যবে তুলসীতলায় প্রিয় সন্ধ্যাবেলায়

বাণী

যবে		তুলসীতলায় প্রিয় সন্ধ্যাবেলায় তুমি করিবে প্রণাম,
তব		দেবতার নাম নিতে ভুলিয়া বারেক প্রিয় নিও মোর নাম।।
		একদা এমনি এক গোধূলি বেলা
		যেতেছিলে মন্দির-পথে একেলা,
		জানি না কাহার ভুল তোমার পূজার ফুল
				আমি লইলাম —
সেই		দেউলের পথ সেই ফুলেরই শপথ
প্রিয়,		তুমি ভুলিলে হায় আমি ভুলিলাম।।
		পথের দুঁধারে সেই কুসুম ফোটে — হায় এরা ভোলেনি,
		বেঁধেছিলে তরু শাখে লতার যে ডোর হের আজো খোলেনি।
		একদা যে নীল নভে উঠেছিল চাঁদ
ছিল		অসীম আকাশ ভরা অনন্ত সাধ,
আজি		অশ্রু-বাদল সেথা ঝরে অবিরাম।।

আসিলে কে গো অতিথি উড়ায়ে নিশান

বাণী

আসিলে কে গো অতিথি উড়ায়ে নিশান সোনালি!
ও চরণ ছুঁই কেমনে দুই হাতে মোর মাখা যে কালি।।
দখিনের হালকা হাওয়ায় আসলে ভেসে সুদূর বরাতী!
শবে’রাত আজ উজালা গো আঙিনায় জ্বলল দীপালি।।
তালি-বন ঝুমকি বাজায় গা ‘মোবারক-বাদ’ কোয়েলা।
উলসি’ উপচে প’ল পলাশ-অশোক-ডালের ঐ ডালি।।
প্রাচীন ঐ বটের ঝুরির দোলনাতে হায় দুলিছে শিশু।
ভাঙা ঐ দেউল-চূড়ে উঠ্‌ল বুঝি নৌ-চাঁদের ফালি।।
এলো কি অলখ্‌-আকাশ বেয়ে তরুণ হারুণ-আল্‌-রশীদ।
এলো কি আল্‌-বেরুণী, হাফিজ, খৈয়াম, কায়েস, গাজ্জালী।।
সানাইয়াঁ ভয়রোঁ বাজায়, নিঁদমহলায় জাগ্‌ল শাহজাদী।
কারুনের রূপার পুরে নূপুর-পায়ে আস্‌ল রূপ-ওয়ালী।।
খুশির এ বুলবুলিস্তানে মিলেছে ফরহাদ ও শিঁরি।
লাল এ লায়লি-লোকে মজনুঁ হর্দম চালায় পেয়ালী।।
বাসিফুল কুড়িয়ে মালা না-ই গাঁথিলি রে ফুল-মালি।
নবীনের আসার পথে উজাড় করে দে ফুল-ডালি।।

বল্ নাহি ভয় নাহি ভয়

বাণী

বল্‌	নাহি ভয় নাহি ভয়!
বল্‌	মাভৈঃ মাভৈঃ, জয় সত্যের জয়!
তুই	নির্ভর কর্‌ আপনার ‘পর আপন পতাকা কাঁধে তুলে ধর্‌
ওরে	যে যায় যাক্ সে, তুই শুধু বল্ ‘আমার হয়নি লয়’!
বল্‌	‘আমি আছি’, আমি পুরুষোত্তম, আমি চির-দুর্জয়!
বল্‌	মাভৈঃ মাভৈঃ, জয় সত্যের জয়!!
যে	গেল সে নিজেরে নিঃশেষ করি’ তোদের পাত্র দিয়ে গেল ভরি’!
ঐ	বন্ধ মৃত্যু পারেনি ক’ তাঁরে পারেনি করিতে লয়!
তাই	আমাদের মাঝে নিজেরে বিলায়ে সে আজি শান্তিময়
বল্‌	মাভৈঃ মাভৈঃ, জয় সত্যের জয়!!
ওরে	রুদ্র তখনি ক্ষুদ্রেরে গ্রাসে আগেই যবে সে ম’রে থাকে ত্রাসে
ওরে	আপনার মাঝে বিধাতা জাগিলে বিশ্বে সে নির্ভয়
এই	ক্ষুদ্র কারায় কভু কি ভয়াল ভৈরব বাঁধা রয়?
বল্‌	মাভৈঃ মাভৈঃ, জয় সত্যের জয়!!
ওরে	আত্ম-অবিশ্বাসী, ভয়ে-ভীত! কেন হেন ঘন অবসাদ চিত
বল্‌	পর-বিশ্বাসে পর-মুখপানে চেয়ে কি স্বাধীন হয়?
তুই	আত্মাকে চিন্, বল আমি আছি,’ ‘সত্য আমার জয়’!
বল্‌	মাভৈঃ মাভৈঃ, জয় সত্যের জয়!!

স্নিগ্ধ শ্যাম কল্যাণ রূপে রয়েছ

বাণী

স্নিগ্ধ শ্যাম কল্যাণ রূপে রয়েছ মোদেরে ঘেরি
তব অনন্ত করুণা ও স্নেহ নিশিদিন নাথ হেরি।।
	তব চন্দন-শীতল কান্তি
	সৌম্য-মধুর তব১ প্রশান্তি
জড়ায়ে রয়েছে ছড়ায়ে রয়েছে অঙ্গে ত্রিভুবনেরই।।
বাহিরে তুমি বন্ধু স্বজন আত্মীয় রূপী মম
অন্তরে তুমি পরমানন্দ প্রিয় অন্তরতম।
	নিবেদন করে তোমাতে যে প্রাণ
	সেই জানে তুমি কত মহান
যেমনি সে ডাকে সড়া দাও তাকে তিলেক কর না দেরি।।

১. চির

নিদাঘের খর তাপে ক্লান্ত এ ধরণী

বাণী

নিদাঘের খর তাপে ক্লান্ত এ ধরণী।
মাধুরী হারায়ে হল পাণ্ডুর বরণী।।
পিঙ্গল জটাজাল, তেজ তার অশনি।
বৈশাখী ভোরে স্মরি’ রুদ্রাণী জননী।।
ধূলি-ধূসরিত প্রসারিত অম্বর
বুক-ভরা তৃষা তার, চাহে সে নটবর,
শ্যামলী মেঘ-মালা, সেই তার জলধর —
দাহনের অবসানে জুড়াইবে আপনি।।

অরুণ কিরণ সুধা-স্রোতে ভাসাও প্রভু মোরে

বাণী

অরুণ কিরণ সুধা-স্রোতে, ভাসাও প্রভু মোরে।
গ্লানি পাপ তাপ মলিনতা, যাক ধুয়ে চিরতরে।।
প্রশান্ত স্নিগ্ধ তব হাসি, ঝরুক অশান্তি প্রাণে বুকে১
প্রভাত আলোর ধারা, যেমন ঝরে সব ঘরে।।
যেমন বিহগেরা জাগি ভোরে, আলোর নেশার ঘোরে
আকাশ পানে ..., বন্দে প্রেম-মনোহরে২।।

১. পান্ডুলিপিতে পরিবর্ত লাইন হিসেবে ‘সবারে আজ যেন ভালোবাসি’ লেখা আছে।
২. পান্ডুলিপিতে গানটির সঙ্গে কবি-কৃত স্বরলিপি আছে।