আয় বনফুল ডাকিছে মলয়

বাণী

আয় বনফুল ডাকিছে মলয়
এলোমেলো হাওয়ায় নূপুর বাজায় , কচি কিশলয়।।
তোমরা এলে না ব'লে - ভোমরা কাদেঁ
অভিমানে মেঘ ঢাকিল চাদেঁ
'ভুল বঁধু ভুল' টুলটুলে মৌটুসি বুলবুলে কয়।।
কুহু যামিনীর তিমির টুটে
মুহু মুহু কুহু কুহরি ওঠে।
হে বন-কলি, গুণ্ঠন খোলো
হে মৃদুলজি্জিতা, লজ্জা ভোলো,
কোথা তার দুল দোলে নটিনী তটিনী খুজেঁ বনময়।।

আমি চাই পৃথিবীর ফুল ছায়া

বাণী

ঝর্না	: আমি চাই পৃথিবীর ফুল ছায়া ঢাকা ঘরে খেলা।
ব্রহ্মপুত্র	: আমি চাই দূর আকাশের তারা সাগরে ভাসাতে ভেলা।।
ঝর্না	: আমি চাই আয়ু, চাই আলো প্রাণ
ব্রহ্মপুত্র	: মরণের মাঝে মোর অভিযান,
উভয়ে	: মোরা একটি বৃন্তে যেন দু’টি ফুল প্রেম আর অবহেলা।।
ব্রহ্মপুত্র	: আমি বাহির ভুবনে ছুটে যেতে চাই উদাসীন সন্ন্যাসী,
ঝর্না	: হে উদাসীন! তব তপোবনে তাই উর্বশী হয়ে আসি।
ব্রহ্মপুত্র	: মোর ধ্বংসের মাঝে উল্লাস জাগে
ঝর্না	: তাই বাঁধি নিতি নব অনুরাগে,
উভয়ে	: মোরা চিরদিন খেলি এই খেলা, গ’ড়ে তোলা ভেঙে ফেলা।।

নাটক : `হরপার্বতী’ (ঝর্না ও ব্রহ্মপুত্রের দ্বৈত গান)

বন-বিহঙ্গ যাও রে উড়ে

বাণী

বন-বিহঙ্গ যাও রে উড়ে মেঘ্‌না নদীর পাড়ে
দেখা হলে আমার কথা কইয়ো গিয়া তারে।
কোকিল ডাকে বকুল-ডালে, যে-মালঞ্চে সাঁঝ-সকালে রে,
আমার বন্ধু কাঁদে সেথায় গাঙেরি কিনারে।।
গিয়া তারে দিয়া আইস আমার শাপ্‌লা-মালা
আমার তরে লইয়া আইস তাহার বুকের জ্বালা।
সে যেন রে বিয়া করে, সোনার কন্যা আনে ঘরে রে,
আমার পাটের জোড় পাঠাইয়া দিব সে-কন্যারে।।

আমার হরিনামে রুচি কারণ পরিণামে লুচি

বাণী

আমার হরিনামে রুচি, কারণ, পরিণামে লুচি
			আমি ভোজনের লাগি করি ভজন।
আমি মালপোর লোভে এ কল্পলোকে তল্পী বাঁধিয়া এসেছি মন।।
‘রাধা-বল্লভী’ লোভে পূজি রাধা-বল্লভে,
আসি রসগোল্লার তরে রাস মোচ্ছবে।
আমার গোল্লায় গেছে মন, দাদা গো, রসগোল্লায় গেছে মন।
ও তো রসগোল্লা কভু নয়
যেন ন্যাড়া-মাথা বাবাজী থালাতে হয়েন উদয়!
(আর) গজা দেখে প্রেম যে গজায় হৃদিতলে রে,
পানতোয়া দেখে প্রাণ নাচে হরি ব’লে রে!
ঐ গোলগাল মোয়া এই মায়াময় সংসার দেয় গো ভুলিয়ে,
আর ক্ষীরের খোয়াতে খোয়াইতে কুল মন ওঠে চুলবুলিয়ে।
(আমার) মন বলে হরি হরি হাত বলে হর হে,
যত অরসিকে তেড়ে আসে বলে ব্যাটায় ধর হে!
আর এই সংসারে রসিক শুধু রাঁধুনী ও ময়রাই —
সেই দুই ভাই আজি এসেছে রে!
যারা ময়দা খেয়ে মালপো ঢালে
সেই দুই ভাই আজি এসেছে রে!
আমি চিনি মেখে গায় যোগী হব দাদা যাব ময়রার দেশে,
আর রসকরার কড়াই-এ ডুবিয়া মরিব গলে সন্দেশ ঠেসে।
ভোজন ভজহরি-র শোনো এই তথ্য
গো-ময় সংসারে ভজনই সত্য।।

যে নামে মা ডেকেছিল সুরথ

বাণী

যে নামে মা ডেকেছিল সুরথ আর শ্রীমন্ত তোরে।
সেই নাম তুই শিখিয়ে দে মা, ডাকব আমি তেমনি ক’রে।।
	বেদ-পুরাণে যে নাম শুনি
	যে নাম জপে ঋষি-মুনি
সেই নাম দে, যে নাম নিতে বক্ষ ভাসে অশ্রু-নীরে।।
ভয় যদি তোর ভক্তি দিতে, কর মা অসুর দানব মোরে
আসবি যখন শাস্তি দিতে, দেখব তোরে নয়ন ভরে।।
	তোর হাতে মা মরণ হলে
	ঠাঁই পাব যে তোরই কোলে
আঘাত করে ছেলেকে মা কাঁদে যেমন বক্ষে ধরে।।

মদির আঁখির সুধায় সাকি ডুবাও আমার

বাণী

মদির আঁখির সুধায় সাকি		ডুবাও আমার এ তনু মন
আজিকে তোমায় ও আমায়	বেদনার বাসর জাগরণ।
মঙ্গালস ও আঁখি তব,		সাকি, দিল দোলা প্রাণে।।
বাদল-ছাওয়া এ গুল-বাগিচায়	বুলবুল কাঁদে গজল গানে।।
গোলাবী গুলের নেশা		ছিল মোর ফুলেল ফাগুনে।
শুকায়ে গিয়াছে ফুলবন,		নাই গোলাব গুলিস্তানে।।
শুনি, সাকি তোমার কাছে		ব্যথা ভোলার দারু আছে —
হিয়া কোন অমিয়া যাচে		জান তুমি, খোদা জানে।।
দুখের পশরা লয়ে			বিফল কাঁদিয়া বৃথা (সাকি)।
সকলি গিয়াছে যখন		যাক ঈমান শ্যরাব পানে।।