বাণী
হে নট-ভৈরবী আশাবরি। ওঠো গো অরুণ গান বিসরি’।। চেয়ে আছ জলভরা নয়নে, তীব্র নিদাঘ তাপ কোমল করি’।। পঞ্চমে কোয়েলিয়া ক’য়ে যায় প্রথম প্রহর দিবা ব’য়ে যায়, গুরু গঞ্জনা দিতে আসে ঐ — মুখ ভার করি’ তব ননদিনী তোড়ি।।
রাগ ও তাল
রাগঃ আশাবরী
তালঃ ত্রিতাল
হে নট-ভৈরবী আশাবরি। ওঠো গো অরুণ গান বিসরি’।। চেয়ে আছ জলভরা নয়নে, তীব্র নিদাঘ তাপ কোমল করি’।। পঞ্চমে কোয়েলিয়া ক’য়ে যায় প্রথম প্রহর দিবা ব’য়ে যায়, গুরু গঞ্জনা দিতে আসে ঐ — মুখ ভার করি’ তব ননদিনী তোড়ি।।
রাগঃ আশাবরী
তালঃ ত্রিতাল
মনে যে মোর মনের ঠাকুর তারেই আমি পূজা করি, আমার দেহের পঞ্চভূতের পঞ্চপ্রদীপ তুলে ধরি।। ফকির যোগী হয়ে বনে ফিরি না তার অন্বেষণে আমি মনের দুয়ার খুলে দেখি রূপের জোয়ার মরি মরি।। আছেন যিনি ঘিরে আমায় তারে আমি খুঁজব কোথায় সাগরে খুঁজে বেড়াই সাগর বুকে ভাসিয়ে তরী। মন্দিরের ঐ বন্ধ খোঁপে ঠাকুর কি রয় পূজার লোভে? পেতে রাখি ভক্তি বেদী আসবে নেমে প্রেমের হরি।।
রাগঃ ঝিঁঝিট-খাম্বাজ
তালঃ দাদ্রা

প্রিয়তম হে, বিদায় আর রাখিতে নারি, আশা-দীপ নিভে যায় দুরন্ত বায়।। কত ছিল বলিবার, হায় হ’লো না বলা ঝুঁরিতেছে চামেলির বন উতলা যেন অনন্ত দিনের দিকে হায় হায়।। কে কাঁদে দিকে দিকে হায় হায়।। রহিল ছড়ানো মোর প্রাণের তিয়াস হুতাস পবনে; জড়ানো রহিল মোর করুণ প্রীতি ধূসর গগনে। তুমি মোরে স্মরিও যদি এই পথে কোনদিন চলিতে প্রিয় নিশিভোরে ঝরা ফুল দ’লে যাও পায়।।
রাগঃ
তালঃ কাহার্বা

এখনো মেটেনি আশা এখনো মেটেনি সাধ। এখনো নয়ন মানে নাই তার চাহনির অপরাধ।। আজো ঢেউগুলি নীল সায়রের কোলে জল-তরঙ্গে ঝঙ্কার তোলে পিয়াসি চাতক আজো চেয়ে ফেরে বরষার পরসাদ।। কবে ফুটছিল রূপের কুসুম বনানীর লতা-গাছে, আজো গৌরী-চাঁপার রঙটুকু তার মরমে লাগিয়া আছে। চ'লে গেছে চাঁদ আলো আবছায় দাগ ফেলে হিয়া-আয়নার গায় থেমেছে কানুর বাঁশরি থামেনি যমুনার কলনাদ।। ঢাল পিয়ালে লাল সিরাজী নিত্য দোদুল তালে তালে আঁকবো বুকে প্রীতির ব্যথা রঙ্গিন নেশায় রঙ্গিন জালে।। মত্ত হবো চিত্ত হারা বেদনা ভরা বদমেজাজি করলে পাগল ব্যর্থ আশায় করলে প্রেমরে দাগাবাজি।। রঙ্গিন বঁধু তুমি শুধু, তুমি শুধু সত্যি হবে রঙ্গিন নেশায় রঙ্গিন পথে তুমি শুধু সাথী হবে।। শুল্ক তালু কণ্ঠ আমার দে রে আমার রুগ্ন গালে দে রে সাকি দে রে ঢেলে নিত্য দোদুল তালে তালে।।
রাগঃ
তালঃ দাদ্রা

নাচিছে নটনাথ, শঙ্কর মহাকাল। লুটাইয়া পড়ে দিবা-রাত্রির বাঘছাল আলো-ছায়ার বাঘ ছাল।। ফেনাইয়া ওঠে নীল-কণ্ঠের হলাহল, ছিঁড়ে পড়ে দামিনী অগ্নি-নাগিনী দল। দোলে ঈশান-মেঘে ধূর্জটি-জটাজাল।। বিষম ছন্দে বোলে ডমরু নৃত্য-বেগে, ললাট-বহ্নি দোলে প্রলয়ানন্দে জেগে। চরণ-আঘাত লেগে শ্মশানে কঙ্কাল।। সে নৃত্য-ভঙ্গে গঙ্গা-তরঙ্গে সঙ্গীত দুলে ওঠে অপরূপ রঙ্গে, নৃত্য-উছল জলে বাজে জলদ তাল।। সে নৃত্য-ঘোরে ধ্যান-নিমীলিত ত্রিনয়ন প্রলয়ের মাঝে হেরে নব সৃজন-স্বপন, জোছনা-আশিস্ ঝরে উছলিয়া শশী-থাল।।
নাটকঃ ‘আলেয়া’
রাগঃ মাঢ় মিশ্র
তালঃ কাওয়ালি
এ নহে বিলাস বন্ধু ফুটেছি জলে কমল এ যে ব্যথা রাঙা হৃদয় আঁখি জলে টলমল।। কমল মৃণাল দেহ ভরেছে কন্টক ঘায় শরণ লয়েছি গো তাই শীতল দীঘির জল।। ডুবেছি আজ কালো জলে কত যে জ্বালা স'য়ে শত ব্যথা ক্ষত লয়ে হইয়াছি শতদল।। কবি রে কোন ক্ষত মুখে ফোটে যে তোর গীত সুর সে ক্ষত দেখিল না কেউ দেখিল তোরে কেবল সে গীতি দেখিল না কেউ শুনিল গীতি কেবল।।
রাগঃ মান্দ
তালঃ কাহার্বা
