সোজা পথে চল রে ভাই

বাণী

	সোজা পথে চল রে ভাই, ঈমান থেকো ধ’রে।
	খোদার রহম মেঘের মত ছায়া দেবে তোরে।।
	তুমি বিচার করো না — কেউ করলে তোমার ক্ষতি
	এক সে-বিচার-করনেওয়ালা ত্রিভুবনের পতি,
তোর	ক্ষতির ডালে ধরবে মোতি তাঁর বিচারের জোরে।।
	সকল সময় ধ’রে থেকো আল্লা নামের খুঁটি
	তিনি তোমার হেফাজতে দিবেন ক্ষুধার রুটি,
	ইয়াকিন দিলে থেকো তুমি, নিবেন তোমায় ত’রে।।

কাণ্ডারি গো কর কর পার

বাণী

কাণ্ডারি গো কর কর পার এই অকূল ভব-পারাবার।
তোমার চরণ-তরী বিনা, প্রভু পারের আশা নাহি আর।।
	পাপের তাপের ঝড় তুফানে
	শান্তি নাহি আমার প্রাণে।
আমি যেদিকে চাই দেখি কেবল নিরাশারি অন্ধকার।।
	দিন থাকতে আমার মতো
		কেউ নাহি সম্ভাষে,
	হে প্রভু তোমায়
		কেউ নাহি সম্ভাষে
	দিন ফুরালে খাটে শুয়ে
		এই ঘাটে সবাই আসে।
	লয়ে তোমারি নামের কড়ি
	সাধু পেল চরন-তরী
সে কড়ি নাই যে কাঙ্গালের হও হে দীনবন্ধু তার॥

এসো ঠাকুর মহুয়া বনে ছেড়ে বৃন্দাবন

বাণী

	এসো ঠাকুর মহুয়া বনে ছেড়ে বৃন্দাবন,
	ধেনু দেব বেণু দেব মালা চন্দন॥
	কেঁদে কেঁদে কয়লা খাদে যমুনা বহাব;
	পলাশ বনে জাগরণে নিশি পোহাব
	রাধা হয়ে বাঁধা দেব আমর প্রাণ মন॥
মোর	নটকান রঙ শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে,
	পীত ধড়া পরাব, নীল অঙ্গ ঘিরে।
	পিয়াল ডালে দোলনা বেঁধে দুলিব দুজন॥
	ভাসুর-শ্বশুর দ্যাখে যদি করব নাকো লাজ
	বলব আমার শ্যামের বাঁশি বাজ রে আবার বাজ
শ্যাম	তোমার লাগি জাতি কুল দিব বিসর্জন।।

জয় দুর্গা জননী দাও শক্তি

বাণী

[ওম্ সর্বমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে।
শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরী নারায়ণী নমোস্তুতে।।]
	জয় দুর্গা, জননী, দাও শক্তি
	শুদ্ধ জ্ঞান দাও, দাও প্রেম-ভক্তি,
অসুর-সংহারি কবচ-অস্ত্র দাও মা, বাঁধি বাহুতে।।
অর্থ-বিভব দাও, যশ দাও মাগো, প্রতি ঘরে দাও শান্তি,
পরম-অমৃত দাও, দূর কর’ মৃত্যু-সম বাঁচিয়া থাকার এই ক্লান্তি।
	শ্রান্তিবিহীন উৎসাহ দাও কর্মে
	নবীন দীক্ষা দাও শক্তির ধর্মে
মোদের রক্ষা কর’ বরাভয় বর্মে, চিন্ময় জ্যোতি দাও প্রতি অণুতে।।

ভোরের হাওয়া ধীরে ধীরে বলো

বাণী

		ভোরের হাওয়া! ধীরে ধীরে বলো গো সেই হরিণীরে।
		আর কত দিন দিশাহারা ঘুরব একা মরুর তীরে।।
		মিষ্টি চিনির পসরিণীর হৃদয় কেন কষায় হেন,
		এই চিনি-খোর তুতীর পানে কেন গো সে চায় না ফিরে।।
		গোলাব লো! তোর রূপের গরব দেয় না বুঝি জিজ্ঞাসিতে,
		প্রণয়-পাগল বুলবুলি তোর ভাসে কেন অশ্রু-নীরে।।
		চতুর নিষাদ শিকার করে প্রণয়ীরে মুখের মিঠায়,
		চপল পাখি ধরতে সে গো বিছায় না জাল আকাশ ঘিরে।।
		বঁধুর পাশে বসে তোমার ঢাল্‌বে যেদিন রঙীন শারাব
		স্মরণ ক’রো রূপসী, এই উপোসী-মন দূর সাথিরে।।
শেয়র : 	সরল-তনু, কাজল-আঁখি, চাঁদের মালা ললাট-কূলে —
		রঙীন্‌ প্রেমের লাগল না রঙ কেন গো সে রূপের ফুলে।
		তোমার রূপের চাঁদে, প্রিয়, এই শুধু কলঙ্ক-লেখা —
		মধুর রূপের কাননে নাই বিধুর প্রেমের কুহু কেকা!
		হাফেজী এই গজল যদি পৌছে আকাশ, নয় সে কিছু,
		গাইবে সে গান ‘জোহরা’ তারা, নাচবে ‘ঈশা’ সে সুর মীড়ে।।

সখি বাঁধো লো বাঁধো লো

বাণী

সখি বাঁধো লো বাঁধো লো ঝুলনিয়া।।
নামিল মেঘলা ঘোর বাদরিয়া।।
চল কদম তমাল তলে গাহি কাজরিয়া
চল লো গৌরী শ্যামলিয়া।।
বাদল-পরীরা নাচে গগন-আঙিনায়,
ঝমাঝম বৃষ্টি-নূপুর পায়।
শোনো ঝমঝম বৃষ্টি নূপুর পায়
এ হিয়া মেঘ হেরিয়া ওঠে মাতিয়া।।
মেঘ-বেণীতে বেঁধে বিজলি-জরীন্‌ ফিতা,
গাহিব দু’লে দু’লে শাওন-গীতি কবিতা,
শুনিব বঁধুর বাঁশি বন-হরিণী চকিতা,
দয়িত-বুকে হব বাদল-রাতে দয়িতা।
পর মেঘ-নীল শাড়ি ধানী-রঙের চুনরিয়া,
কাজলে মাজি’ লহ আঁখিয়া।।