ওরে ও দরিয়ার মাঝি মোরে নিয়ে যা

বাণী

ওরে ও দরিয়ার মাঝি! মোরে নিয়ে যা রে মদিনা।
তুমি মুর্শিদ হ'য়ে পথ দেখাও ভাই আমি যে পথ চিনি না।।  
	আমার প্রিয় হজরত সেথায়
	আছেন নাকি ঘুমিয়ে ভাই,
আমি প্রাণে যে আর বাঁচি না রে আমার হজরতের দরশ বিনা।। 
নদী নাকি নাই ও দেশে, নাও না চলে যদি —
আমি চোখের সাঁতার পানি দিয়ে বইয়ে দেব নদী। 
	ঐ মদিনার ধূলি মেখে
	কাঁদবো 'ইয়া মোহাম্মদ' ডেকে ডেকে রে —
কেঁদেছিল কারবালাতে, (ওরে) যেমন বিবি সাকিনা।।

প্রিয়ে! বলি ও প্রিয়ে! তুমি দেখ!

বাণী

		প্রিয়ে ... বলি ও-প্রিয়ে ... তুমি দেখ ...।
		[কাঁপা-কন্ঠে আবৃত্তির ঢঙে বলা হয়েছে]

পুরুষ	:	প্রিয়ে! বলি, ও প্রিয়ে! তুমি দেখ!
		দেখ বিরহের দাবানল জ্বলে গোঁফ-দাড়িতে।
স্ত্রী	:	ও-স’রে যা, সে আগুন লেগে যাবে শাড়িতে॥
পুরুষ	:	একে ভীষণ ফাগুন মাস
স্ত্রী	:	ওগো তাই বুছি হাঁসফাঁস ?
পুরুষ	:	কাপাস ফলের মত ফেটে পড়ে হিয়া গো,
স্ত্রী	:	প্রেম-তুলো বের হয়ে পড়ে ছড়াইয়া গো,
উভয়ে:	রব্ ওঠে ভোঁস্-ভাঁস্ হৃদি-রেলগাড়িতে॥
পুরুষ	:	আজি এ বিরহের কাঠ-ঠোক্রা, ঠোক্রায় প্রেমের টাকে,
স্ত্রী	:	ওগো এ হেন বেয়াধি হলে টাকে, মধ্যম-নারায়ণ তেল মাখে।
পুরুষ	:	হায়-হায়-হায়-হায়-হায়
		আমাদের মাঝে কে রচিবে মিলনের সাঁকো।
স্ত্রী	:	থাক্ থাক্, পুরুতঠাকুর ইঞ্জিনিয়ার
		তারে তাড়াতাড়ি ডাকো, ডাকো, একবার ডাকো না ?
উভয়ে:	আগুন লাগিল ওরে দাড়ি আর শাড়িতে
		যুগল মিলন হ’ল ধেড়ে আর ধাড়িতে॥

নতুন চাঁদের তক্‌বীর শোন্‌

বাণী

নতুন চাঁদের তক্‌বীর শোন্‌ কয় ডেকে ঐ মুয়াজ্জিন —
আসমানে ফের ঈদুজ্জোহার চাঁদ উঠেছে মুসলেমিন।।
এলো স্মরণ করিয়ে দিতে ঈদুজ্জোহার এই সে চাঁদ,
তোরা ভোগের পাত্র ফেল্‌ রে ছুঁড়ে ত্যাগের তরে হৃদয় বাঁধ।
কোরবানি দে তোরা, কোরবানি দে।।
প্রাণের যা তোর প্রিয়তম আজকে সে সব আন্‌,
খোদারই রাহে আজ তাহাদের কর রে কোরবান্‌।
কি হবে ঐ বনের পশু খোদারে দিয়ে,
তোর কাম-ক্রোধাদি মনের পশু জবেহ্‌ কর্‌ নিয়ে।
কোরবানি দে তোরা, কোরবানি দে।।
বিলিয়ে দেওয়ার খুশির শিরনি তশ্‌তরিতে আন,
পর্‌ রে তোরা সবাই ত্যাগের রঙিন পিরহান্‌।
মোদের যা কিছু প্রিয় বিলাব সবে
নবীর উম্মত তবে সকলে কবে।
কোরবানি দে তোরা, কোরবানি দে।।

আল্লা নামের দরখ্‌তে ভাই

বাণী

	আল্লা নামের দরখ্‌তে ভাই ফুটেছে এক ফুল।
তাঁরে	কেউ বলে মোস্তফা নবী, কেউ বলে রসুল।।
	পয়গম্বর ফেরেশ্‌তা হুর পরী ফকির ওলি
	খুঁজে জমিন আসমান ভাই দেখতে সে ফুল-কলি,
সে-ফুল	যে দেখেছে সেই হয়েছে বেহেশ্‌তি বুলবুল।।
	আল্লা নামের দরিয়াতে ভাই উঠলো প্রেমের ঢেউ
তারে	কেউ বলে আমিনা দুলাল, মোহম্মদ কয় কেউ,
সে-ঢেউ	যে দেখেছে সে পেয়েছে অকূলের কূল।।
	আল্লা নামের খনিতে ভাই উঠেছে এক মণি
	কোটি কোহিনূর ম্লান হয়ে যায় হেরি’ তার রোশ্‌নি,
সেই	মণির রঙে উঠল রেঙে ঈদের চাঁদের দুল
তারে	কেউ বলে মোস্তফা নবী, কেউ বলে রসুল।।

শ্রী রঘুপতি রাম লহ প্রণাম

বাণী

দ্বৈত	:	শ্রী রঘুপতি রাম
		লহ প্রণাম শ্রী রঘুপতি রাম
		নব দূর্বাদল শ্যাম অভিরাম।
স্ত্রী	:	সুরাসুর কিন্নর যোগী ঋষি নর
পুরুষ	:	চরাচর যে নাম জপে অবিরাম॥
স্ত্রী	:	সরযূ নদীর জল ছল ছল কান্তি
পুরুষ	:	ঢল ঢল অঙ্গ ললাটে প্রশান্তি
স্ত্রী	:	নাম স্মরণে টোটে শোক তাপ ভ্রান্তি
দ্বৈত	:	পদারবিন্দে মূরছিত কোটি কাম॥
স্ত্রী	:	জানকী বল্লভ সুঠাম অঙ্গ
পুরুষ	:	পরশে নিমেষে হয় হরধনু ভঙ্গ
দ্বৈত	:	রাবণ ভয় হরে যাঁহার নাম॥
স্ত্রী	:	পিতৃ সত্যব্রত পালনকারী
পুরুষ	:	চির বল্কলধারী কাননচারী
দ্বৈত	:	প্রজারঞ্জন লাগি সর্বসুখ ত্যাগী
		যে নামে ধরা হল আনন্দধাম॥

ভবানী শিবানী দশপ্রহরণধারিনী

বাণী

ভবানী শিবানী দশপ্রহরণধারিনী
দুখ-পাপ-তাপ হারিণী ভবানী।।
কলুষ-রিপু-দানব-জয়ী
জগৎ-মাতা করুণাময়ী
জয় পরমাশক্তি মাতা ত্রিলোকধারিণী।।

নাটিকাঃ ‘শ্রীমন্ত’