তোমার কালো রূপে যাক না ডুবে

বাণী

তোমার	কালো রূপে যাক না ডুবে সকল কালো মম, 
					হে কৃষ্ণ প্রিয়তম!
নীল		সাগর-জলে হারিয়ে যাওয়া নদীর জলের সম।
		কৃষ্ণ নয়ন-তারায় যেমন আলোকিত হেরি ভুবন,
		তেমনি কালো রূপের জ্যোতি দেখাও নিরুপম।।
যাক		মিশে আমার পাপ-গোধূলি তোমার নীলাকাশে,
মোর		কামনা যাক ধুয়ে তোমার রূপের শ্রাবন মাসে।
		তোমায় আমায় মিলন থাকুক (যেমন) নীল সলিলে সুনীল শালুক
তুমি		জড়িয়ে থাকো (গো) আমার হিয়ায় গানের সুরের সম।।

কৃষ্ণ কৃষ্ণ বল্ রসনা

বাণী

কৃষ্ণ কৃষ্ণ বল্ রসনা রাধা রাধা বল্,
রাধাকৃষ্ণ রাধাকৃষ্ণ রাধাকৃষ্ণ বল্।।
যোগে খোঁজেন শিব কৃষ্ণ-গোবিন্দে
ব্রহ্মা পূজেন রাধা-চরণারবিন্দে,
অধরা যুগল চাঁদে ধরিল প্রেমের ফাঁদে গোপ গোপীদল।।
(মোর) শ্রীকৃষ্ণে থাকে যেন অটল মতি
সেই মতি দেন্ মোর রাধা শ্রীমতী,
মন-বৃন্দাবনে ফোটে কৃষ্ণ নামের ফুল —
ঝরায়ে সে-ফুল রাই দেন সবে প্রেম-ফল।।
রাধাকৃষ্ণ বল্ ওরে নর-নারী
সংসার বনে তোরা যেন শুক-শারি,
তার, পরানে নিত্য রাস-রসের উল্লাস —
যাহার হৃদয়ে দোলে মূরতি যুগল।।

আসিলে কে গো বিদেশি

বাণী

আসিলে কে গো বিদেশি দাঁড়ালে মোর আঙিনাতে।
আঁখিতে ল’য়ে আঁখি-জল লইয়া ফুল-মালা হাতে।।
জানি না চিনি না তোমায় কেমনে ঘরে দিব ঠাঁই
অমনি আসে তো সবাই হাতে ফুল, জল নয়ন-পাতে।।
কত সে প্রেম-পিয়াসি প্রাণ চাহিছে তোমার হাতের দান
কাঁদায়ে কত গুলিস্তান আমারে এলে কাঁদাতে।।
ফুলে আর ভোলে না মোর মন, গলে না নয়ন-জলে,
ভুলিয়া জীবনে একদিন আজিও জ্বলি জ্বালাতে।।

তুমি কি দখিনা পবন

বাণী

তুমি কি দখিনা পবন
দুলে ওঠে দেহলতা
ফুলে ফুলে ফুল্ল হয়ে ওঠে মন।।
	অন্তর সৌরভে শিহরে
	কথার কোয়েলিয়া কুহরে
তনু অনুরঞ্জিত করে গো প্রীতির পলাশ রঙন।।
কী যেন মধু জাগে হিয়াতে
চাহি’ যেন সেই মধু কোন্‌ চাঁদে পিয়াতে।
	ফুটাইয়া ফুল কোথা চলে যাও
	হুতাস নিশাসে কী ব’লে যাও
মধু পান করি না কো র’চে যাই শুধু মধু-বন।।

আঁধার রাতে কে গো একেলা

বাণী

আঁধার রাতে			কে গো একেলা
নয়ন-সলিলে		ভাসালে ভেলা।।
কাঁদিয়া কারে 		খোঁজ ওপারে
আজো যে তোমার		প্রভাত বেলা।।
কি দুখে আজি		যোগিনী সাজি’
আপনারে ল’য়ে		এ হেলা-ফেলা।।
সোনার কাঁকন		ও দুটি করে
হের গো জড়ায়ে		মিনতি করে।
খুলিয়া ধূলায়		ফেলো না গো তায়,
সাধিছে নূপুর		চরণ ধ’রে।
হের গো তীরে		কাঁদিয়া ফিরে
আজি ও-রূপের		রঙের মেলা।।

পলাশ ফুলের মউ পিয়ে ঐ

বাণী

পলাশ ফুলের মউ পিয়ে ঐ বউ-কথা-কও উঠ্ল ডেকে।
শিশ্ দিয়ে যায় উদাস হাওয়া নেবু-ফুলের আতর মেখে।।
	এমন পূর্ণ চাঁদের রাতি
	নেই গো আমার জাগার সাথী,
ফুল-হারা মোর কুঞ্জ-বীথি — কাঁটার স্মৃতি গেছে রেখে।।
	শূন্য মনে এক্‌লা গুণি
	কান্না-হাসির পান্না-চুণী,
বিদায়-বেলার বাঁশি শুনি — আস্‌ছে ভেসে ওপার থেকে।।

১. শঙ্করা মিশ্র — দাদ্‌রা, ২. সাথে।