মধুর আরতি তব বিশ্ব সভাতে

বাণী

মধুর আরতি তব বিশ্ব সভাতে
নিত্য হেরি নাথ সন্ধ্যায় প্রভাতে।।
চন্দ্র, সূর্য, দীপ গগন-থালা
শ্বেত মেঘ-চন্দন, তারার মালা
মলয় সমীর পূজা-ধূপের গন্ধ
ঝরা ফুল-অঞ্জলি ধরণীর হাতে।।
শঙ্খ বাজায় তব সাগর-কল্লোল
বজ্র রবে ঘন ঘন্টার রোল
বিগ্রহ নিখিল সৃষ্টি-আঙিনায়।
(তব) শান্ত সত্ব-পাখা প্রণব-ওঙ্কার
ঝমঝম বৃষ্টিতে ঝাঁঝর ঝঙ্কার।
দেবদাসী সম কোটি গ্রহ ঘুরে ঘুরে
তোমার বন্দনা-নৃত্যে মাতে।।

ঘুমে জাগরণে বিজড়িত প্রাতে

বাণী

ঘুমে জাগরণে বিজড়িত প্রাতে।
কে এলে সুন্দর আমারে জাগাতে।।
শাখে শাখে ফুলগুলি হাসিছে নয়ন মেলি’
শিহরিছে উপবন ফুলেল হাওয়াতে।।
দেখিনি তোমায় তবু অন্তর কহে,
ছিলে তুমি লুকায়ে আমার বিরহে।
চম্পার পেয়ালায় রস উছলিয়া যায় —
ঝরিয়া পড়ার আগে ধর তা’রে হাতে।।

সাহারাতে ফুটল রে রঙিন গুলে লালা

বাণী

সাহারাতে ফুটল রে রঙিন গুলে লালা
সেই ফুলেরি খোশবুতে আজ দুনিয়া মাতোয়ালা।।
সে ফুল নিয়ে কাড়াকাড়ি চাঁদ -সুরুজ গ্রহ-তারায়
ঝুঁকে প'ড়ে চুমে সে ফুল নীল গগন নিরালা।।
সেই ফুলেরি রঙ লেগে আজ ত্রিভুবন উজালা।।
চাহে সে ফুল জ্বীন ও ইনসান হুরপরী ফেরেশতায়
ফকির দরবেশবাদশা চাহে করিতে গরার মালা (তারে)
চেনে রসিক ভ্রমর,বুলবুল সেই ফুলের ঠিকানা
কেউ বলে হযরত মোহাম্মদ (বলে) কেউ বা কমলিওয়ালা।।

জয় হরপ্রিয়া শিবরঞ্জনী

বাণী

জয় হরপ্রিয়া শিবরঞ্জনী।
শিব-জটা হতে সুরধুনী স্রোতে ঝরি’ শতধারে ভাসাও অবনি।
দিবা দ্বিপ্রহরে প্রথম বেলা কাফি-সিন্ধুর তীরে কর খেলা
দীপ্ত নিদাঘে সারঙ্গ রাগে অগ্নি ছড়ায় তব জটাব ফণী॥
কভু ধানশ্রীতে মায়া রূপ ধর,
জ্ঞানী শিবের তেজ কোমল কর
পিলু বারোঁয়ার বিষাদ ভোলানো
নূপুরের চটুল ছন্দ আনো
বাগীশ্বরী হ’য়ে মহিমা শান্তি ল’য়ে
আসো গভীর যবে হয় রজনী॥
বরষার মল্লারে মেঘে তুমি আসো,
অশনিতে চমকাও, বিদ্যুতে হাসো
সপ্ত সুরের রঙে সুরঞ্জিতা ইন্দ্রধনু-বরণী॥

ওমা যা কিছু তুই দিয়েছিলি

বাণী

ওমা	যা কিছু তুই দিয়েছিলি ফিরিয়ে দিলাম তোকে।
	তুই ছাড়া আর বলতে আপন (কেউ) রইল না ত্রিলোকে।।
	তুই	কোলে নেবার দায় এড়িয়ে
		রেখেছিলি মন ভুলিয়ে খেলনা দিয়ে,
তুই	পালিয়েছিলি ঘুম পাড়িয়ে (মায়ার) কাজল দিয়ে চোখে।।
	কোটি জনম কাট্ল কেঁদে মাগো তোকে ভুলে,
(মা)	তোরে মনে পড়েছে আজ, (এবার) নে মা কোলে তু’লে।
	এই	পুত্র জায়া মায়ার ছবি
		তুই ছাড়া মা মিথ্যা সবই,
	ভুলব না আর এবার আমি জড়াব না দুঃখ-শোকে।।

আজি ঘুম নহে নিশি জাগরণ

বাণী

আজি	ঘুম নহে, নিশি জাগরণ।
	চাঁদেরে ঘিরি’ নাচে ধীরি ধীরি তারা অগণন।।
	প্রখর-দাহন দিবস-আলো,
	নলিনী-দলে ঘুম তখনি ভালো।
	চাঁদ চন্দন চোখে বুলালো
		খোলো গো নিঁদ-মহল-আবরণ।।
	ঘুরে ঘুরে গ্রহ, তারা, বিশ্ব, আনন্দে
	নাচিছে নাচুনি ঘূর্ণির ছন্দে।
	লুকোচুরি-নাচ মেঘ তারা মাঝে
	নাচিছে ধরণী আলোছায়া-সাজে,
	ঝিল্লির ঘুমুর ঝুমুঝুমু বাজে
		খুলি’ খুলি’ পড়ে ফুল-আভরণ।।