এলো মিলন-রাতি

বাণী

এলো মিলন-রাতি
জ্বলে বাসর-বাতি
ওগো পরান-সাথি
	এসো পরানে।।
প্রেম-কুসুম গাঁথি
ছিনু আসন পাতি
ছিনু হরষে মাতি
	তব বরণ-গানে।।
প্রেম-মদির-আঁখি
আঁখিতে রাখি,
শুধু চাহিয়া থাকি
	তব মুখের পানে।।

নাটক : ‘কাফন-চোরা’

পরদেশী মেঘ যাও রে ফিরে

বাণী

	পরদেশী মেঘ যাও রে ফিরে।
	বলিও আমার পরদেশী রে।।
	সে দেশে যবে বাদল ঝরে
	কাঁদে নাকি প্রাণ একেলা ঘরে,
বিরহ-ব্যথা নাহি কি সেথা বাজে না বাঁশি নদীর তীরে।।
বাদল-রাতে ডাকিলে ‘পিয়া পিয়া পাপিয়া’,
বেদনায় ভ’রে ওঠে নাকি রে কাহারো হিয়া।
	ফোটে যবে ফুল, ওঠে যবে চাঁদ
	জাগে না সেথা কি প্রাণে কোন সাধ,
দেয় না কেহ গুরু গঞ্জনা সে দেশে বুঝি কুলবতী রে।।

ঢল ঢল তব নয়ন-কমল

বাণী

ঢল ঢল তব নয়ন-কমল কাজল তোমারেই সাজে।
শোভে তোমারেই চাঁদের হাসি হিঙুল অধর-মাঝে।।
	ফিরোজা-রঙ শাড়ি চাঁপা রঙে তব
	সেজেছে প্রিয়া কি অভিনব,
সুনীল গগনে গোধূলি রঙ যেন মিশেছে আসিয়া ঊষা ও সাঁঝে।।
কোমলে কড়িতে বাজে কাঁকন চুড়ি
শিথিল আঁচল ল’য়ে খেলে হাওয়া লুকোচুরি,
উষ্ণ কপোল ছুঁয়ে থল্-কমলী আঁউ’রে গেল যে লাজে।।

আমি সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায়

বাণী

আমি		সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে
		দলগুলি মোর রেঙে ওঠে তোমার হাসির কিরণ মেখে’।।
			নিত্য জানাই পেম-আরতি
			যে পথে, নাথ, তোমার গতি
		ওগো আমার ধ্রুব-জ্যোতি সাধ মেটে না তোমায় দেখে’।।
		জানি, তুমি আমার পাওয়ার বহু দূরে, হে দেবতা!
		আমি মাটির পূজারিণী, কেমন ক’রে জানাই ব্যথা।
			সারা জীবন তবু, স্বামী,
			তোমার ধ্যানেই কাঁদি আমি
		সন্ধ্যাবেলায় ঝরি যেন তোমার পানে নয়ন রেখে’।।

সোনার চাঁপা ভাসিয়ে দিয়ে গহীন সাগর-জলে

বাণী

সোনার চাঁপা ভাসিয়ে দিয়ে গহীন সাগর-জলে
দূরে ব’সে কাঁদে কে রে কাঁদে আয় ফিরে আয় ব’লে।।
		কার আঁচলের মানিক ওরে
		অকূল স্রোতে পড়লি ঝরে রে
কোন্ মায়ের কোল্ খালি ক’রে এলি রে তুই চ’লে।।

নাটিকাঃ ‘শ্রীমন্ত’

ভোল লাজ ভোল গ্লানি জননী

বাণী

ভোল লাজ ভোল গ্লানি জননী মুক্ত আলোকে জাগো।
কবে সে ঘুমালি মরণ-ঘুমে মা আর তো জাগিলি না গো।।
চরণে কাঁদে মা তেমনি জলধি
বক্ষ আঁকড়ি কাঁদে নদ-নদী,
ত্রিশ কোটি সন্তান নিরবধি — 
			কাঁদে আর ডাকে মা গো।।
যে তিতিক্ষা যে শিক্ষা ল’য়ে
অতীতে ছিলি মা রাজরানী হয়ে,
ল’য়ে সে-মহিমা পুন নির্ভয়ে — 
			বিশ্ব-বুকে-দাঁড়া গো।।
বিশ্বের এই খল কোলহলে
তুই আয় কল্যাণ-দীপ জ্বেলে’,
বিরোধের শেষে তুই শান্তি মা — 
			মৃত্যু শেষে সুধা গো।।