বাজিয়ে বাঁশি মনের বনে

বাণী

বাজিয়ে বাঁশি মনের বনে এসো কিশোর বংশীধারী।
চূড়ায় আঁধার ময়ূর-পাখা বামে লয়ে রাধাপ্যারী।।
	আমার আঁধার প্রাণের মাঝে
	এসো অভিসারের সাজে,
নয়ন-জলের যমুনাতে উজান বেয়ে ছুটুক বারি।।
এমনি চোখে তোমায় আমি দেখতে যদি না পাই হরি,
দেখাও পদ্মপলাশ আঁখি, তোমার প্রেমে অন্ধ করি’।
হরি হে, ঘুচাও এবার মায়ার বেড়ী,
	পরাও তিলক কলঙ্কেরি,
শ্যাম রাখি কি কুল রাখি’ ভাব শ্যাম হে আর সইতে নারি।।

দেশ গৌড়-বিজয়ে দেবরাজ গগনে

বাণী

দেশ গৌড়-বিজয়ে দেবরাজ গগনে এলো বুঝি সমর-সাজে।
তাহারি মেঘ-মৃদঙ্গ গুরু গুরু আষাঢ়-প্রভাতে সহসা বাজে।।
	গহন কৃষ্ণ ঐরাবত-দল
	রবিরে আবরি’ ঘিরিল নভতল,
হানে খরশর বৃষ্টি ধারা জল — পবন-বেগে প্রতি ভবন-মাঝে।।
	বনের এলোকেশ বিজলি-পাশে
	বাঁধিয়া দেব্-সেনা অট্রহাসে।
	শ্যামল গৌড়ের অমল হাসি
	শস্যে-কুসুমে ওঠে প্রকাশি’,
অঙ্গে তাহার আঘাত-রাশি — দেব-আশীর্বাদ হয়ে বিরাজে।।

আন্‌মনে জল নিতে ভাসিল গাগরী

বাণী

আনমনে জল নিতে ভাসিল গাগরী
সাঁতার জানি না, আনি কলস কেমন করি।।
জানি না বলিব কি শুধাবে যবে ননদী
কাহার কথা ভাবে পোড়া মন নিরবধি
কলসি না ভাসিয়া ভাসিতাম আমি যদি
কি বলিব কেন মোর ভিজিল ঘাগরী।।
একেলা কুলবধূ, পথ বিজন, নদীর বাঁকে
ডাকিল বৌ–কথা–কও কেন হলুদ চাঁপার শাখে
বিদেশে শ্যাম আমার পড়ল মনে সেই সে ডাকে
ঠাঁই দে যমুনে, বুকে, আমিও ডুবিয়া মরি।।

তুমি ফুল আমি সুতো গাঁথিব মালা

বাণী

পুরুষ	:	তুমি ফুল আমি সুতো গাঁথিব মালা
স্ত্রী	:	সহিতে হবে মোরে সুচির জ্বালা॥
পুরুষ	:	দুলিবে গলে মোর বুকের’ পরে
স্ত্রী	:	ফেলে দিবে বাসি হলে নিশি-ভোরে
		বন-কুসুম ঝরি বনে নিরালা॥
পুরুষ	:	তব কুঞ্জ-গলি আসে দখিন-হাওয়া আসে চপল অলি
স্ত্রী	:	তা’রা রূপ-পিয়াসি তা’রা ছিঁড়ে না কলি।
		তা’রা বনের বাহিরে মোরে নেবে না কালা।
পুরুষ	:	তবে চলিয়া যাই আমি নিরাশা ল’য়ে
স্ত্রী	:	না, না, যেয়ো না যেয়ো না, থাক গো বুকে শিশির হয়ে।
পুরুষ	:	এসো নব প্রেমে করি বন উজালা।
দ্বৈত	:	এসো নব প্রেমে করি বন উজালা।

আমার আছে অসীম আকাশ

বাণী

আমার আছে অসীম আকাশ, তোমার আছে ঘর।
তোমার আছে পারের তরী, আমার বালুচর।।
	তোমার আছে কূলের আশা
	আমার অকূল স্রোতে ভাসা,
আমায় ডাকে (গো) দূর আলেয়া, তোমার প্রদীপ-কর।।
থাকুক তোমার দখিন হাওয়া, আমার থাকুক ঝড়,
তোমার তরে তরুর ছায়া, আমার তেপান্তর।
	তুমি ঘুমাও সুখের কোলে
	আমি ভুলে’ যাওয়ার দলে,
হারিয়ে তোমায় মোর ধরণী হলো বিপুলতর।।

মনে পড়ে আজ সে কোন্‌ জনমে

বাণী

মনে পড়ে আজ সে কোন জনমে বিদায় সন্ধ্যাবেলা –
আমি দাঁড়ায়ে রহিনু এপারে তুমি ওপারে ভাসালে ভেলা।।
সেই সে বিদায় ক্ষণে
শপথ করিলে বন্ধু আমার, রাখিবে আমারে মনে,
ফিরিয়া আসিবে খেলিবে আবার সেই পুরাতন খেলা।।
আজো আসিলে না হায়,
মোর অশ্রুর লিপি বনের বিহগী দিকে দিকে লয়ে যায়,
তোমারে খুঁজে না পায়।
মোর গানের পাপিয়া ঝুরে
গহন কাননে তব নাম লয়ে আজো পিয়া পিয়া সুরে;
গান থেমে যায়, হায় ফিরে আসে পাখী বুকে বিঁধে অবহেলা।।