বাণী
জাগো মালবিকা! জাগো মালবিকা! ডাকে তোমায় গগন-সীমায় মেঘ-বালিকা।। বরষার মিনতি মানো, মেঘপানে ভুরু হানো, বন-ডালি ভরি' আনো নীপ-যূথিকা।। তব অবগুণ্ঠন খোলো, তমাল ঝুলনায় দোলো, তরঙ্গ-লহরি তোলো সাগরিকা।।
রাগ ও তাল
রাগঃ আনন্দী
তালঃ ত্রিতাল
ভিডিও
স্বরলিপি

জাগো মালবিকা! জাগো মালবিকা! ডাকে তোমায় গগন-সীমায় মেঘ-বালিকা।। বরষার মিনতি মানো, মেঘপানে ভুরু হানো, বন-ডালি ভরি' আনো নীপ-যূথিকা।। তব অবগুণ্ঠন খোলো, তমাল ঝুলনায় দোলো, তরঙ্গ-লহরি তোলো সাগরিকা।।
রাগঃ আনন্দী
তালঃ ত্রিতাল

কিশোর রাখাল বেশে মেষ চারণে যায় নবী নীল রেশমি রুমাল বেঁধে তার চারু-চাঁচর কেশে। তাঁর রাঙা পদতলে পুলকে ধরা টলে তাঁর রূপ -লাবনির ঢলে মরুভূমি গেল ভেসে।। তাঁর মুখে রহে চাহি মেষ-শিশু তৃণ ভুলি' বিশ্বের শাহানশাহ আজ মাখে গোঠের ধূলি, তাঁর চরণ-নখরে কোটি চাঁদ কেঁদে মরে তাঁর ছায়া ক'রে চলে আকাশে মেঘ এসে।। কিশোর নবী গোঠে চলে তাঁর চরণ-ছোঁয়ায় পথের পাথর মোম হয়ে যায় গ'লে তসলিম জানায় পাহাড় চরণে ঝুকে তাঁহার। নারাঙ্গি,আঙুর,খরজুর,পায়ে নজরানা দেয় হেসে।।
রাগঃ
তালঃ দ্রুত-দাদ্রা

মেঘ-বরণ কন্যা থাকে মেঘলামতীর দেশে (রে) সেই দেশে মেঘ জল ঢালিও তাহার আকুল কেশে।। তাহার কালো চোখের কাজল শাওন মেঘের চেয়ে শ্যামল চাউনিতে তার বিজলি ছড়ায় চমক বেড়ায় ভেসে (রে)।। সে ব’সে থাকে পা ডুবিয়ে ঘুমতী নদীর জলে কভু দাঁড়িয়ে থাকে ছবির মত একলা তরু-তলে (রে)। কদম ফুলের মালা গেঁথে ছড়িয়ে সে দেয় ধানের ক্ষেতে তারে দেখতে পেলে আমার কথা (তারে) কইও ভালোবেসে।।
রাগঃ
তালঃ কাহার্বা

কে বলে মোর মাকে কালো, মা যে আমার জ্যোতির্মতী। কোটি চন্দ্র সূর্য তারা নিত্য করে যার আরতি।। কালো রূপের মায়া দিয়ে মহামায়া রয় লুকিয়ে, মায়ের শুভ্ররূপ দেখেছে শুভ্র শুচি যার ভকতি।। যোগীন্দ্র যাঁর চরণ-তলে ধ্যান করে রে যাঁর মহিমা, দু’টি নয়ন-প্রদীপ জ্বেলে খুঁজি সেই অসীমার সীমা। সাজিয়ে কালী গৌরী মাকে পূজা করি তমসাকে, মায়ের শুভ্ররূপ দেখেছে শুভ্র শুচি যার ভকতি।।
রাগঃ
তালঃ তেওড়া

ওগো প্রিয়, তব গান! আকাশ-গাঙের জোয়ারে উজান বহিয়া যায় মোর কথাগুলি কাঁদিছে বুকের দুয়ারে পথ খুঁজে নাহি পায়।। ওগো দখিনা বাতাস, ফুলের সুরভি বহ ওরি সাথে মোর না-বলা বাণী লহ ওগো মেঘ, তুমি মোর হয়ে গিয়ে কহ বন্দিনী গিরি ঝরনা পাষাণ-তলে যে কথা কহিতে চায়।। ওরে ও সুরমা, পদ্মা, কর্ণফুলি তোদের ভাটির স্রোতে নিয়ে যা আমার না-বলা কথাগুলি ধুয়ে মোর বুক হ'তে ওরে 'চোখ গেল' বউ কথা কও' পাখি তোদের কণ্ঠে মোর সুর, যাই রাখি' কি? (ওরে) মাঠের মুরলী কহিও তাহারে ডাকি, আমার গানের কলি না-ফোটা বুলি ঝ'রে গেল নিরাশায়।।
রাগঃ
তালঃ কাহার্বা

জাগো হে রুদ্র, জাগো রুদ্রাণী, কাঁদে ধরা দুখ-জরজর! জাগো গৌরী, জাগো হর।। আজি শস্য-শ্যামা তোদের বন্যা অন্নবস্ত্র হীনা অরণ্যা সপ্ত সাগর অশ্রু-বন্যা, কাঁপিছে বুক থর থর।। আর সহিতে পারি না অত্যাচার, লহ এ অসহ ধরার ভার। গ্রাসিল বিশ্ব লোভ-দানব, হা হা স্বরে কাঁদিছে মানব, জাগো ভৈরবী জাগো ভৈরব ত্রিশূল খড়গ ধর ধর।।
রাগঃ যোগিয়া
তালঃ একতাল
স্বরলিপিকার: কাজী নজরুল ইসলাম
