সই পলাশ-বনে রঙ ছড়ালো কে

বাণী

সই,পলাশ-বনে রঙ ছড়ালো কে?
সেই রঙে রঙিন মানুষটিরে কাছে ডেকে দে,লো।
	সে ফাগুন জাগায় আগুন লাগায়,
	স্বপন ভাঙায় হৃদয় রাঙায় রে,
তা'রে ধরতে গেলে পালিয়ে সে যায় রঙ ছুঁড়ে চোখে।।
সে ভোরের বেলায় ভ্রমর হয়ে পদ্মবনে কাঁদে
তারা বাঁকা ধনুক যায় দেখা ঐ সাঁঝ-আকাশের চাঁদে।
	সেই গভীর রাতে আবির হাতে
	রঙ খেলে ফুল-পরীর সাথে লো
তার রঙিন সিঁথি দেখি প্রজাপতির পালকে।।

অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে

বাণী

অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে।
প্রদীপ-শিখা সম কাঁপিছে প্রাণ মম
তোমায়, হে সুন্দর, বন্দিতে!
সঙ্গীতে সঙ্গীতে।।
তোমার দেবালয়ে কি সুখে কি জানি
দু’লে দু’লে ওঠে আমার দেহখানি
আরতি –নৃত্যের ভঙ্গীতে।
সঙ্গীতে সঙ্গীতে।।
পুলকে বিকশিল প্রেমের শতদল
গন্ধে রূপে রসে টলিছে টলমল।
তোমার মুখে চাহি আমার বাণী যত
লুটাইয়া পড়ে ঝরা ফুলের মত
তোমার পদতল রঞ্জিতে।
সঙ্গীতে সঙ্গীতে।।

ওরে আয় অশুচি আয়রে পতিত

বাণী

ওরে		আয় অশুচি আয়রে পতিত এবার মায়ের পূজা হবে।
যেথা		সকল জাতির সকল মানুষ নির্ভয়ে মা’র চরণ ছোবে।
		(সেথা) এবার মায়ের পূজা হবে॥
সেথা		নাই মন্দির নাই পূজারি নাই শাস্ত্র নাইরে দ্বারী,
সেথা		মা বলে যে ডাকবে এসে মা তাহারেই কোলে লবে॥
মা		সিংহ-আসন হ’তে নেমে বসেছে দেখ্ ধূলির তলে
মার		মঙ্গল ঘট পূর্ণ হবে সবার ছোঁওয়া তীর্থ জলে।
মোরা		জননীকে দেখিনি, তাই ভাইকে আঘাত হেনেছে ভাই,
আজ		মাকে দেখে বুঝবি মোরা এক মা’র সন্তান সবে।
এবার		ত্রিলোক জুড়ে পড়বে সাড়া মাতৃ মন্ত্র মাভৈঃ রবে॥

তুমি সুন্দর কপট হে নাথ

বাণী

তুমি সুন্দর কপট হে নাথ! মায়াতে রাখ বিভোর।
তোমার ছলনা যে বোঝে না নাথ সেই সে দুঃখী ঘোর।।
	কত শত রূপে নিঠুর আঘাতে
	তুমি চাও নাথ তোমারে ভোলাতে
তবু যে তোমারে ভুলিতে পারে না ধরা দাও তারে চোর।।
কাঁদাও তাহারে নিশিদিন তুমি যপে যে তোমার নাম
তোমারে যে চাহে শত বন্ধনে বাঁধ তারে অবিরাম।
	সাগরে মিশাতে চায় বলে নদী
	জনম গোঁয়ায় কেঁদে নিরবধি
ভক্তে তেমনি দিয়াছ যে নাথ অসীম আঁখি - লোর।।

এ কি অপরূপ যুগল-মিলন

বাণী

এ কি অপরূপ যুগল-মিলন হেরিনু নদীয়া ধামে
বিষ্ণুপ্রিয়া লক্ষী যেন রে গোলক-পতির বামে।।
	এ কি অতুলন যুগল-মূরতি
	যেন শিব-সতী হর-পার্বতী,
জনক-দুহিতা সীতাদেবী যেন বেড়িয়া রয়েছে রামে।।
	গৌরের বামে গৌর-মোহিণী
	(যেন) রতি ও মদন চন্দ্র-রোহিণী
(তোরা) দেখে যা রে আজ মিলন-রাসে যুগল রাধা-শ্যামে।।

নাটক: ‘বিষ্ণুপ্রিয়া’

হরি হে তুমি তাই দূরে থাক স’রে

বাণী

হরি হে তুমি তাই দূরে থাক স’রে
হরি প্রভু বলে মোরা দূরে রাখি
পাষাণ দেউলে রাখিয়াছি হায় তোমারে পাষাণ করে॥
তোমায় চেয়েছিল গোপিনীরা
সেদিনও চেয়েছি মীরা ডেকে প্রিয়তম বলে
তোমায় গোপাল বলিয়া ডাকিয়া পাইল যশোদা মা শচী কোলে
অন্তরতম হতে নিশিদিন থাক তুমি অন্তরে॥
দেবতা ভাবিয়া পূজা দিই মোরা তুমি তাহা নাহি খাও
তুমি লুকায়ে ভিখারি সাজিয়া মোদের পাতের অন্ন চাও।
রাখাল ছেলের আধ খাওয়া ফল
কেড়ে খাও তুমি হে চির সজল
মোরা ভয় করি তাই লুকাইয়া থাক তুমি অভিমান ভরে॥