শ্যামা-তন্বী আমি মেঘ-বরণা

বাণী

শ্যামা-তন্বী আমি মেঘ-বরণা।
দৃষ্টিতে১ বৃষ্টির ঝরে ঝরনা।।
অম্বরে জলদ মৃদঙ্গ বাজাই 
কদম-কেয়ায় বন-ডালা সাজই, 
হাসে শস্যে পুষ্পে ধরা নিরাভরণা।।
পুবালি হাওয়ায় ওড়ে কালো কুম্ভল
বিজলি ও মেঘ — মুখে হাসি চোখে জল,
রিমিঝিমি নেচে যাই চল-চরণা।।

১. মোর দৃষ্টিতে

ওরে অবোধ গরম জলে

বাণী

ওরে অবোধ! গরম জলে ঘর কি কভু পোড়ে?
আপন জনের আঘাত কি কেউ রাখে মনে করে (রে)?
	তুই বিদায় নিলি অভিমানে
	শেষে ফিরতে হল প্রাণের টানে (রে)।
ওরে এ স্নেহ-ডোর ছিন্ন করে কোথায় যাবি সরে।।

তোমার প্রেমে সন্দেহ মোর

বাণী

তোমার প্রেমে সন্দেহ মোর দুর কর নাথ ভক্তি দাও।
যেখানে হোক তুমি আছ — এই বিশ্বাস শক্তি দাও।।
	যে কোন জনমে আমি
	পাইব পাব তোমায় আমি
অবিশ্বাসের আঁধার রাতে তোমায় পাওয়ার পথ দেখাও।।
শত দুঃখ ব্যথার মাঝে এইটুকু দাও শন্তি নাথ।
কাঁদিবে তুমি আমার দুঃখে আজকে যতই দাও আঘাত।।
	হয়ত কোটি জনম পরে
	পাব তোমায় আমার করে,
তোমায় আমায় মিলন হবে এই আশাতেই মন দোলাও।।

মৃত্যু নাই নাই দুঃখ আছে শুধু প্রাণ

বাণী

মৃত্যু নাই, নাই দুঃখ, আছে শুধু প্রাণ।
আনন্ত আনন্দ হাসি অফুরান।।
	নিরাশার বিবর হ’তে
	আয় রে বাহির পথে,
দেখ্ নিত্য সেথায় — আলোকের অভিযান।।
ভিতর হ’তে দ্বার বন্ধ ক’রে
জীবন থাকিতে কে আছিস্‌ ম’রে।
	ঘুমে যারা অচেতন
	দেখে রাতে কু-স্বপন,
প্রভাতে ভয়ের নিশি হয় অবসান।।

গোঠের রাখাল বলে দে রে

বাণী

		গোঠের রাখাল, বলে দে রে কোথায় বৃন্দাবন।
(যথা)		রাখাল–রাজা গোপাল আমার খেলে অনুক্ষণ।।
(যথা)		দিনে রাতে মিলন–রাসে
		চাঁদ হাসে রে চাঁদের পাশে,
(যা’র)		পথের ধূলায় ছড়িয়ে আছে শ্রীহরি–চন্দন।।
(যথা)		কৃষ্ণ–নামের ঢেউ ওঠে রে সুনীল যমুনায়,
(যা’র)		তমাল–বনে আজো মধুর কানুর নূপুর শোনা যায়।
		আজো যাহার কদম ডালে
		বেণু বাজে সাঁঝ–সকালে,
		নিত্য লীলা করে যথা মদন–মোহন।।

কেন মরিতে আসিলাম যমুনায়

বাণী

কেন মরিতে আসিলাম যমুনায়, ললিতা কেন বিপরীত হেরিলাম।
কৃষ্ণ-যমুনা-জলে কারে ল’য়ে কুতুহলে জল-খেলা করে ঘনশ্যাম।।
কালো মেঘের যেন খেলে বিজলি
সোনার-প্রতিমার প্রতিবিম্ব কালো জলে
কালো মেঘে যেন খেলে বিজলি।
হিরন্ময়ী জ্যোতির্ময়ী সতিনীর রূপ আমি যত দেখি গো তত মজি সখি গো!
অতি জ্যোতি গর্বিতা যেন পতি সোহাগিনী সতীসম কে এ সতিনী, ললিতে,
মোর শ্যাম অঙ্গে অপরূপ ভঙ্গে আমারই সমুখে করে খেলা, মোরে ছলিতে।
ও কি কায়া না ছায়া!
ও কি কৃষ্ণ রূপের চঞ্চল জল-তরঙ্গ মায়া?
সখি মান ভাঙাতে মোর এসেছিল গোপনে শ্যাম আজি প্রভাতে (সখি),
শ্যাম-তনুমুকুরে হেরিলাম বিরাজে গৌর-বর্ণা নারী অপরূপ শোভাতে।
এলো অভিমান মনে, তাই
মনে হলে যমুনায় ডুবিয়া ললিতা শান্তি যদি পাই।
এখানেও দেখি সেই গৌরী কিশোরী আছে শ্যামে জড়ায়ে।
(ও কি কায়া না মায়া ও কি কৃষ্ণেরই রঙ্গ না আমারই ছায়া কায়া না মায়া।)
কোন্ দেশে যাব সখি কোন্ খানে পাব শ্যামে একাকী।
আন-নারীরে ছেড়ে কেবল রাধার হয়ে দেবে না দেখা কি (সখী গো)।।

গীতিচিত্র : ‘অভিমানিনী’