পুঁথির বিধান যাক পুড়ে

বাণী

পুঁথির বিধান যাক পুড়ে তোর, বিধির বিধান সত্য হোক!
(এই) খোদার উপর খোদকারী তোর মানবে না আর সর্বলোক।।
নানান মুনির নানান মত্‌ যে, মানবি বল্‌ সে কার শাসন?
				কয়জনার বা রাখবি মন?
একজনকে মানলে করবে আর এক সমাজ নির্বাসন, চারদিকে শৃঙ্খল বাঁধন!
সকল পথে লক্ষ্য যিনি চোখ পুরে নে তাঁর আলোক।।
জাতের চেয়ে মানুষ সত্য, অধিক সত্য প্রাণের টান
				প্রাণ-ঘরে সব এক সমান।
বিশ্ব-পিতার সিংহ-আসল প্রাণ বেদীতেই অধিষ্ঠান,
				আত্মার আসন তাইত প্রাণ।
জাত-সমাজের নাই সেথা ঠাই জগন্নাথের সাম্য লোক
				জগন্নাথের তীর্থ লোক।।
চিনেছিলেন খ্রিষ্ট, বুদ্ধ, কৃষ্ণ, মোহাম্মদ ও রাম
				মানুষ কী আর কী তার দাম!
(তাই) মানুষ যাদের করত ঘৃণা, তাদের বুকে দিলেন স্থান,
				গান্ধী আবার গান সে-গান।
(তোরা) মানব-শত্রু, তোদেরই হায় ফুটল না সেই জ্ঞানের চোখ।।

শাওন আসিল ফিরে

বাণী

শাওন আসিল ফিরে সে ফিরে এল না
বরষা ফুরায়ে গেল আশা তবু গেল না।
ধানী রং ঘাগরি, মেঘ–রং ওড়না
পরিতে আমারে মাগো, অনুরোধ ক’রো না
কাজরির কাজল মেঘ পথ পেল খুঁজিয়া
সে কি ফেরার পথ পেল না মা, পেল না।।
আমার বিদেশিরে খুঁজিতে অনুক্ষণ
বুনো হাঁসের পাখার মত উড়ু উড়ু করে মন।
অথৈ জলে মাগো, মাঠ–ঘাট থৈ থৈ
আমার হিয়ার আগুন নিভিল কই?
কদম–কেশর বলে, ‘কোথা তোর কিশোর’,
চম্পাডালে ঝুলে শূন্য দোলনা।।

তৃষিত আকাশ কাঁপে রে

বাণী

তৃষিত আকাশ কাঁপে রে।
প্রখর রবির তাপে রে।।
চাহিয়া তৃষ্ণার বারি
চাতক ওঠে ফুকারি’
করুণ-শান্ত বিলাপে রে।।
রুদ্রযোগী ও-কে দূর বিমানে,
নিমগ্ন রহিয়াছে যেন ধ্যানে।
শকুন্তলা সম ভয়ে
কাঁপে ধরা র’য়ে র’য়ে,
অগ্নি-ঋষির অভিশাপ রে।।

নমো নমঃ রাম-খুঁটি

বাণী

নমো নমঃ রাম-খুঁটি!
তুমি গাদিয়া বসেছ আমাদের বুকে, সাধ্য নাই যে উঠি।।
	তুমি নির্বিকার হে পরম পুরুষ
	আপনাতে আছ আপনি বেহুঁশ,
তব বাঁধন ছিঁড়িতে বৃথা টানাটানি এই বৃথা মাথা কুটোকুটি।।
	এই আইন কানুন আচার বিচার
	বিধি ও নিষেধ স্ত্রী পরিবার
	(বাংলায় যাকে বলে Wife)
শত নামে তুমি জগৎ মাঝার চাপিয়া আছ যে টুটি।।
	কত রূপে তব লীলার প্রকাশ (রাম খুঁটো হে!)
	কভু হও খুঁটো কভু হও বাঁশ,
কভু হাঁড়ি-কাঠ কভু ঘানি-গাছ ঘোরাও ধরিয়া ঝুঁটি।।
কখনো পাঁচনী-রুপে পিঠে পড় (ওরে বাবারে)
	কখনো জোয়াল রূপে কাঁধে চড়,
	কখনো কঞ্চি, বাঁশ চেয়ে দড়
কভু গুঁতো কভু লাঠি (ওরে বাবারে)।
ঠুঁটো ত্রিভঙ্গ হে প্রভু, তোমার এই ভয়ে মোরা গুটিসুটি।।

‘খুঁটোর ভয়’

ঝরঝর অঝোর ধারায় ঝুরছে

বাণী

ঝরঝর অঝোর ধারায় ঝুরছে মনে রঙের ঝুরি।
দোলন-খোঁপায় দোল্ দিয়ে যায় দুলাল-চাঁপার তরুণ কুঁড়ি।।
চঞ্চলতার আবেশ লেগে আঁচল আমার রয় না গায়ে,
জরীন্ ফিতার বাঁধন টু’টে ব্যাকুল বেণী লুটায় পায়ে।
খেল্‌ছে চোখে মন্মথ আজ রতির সাথে লুকোচুরি,
নাচের তালে আপনি বাজে চপল হাতে কাঁকন চুড়ি।।

এসো নূপুর বাজাইয়া যমুনা নাচাইয়া

বাণী

এসো নূপুর বাজাইয়া যমুনা নাচাইয়া
			কৃষ্ণ কানাইয়া হরি।
মাখি’গোখুর ধূলিরেণু গোঠে চরাইয়া ধেনু
			বাজায়ে বাঁশের বাঁশরি।।
গোপী চন্দন চর্চিত অঙ্গে
প্রাণ মাতাইয়া প্রেম তরঙ্গে
বামে হেলায়ে ময়ুর পাখা দুলায়ে তমাল শাখা
			দীপবনে, দাঁড়ায়ে ত্রিভঙ্গে।
এসো লয়ে সেই শ্যাম-শোভা ব্রজ বধু মনোলোভা
			সেই পীত বসন পরি’।।
এসো গগনে ফেলি নীল ছায়া
আনো পিপাসিত চোখে মেঘ মায়া।
এসো মাধব মাধবী তলে
এসো বনমালী বন-মালা গলে
এসো ভক্তিতে প্রেমে আঁখি জলে
এসো তিলক লাঞ্ছিত সুর নর বাঞ্ছিত
			বামে লয়ে রাই কিশোরী।।