বলেছিলে তুমি ভালোবাস মোরে

বাণী

বলেছিলে তুমি ভালোবাস মোরে, মোর হাতখানি ধ’রে।
সেই দুটি কথা ভুলিতে পারি না, নিশিদিন মনে পড়ে।।
		সেই কথা যবে মনে জাগে
		সারা দেহে শিহরণ লাগে,
মোর হৃদয়ের পুষ্পাঞ্জলি অশ্রু হইয়া ঝরে।।
পথ চেয়ে থাকি’ মনে মনে ডাকি, তেমনি সন্ধ্যা হল,
সেদিন যে কথা বলেছিলে বঁধু, আবার সে কথা বল।
	প্রিয়	সেদিনের মত এসে
	মোর	হাত ধর ভালোবেসে,
হের ছিন্নলতার মত সেই হাত প’ড়ে আছে অনাদরে।।

অন্ধকারে দেখাও আলো কৃষ্ণ

বাণী

অন্ধকারে দেখাও আলো কৃষ্ণ নয়ন-তারা।
কালো মেঘে অন্ধ-আকাশ পথিক পথ-হারা।।
	ভক্ত কাঁদে অকূল ভবে,
	গোকূলে তায় ডাকবে কবে।
অশান্ত এ চিত্তে হরি বহাও শান্তি-ধারা।।

নিশি-পবন নিশি-পবন

বাণী

নিশি-পবন! নিশি-পবন! ফুলের দেশে যাও
ফুলের বনে ঘুমায় কন্যা তাহারে জাগাও — যাও যাও যাও।।
মৌ-টুস্‌টুস্‌ মুখখানি তার ঢেউ-খেলানো চুল
(ওরে) ভোমরার ঝাঁক-ঘেরা যেন ভোরের পদ্ম-ফুল
হাসিতে তার মাঠের সরল বাঁশির আভাস পাও
				যাও যাও যাও।।
চাঁপা ফুলের পুত্‌লি-ঘেরা চাঁপা রঙের শাড়ি
তারেই দেখতে আকাশ-গাঙে (ওরে) চাঁদ দেয় রে পাড়ি।
তার একটুখানি চোখের আদল বাদল-মেঘে পাও।
				যাও যাও যাও।।
	ধীরে ধীরে জাগাইয়ো তায়
	ঝরা-কুসুম ফেলিয়া গায়
জাগলে কন্যা যেন রে মোর পত্রখানি দাও —
				যাও যাও যাও।।

জয় নারায়ণ অনন্ত রূপধারী বিশাল

বাণী

জয় নারায়ণ অনন্ত রূপধারী বিশাল।
কভু প্রশান্ত উদার, কভু কৃতান্ত করাল॥
	কভু পার্থ-সারথি-হরি
	বংশীধারী কংস-অরি,
কভু গোপাল বনমালী কিশোর রাখাল॥
বিপুল মহা-বিরাট কভু বৃন্দাবন-বিলাসী,
শঙ্খ-গদা-চক্র-পাণি মুখে মধুর হাসি।
	সৃষ্টি বিনাশে
	লীলা-বিলাসে,
মগ্ন তুমি আপন ভাবে অনাদিকাল॥

দূরের বন্ধু আছে আমার

বাণী

দূরের বন্ধু আছে আমার ঐ গাঙের পারের গাঁয়ে।
ঝরা পাতার পত্র আমার যায় ভেসে তার পায়ে।।
জানি জানি আমার দেশে আমার নেয়ে আসবে ভেসে,
চির-ঋণী আছে সে যে আমার প্রেমের দায়ে।।
নতুন আশার পাল তুলে সে আসবে ফিরে ঘরে,
ফুটেছে তাই কাশ-কুসুমের হাসি শুকনো চরে।
পিদিম জ্বেলে তা'রি আশায় গহীন গাঙের সোঁতে ভাসাই
ঐ পিদিমের পথ ধরে সে আসবে সোনার নায়ে।।

ঘুম টুটেছে ফুল-কলিদের

বাণী

ঘুম টুটেছে ফুল-কলিদের রঙ লেগেছে ফুলবনে।
দখিনা বাতাস আভাসে জানায় আগমনী তার মোর মনে।।
	মন উচাটন, মনে রয় না রয় না
	তার বিনা, কথা আর, কয় না কয় না,
নয়নে ঘুম আর সয় না সয় না — শুধাই তা’র কথা জনে জনে।।
রাঙা রঙের ছোঁয়া লাগে লাজ-রাঙা মোর মনে।
নিশীথ-রাতে পলাশ-বনে মিল্‌ব কি বঁধুর সনে।।