গগনে প্রলয় মেঘের মেলা

বাণী

গগনে প্রলয় মেঘের মেলা জীবন-ভেলা দোলে টলমল
নীর অপার ভব পারাবার তীর না হেরে পরান বিকল
	তীর না হেরে নয়নে পরান বিকল।।
	দীন দয়াল ভীত দীন জনে
	মাগে শরণ তব অভয় চরণে
দুস্তর দুর্গম দুঃখ জলধি তরিতে চরণ-তরী ভরসা কেবল।।

যারে আঘাত দিয়ে ফিরায়েছ তুমি

বাণী

যারে আঘাত দিয়ে ফিরায়েছ তুমি কেন ডাক তারে বারে বারে।
যে ফুল হেলায় দলিয়াছ পায়,
আজো রেখেছ অনাদরে কেন পেতে চাওয়া তারে।।
	প্রথম প্রণয় জেগেছিল যবে
	চাঁদ উঠেছিল মোর হৃদি-নভে,
শুধু দুটি কথা কহিতে তোমারে ভাসিনু আঁখি-ধরে।।
পরাজিত হল তব ভালোবাসা মোর ভালোবাসা-কাছে,
দলিত যে ফুল পথের ধূলায় সে-ফুল আজো কি আছে।
	ভাসিয়াছি আমি নয়নের জলে
	বহিবে সে ধারা তব হিয়া-তলে
যে জন আমায় বাসিয়াছে ভাল তারে বাঁধিব প্রেম-ডোরে।।

খেলি আয় পুতুল-খেলা ব’য়ে যায় খেলার বেলা

বাণী

খেলি আয় পুতুল-খেলা ব’য়ে যায় খেলার বেলা সই।
বাবা ঐ যান আপিসে ভাবনা কিসের খোকারা দোলায় ঘুমোয় ঐ।।
দাদা যান ইস্কুলেতে, মা খুড়ি মা রান্না করেন ঐ হেঁসেলে
ঠানদি দাওয়ায় ঝীমায় ব’সে ফোকলা বদন মেলে।
আয় লো ভুলি পঞ্চি টুলি পটলি খেঁদি কই।।

নাটিকাঃ ‘পুতুলের বিয়ে’

বর্ণচোরা ঠাকুর এলো রসের নদীয়ায়

বাণী

	বর্ণচোরা  ঠাকুর এলো রসের নদীয়ায়
	তোরা দেখবি যদি আয়
তারে	কেউ বলে শ্রীমতি রাধা কেউ বলে সে শ্যামরায়।।
	কেউ বলে তার সোনার অঙ্গে রাধা-কৃষ্ণ খেলেন রঙ্গে;
ওগো	কেউ বলে তায় গৌর-হরি কেউ অবতার বলে তায়।।
তার	ভক্ত তারে ষড়ভুজ শ্রী নারায়ণ বলে,
কেউ	দেখেছে শ্রীবাসের ঘরে কেউ বা নীলাচলে।
	দুই হাতে তার ধনুর্বাণ ঠিক যেন শ্রীরাম,
	দুই হাতে তার মোহন বাঁশি যেন রাধা-শ্যাম,
	আর দু'হাতে দণ্ড ঝুলি নবীন সন্ন্যাসীরই প্রায়।।

এই যুগল মিলন দেখ্‌ব ব’লে

বাণী

	এই	যুগল মিলন দেখ্‌ব ব’লে ছিলাম আশায় ব’সে।
	আমি	নিত্যানন্দ হলাম, পিয়ে, মধুর ব্রজ-রসে।।
	রাই	বিষ্ণুপ্রিয়া আর কানাই গৌর
	হের	নদীয়ায় যুগল রূপ সুমধুর,
তোরা	দেখে যা দেখে যা মধুর মধুর।
মধুর রাই আর মধুর কানাইরে দেখে যা দেখে যা মধুর মধুর।।

নাটক : ‘বিষ্ণুপ্রিয়া’ (নিত্যানন্দের গান)

মোর ধেয়ানে মোর স্বপনে

বাণী

মোর ধেয়ানে মোর স্বপনে
পরান-প্রিয়, দিও হে দেখা।
মোর শয়নে মোর নয়নে
লিখিয়া যেয়ো সলিল-লেখা।।
পথ চলিতে আসিলে ভুলে’
নিও না তুলে’ তব দেউলে,
হবে না পূজা এ বন-ফুলে —
দেবতা মম, ঝরিব একা।।