দাও শৌর্য দাও ধৈর্য্য

বাণী

দাও শৌর্য, দাও ধৈর্য্য, হে উদার নাথ,
			দাও প্রাণ।
দাও অমৃত মৃত জনে,
দাও ভীত –চিত জনে, শক্তি অপরিমাণ।
			হে সর্বশক্তিমান।।
দাও স্বাস্থ্য, দাও আয়ু,
স্বচ্ছ আলো, মুক্ত বায়ু,
দাও চিত্ত অ–নিরুদ্ধ, দাও শুদ্ধ জ্ঞান।
			হে সর্বশক্তিমান।।
দাও দেহে দিব্য কান্তি,
দাও গেহে নিত্য শান্তি,
দাও পুণ্য প্রেম ভক্তি, মঙ্গল কল্যাণ।
ভীতি নিষেধের ঊর্ধে স্থির,
রহি যেন চির — উন্নত শির
যাহা চাই যেন জয় করে পাই, গ্রহণ না করি দান।
			হে সর্বশক্তিমান।।

চলো সাম্‌লে পিছল পথ

বাণী

	চলো সাম্‌লে পিছল পথ গোরী।
	ভরা যৌবন তায় ভরা গাগরি।।
	নীর ভরণে এসে সখি নদী-তীর
	তীর খেয়ো না হৃদয়ে ডাগর আঁখির,
	জলে ভাসিবে নয়ন কিশোরী।।
	হৃদি নিঙাড়ি এ পথে প্রেমিক কত
সখি	করেছে রুধির-পিছল এ পথ,
	কেহ উঠিল না এ পথে পড়ি’।।
	তব ঘটের সলিল চাহিয়া সই
কত	তৃষ্ণা-আতুর পথিক দাঁড়ায়ে ঐ,
	মরুভূমে তুমি মেঘ-পরী।।

আমার সকল আকাশ ভ'রলো

বাণী

আমার সকল আকাশ ভ'রলো তোমার তনুর কমল-গন্ধে
আমার বন-ভবন ঘিরল মধুর কৃষ্ণ-মকরন্দে।।
	এলামেলো মলয় বহে
	বন্ধু এলো, এলো কহে
উজ্জ্বল হ'ল আমার ভুবন তোমার মুখ-চন্ধে।।
আমার দেহ-বীণায় বাজে তোমার চরণ-নূপুর-ছন্দ
সকল কাজে জাগে শুধু অধীর আনন্দ।
	আমার বুকের সুখের মাঝে
	তোমার উদাস বেণু বাজে
তোমার ছোওয়ায় আবেশ জাগে ব্যাকুল বেণীর বন্ধে।।

এসো মা পরমা শক্তিমতী

বাণী

এসো মা পরমা শক্তিমতী।
দাও শ্রী দাও কান্তি-আনন্দ-শান্তি অন্তরে বাহিরে দিব্য জ্যোতি।।
	দাও অপরাজেয় পৌরুষ শক্তি
	দাও দুর্জয় শৌর্য পরা-ভক্তি,
দাও সূর্য সম তেজ প্রদীপ্ত প্রাণ ঝঞ্ঝার সম বাধাহীন গতি।।
	এসো মা পরম অমৃতময়ী,
	নির্জিত জাতি হোক মৃত্যুজয়ী।
	পরম জ্ঞান দাও পরম অভয়
	রূপ-সুন্দর তনু প্রাণ প্রেমময়,
আকাশের মত দাও মুক্ত জীবন সকল কর্মে হও তুমি সারথি।।

কেন বারে বারে আমি এসে

বাণী

কেন বারে বারে আমি এসে’ ফিরে যাই তাহারি দুয়ারে।
পাষাণ ভাঙ্গিয়া বহিবে গো কবে নির্ঝর শত ধারে।।
পাষাণে গঠিত দেবতা বলিয়া গলে না হিয়া হায়,
বৃথা বেদীতলে কুসুম শুকায় দেউল আঁধারে।।

নাটক : ‘আলেয়া’

বেলা গেল সন্ধ্যা হ’ল

বাণী

বেলা গেল সন্ধ্যা হ’ল, (ওরে) এখন খোল আঁখি।
তুই সোনার খনির কাছে এসে ফিরলি ধূলা-মাখি।।
	এ সংসারের সার ছেড়ে তুই
	সং সেজে হায়, বেড়াস নিতুই,
যে তোরে ধন-রত্ন দিলো তারেই দিলি ফাঁকি।।
ভুলে রইলি যাদের নিয়ে, তাদের পেলি কোথা হতে,
তোর যাবার বেলায় কেউ কি সাথি হবে রে তোর পথে।
	এখনো তুই ডাক একবার
	নাইরে সীমা তাহার দয়ার,
সে-ই করবে ক্ষমা, ঘুম পাড়াবে শীতল বুকে রাখি।।