সখি তখন আমার বালিকা বয়স

বাণী

সখি তখন আমার বালিকা বয়স বেণু শুনেছিনু যবে।
আমি বুঝিনি সেদিন, ডাকে বাশুরিয়া আমারেই বেণু রবে, 
				সখি, আমারেই বেণু রবে।।
তার বাঁশরির সুরে মাঝে মাঝে সখি শিহরিয়া উঠিতাম গো —
মনে হ’ত ঐ সুরের আড়ালে আছে যেন মোর নাম গো।
ডাকিত — ‌‘রাধা জাগো, জাগো প্রিয়া’,
হের গো যমুনা তোমার বিরহে উঠিয়াছে উথলিয়া।।
শিহরিত কলেবর, জাগিত ভীতি গো,
ও কি পূর্বানুরাগ, ও কি প্রথম প্রীতি গো।সখি গো — 
সখি, হেরিনু স্বপনে নব জলধর রসে-ঢলঢল কালা
মোর বুকে এসে কাঁদে, বলে লহ, রাধে, কণ্ঠের বনমালা
তার শিরে শিখি-পাখা, চাঁচর চিকুর দোলে কপোলের কাছে লো
দোলে দোলে দোলে দোলে গো —
সে বাঁশী রেখে পায় মুখপানে চায়, কি যেন ভিক্ষা যাচে।।
আমি দিতে যে নারি লো, যাহা চায় তাহা আমি দিতে যে নারি লো;
ও বোঝে না কুলবতী কুলের বাধা,
দিতে যে নারী লো, দিতে যে নারি লো।

হে মদিনাবাসী প্রেমিক ধর

বাণী

হে মদিনাবাসী প্রেমিক ধর হাত মম।।
জ্বলওয়া দেখালে দিল হরিলে বন্ধু হলো বেগানা
হেসে হেসে সংসার কহে দীওয়ানা এ দীওয়ানা।।
বিরহের এ রাত একেলা কেঁদে হলো ভোর
হৃদয়ে মোর শান্তি নাহি কাঁদে পরান মোর।।
দুখের দোসর কেউ নাহি মোর নাই ব্যথী ব্যথার
তোমায় ভুলে ভাসি অকূলে পার করো সরকার।।

মধুকর মঞ্জির বাজে

বাণী

মধুকর মঞ্জির বাজে বাজে
		গুন্‌ গুন্‌ মঞ্জুল গুঞ্জরণে।
মৃদুল দোদুল নৃত্যে
		বন শবরী মাতে কুঞ্জবনে।।
বাজাইছে সমীর দখিনা
পল্লবে মর্মর বীণা,
বনভুমি ধ্যান–আসীনা
		সাজিল রাঙা কিশলয়–বসনে।।
ধূলি ধূসর প্রান্তর পরেছিল গৈরিক সন্ন্যাস–সাজ
নব–দূর্বাদল শ্যাম হলো আনন্দে আজ।
লতিকা–বিতানে ওঠে ডাকি’
মুহু মুহু ঘুমহারা পাখি
নব নীল অঞ্জন মাখি’
		উদাসী আকাশ হাসে চাঁদের সনে।।

আমি যার নূপুরের ছন্দ

বাণী

আমি যার নূপুরের ছন্দ বেণুকার সুর - 
কে সেই সুন্দর কে! 
আমি যার বিলাস-যমুনা বিরহ-বিধুর 
কে সেই সুন্দর কে।। 
যাহার গানের আমি বনমালা 
আমি যার কথার কুসুম-ডালা, 
না-দেখা সুদূর - 
কে সেই সুন্দর কে।। 
যার শিখী-পাখা লেখনী হয়ে 
গোপনে মোরে কবিতা লেখায় 
সে রহে কোথায় হায়! 
আমি যার বরষার আনন্দ-কেকা 
নৃত্যের সঙ্গিনী দামিনী-রেখা, 
যে মম অঙ্গে কাঁকন-কেয়ূর 
কে সেই সুন্দর কে।। 

আয় বিজয়া আয় রে জয়া

বাণী

আয় বিজয়া আয় রে জয়া উমার লীলা যা রে দেখে।
সেজেছে সে মহাকালী চোখের কাজল মুখে মেখে।।
	সে ঘুমিয়েছিল আমার কোলে
	জেগে উঠে কেঁদে বলে,
আমায় কালী সাজিয়ে দে মা ছেলেরা মোর কাঁদছে ডেকে।।
চেয়ে দেখি মোর উমা নাই নাচে কালী দিগম্বরী,
হুঙ্কার দেয় কোটি গ্রহের মুণ্ডমালা গলায় পরি’।
	আমি শুধু উমায় চিনি
	এ কোন্ মহামায়াবিনী,
কালোরূপে বিশ্বভুবন আকাশ-পবন দিল ঢেকে।।

হেমন্তিকা এসো এসো হিমেল শীতল বন-তলে

বাণী

হেমন্তিকা এসো এসো হিমেল শীতল বন-তলে
শুভ্র পূজারিণী বেশে কুন্দ-করবী-মালা গলে।।
	প্রভাত শিশির নীরে নাহি'
	এসো বলাকার তরণী বাহি'
সারস মরাল সাথে গাহি' চরণ রাখি' শতদলে।।
ভরা নদীর কূলে কূলে চাহিছে সচকিতা চখি —
মানস-সরোবর হ'তে-অলক -লক্ষ্মী এলো কি?
	আমন ধানের ক্ষেতে জাগে
	হিল্লোল তব অনুরাগে,
তব চরণের রঙ লাগে কুমুদে রাঙা কমলে।।