কুঁচবরণ কন্যা রে তার মেঘ-বরণ কেশ

বাণী

		কুঁচবরণ কন্যা রে তার মেঘ-বরণ কেশ।
ওরে		আমায় নিয়ে যাও রে নদী সেই সে কন্যার দেশ রে।।
		পরনে তার মেঘ-ডম্বুর উদয়-তারার শাড়ি
ওরে		রূপ নিয়ে তার চাঁদ-সুরুজে করে কাড়াকাড়ি রে
আমি		তারি লাগি রে
		আমি তারি লাগি বিবাগী ভাই আমার চির-পথিক বেশ।।
		পিছ্‌লে পড়ে চাঁদের কিরণ নিটোল তারি গায়ে
ওরে		সন্ধ্যা-সকাল আসে তারি’ আল্‌তা হতে পায়ে রে।
ও সে		রয় না ঘরে রে
ও সে		রয় না ঘরে ঘুরে’ বেড়ায় ময়নামতীর চরে
তা’রে		দেখ্‌লে মরা বেঁচে ওঠে জ্যান্ত মানুষ মরে রে
ও সে		জল-তরঙ্গে বাজে রে তার সোনার চুড়ির রেশ।।

তুমি আরেকটি দিন থাকো

বাণী

তুমি		আরেকটি দিন থাকো।
		হে চঞ্চল, যাবার আগে মোর মিনতি রাখো।।
আমি		ভালো ছিলাম ভুলে’ একা
		কেন নিঠুর দিলে দেখা,
তুমি		ঝরা-ফুলে গাঁথ্‌লে মালা গলায় দিলে না কো।।
তোমার	কাজের মাঝে আমায় ভোলা সহজ হবে, স্বামী!
		কেমন ক’রে এক্‌লা ঘরে থাক্‌বো ভুলে আমি।
		নিবু নিবু প্রদীপ আশার
তুমি		জ্বালিয়ে দিলে যদি আবার —
প্রিয়		নিভ্‌তে তারে দিও না আর আদর দিয়ে রাখো।।

অবুঝ মোর আঁখি বারি

বাণী

অবুঝ মোর আঁখি বারি, আমি রোধিতে নারি।।
গ'লেছে যে-নদী জল, কে তারে রোধিবে বল,
পাষাণের সে নারায়ণ তবু সে আমারি।।

আমার দেওয়া ব্যথা ভোলো

বাণী

আমার দেওয়া ব্যথা ভোলো।
আজ যে যাবার সময় হলো।।
নিব্‌বে যখন আমার বাতি 
আসবে তোমার নূতন সাথি, 
আমার কথা তা'রে বলো।।
ব্যথা দেওয়ার কী যে ব্যথা 
জানি আমি, জানে দেবতা।
জানিলে না কী অভিমান 
করেছে হায় আমায় পাষাণ, 
দাও যেতে দাও, দুয়ার খোলো।।

বিরহের অশ্রু সায়রে বেদনার শতদল

বাণী

বিরহের অশ্রু সায়রে বেদনার শতদল
উদাসী অশান্ত বায়ে টলে টলমল টলমল।।
	তব রাঙা পদতলে, প্রিয়
	এই শতদলে রাখিয়ো,
বাজাইও মধুকর বীণা অনুরাগ-চঞ্চল।।
ঝড় এলো, এলো এলায়ে মেঘের কুন্তল
তুমি কোথায়, হায়, নিরাশায় ঝরে কমল-দল।
	কেমনে কাটে তব বেলা
	কোথা কোন লোকে একেলা;
দুই কূলে  দুই জন কাঁদি, মাঝে নদী ছলছল।।

হেলে দুলে চলে বন-মালা গলে

বাণী

হেলে দুলে চলে বন-মালা গলে গোঠ-বিহারী বনে বনমালী সাজে।
বঙ্কিম শিখী পাখা শোভিত অলক চন্দন তিলক ললাটে রাজে।।
	পথের ধুলি হরি চরণ পরশে
	হল সুরভিত হরি-চন্দন হরষে,
নিখিল-ভক্ত-প্রাণ চরণে নূপুর হয়ে রুমু ঝুমু বাজে।।
	তৃণ নাহি পরশে উচাটন ধেনু সব
	বংশী-বট-তলে শোনে শ্যাম বেণুরব,
অপরূপ অভিনব প্রেম অনুভব, জাগে ব্রজ-গোপীকার প্রাণের মাঝে।।