালে বেণু রঙীন ঊষায়,
	তাহারি পুলকে আজি পরান মাতায়।
	মরুর কামনা আজো দীপ-শিখা সম
	পরানে লাগে জাগিয়া আছে ওগো প্রিয়তম,
	অনুরাগে লাগে দোল, দোল দেহ-যমুনায়।।

গ্রামের শেষের মাঠের পথে

বাণী

গ্রামের শেষের মাঠের পথে গান গেয়ে কে যায়
			একা বাউল আনমনা।
তার সুরে সবুজ ধানের ক্ষেত্রে ঢেউ খেলিয়া যায়
			গায় সাথে চপল-ঝরনা।।
	চলে নূপুর মুখর পায়
	সুর বাজিয়ে একতারায়,
তাথৈ তাথৈ হাততালি দেয় সাথে তালবনা।।
শান্ত নদীর কূলে হঠাৎ জোয়ার উঠে দুলে,
বালুচরে চম্‌কে চখা চাহে নয়ন তুলে’।
	ওঠে রেঙে আকাশ কোল্
	লাগে শাখায় শাখায় দোল্ লাগে দোল্,
মনের মাঝে এঁকে সে যায় সুরের আল্‌পনা।।

তব চঞ্চল আঁখি কেন ছলছল হে

বাণী

তব	চঞ্চল আঁখি কেন ছলছল হে।
	হেরি মোরা অবিরল জলে ভাসে কমল
	হেরি আজি কমলে উথলে জল হে।।
	চিরদিন কাঁদায়েছে যে জল নিঠুর
আজি	অশ্রু করেছে তারে একি সুমধুর
বঁধু	সাধ যায় ধরি তব সমুখে মুকুর
যেন	বরষিছে চাঁদ মুকুতাদল হে।
কোন	অকরুণা ভাঙিল হে পাষাণের বাঁধ
তব	কলঙ্ক লেখা গেল ধুয়ে যে হে চাঁদ।
	কাঁদ কাঁদ হে বঁধু তবে বুঝিবে মনে
কত	বেদনা পেলে জল ঝরে নয়নে
আজি	কাঁদিয়া শ্যামল হ'লে নির্মল হে।।