ও মা বক্ষে ধরেন শিব যে চরণ

বাণী

ও মা	বক্ষে ধরেন শিব যে চরণ শরণ নিলাম সেই চরণে
	জীবন আমার ধন্য হলো ভয় নাই মা আর মরণে।।
		যা ছিল মা মোর ত্রিলোকে
		তোকে দিলাম, দিলাম তোকে
	আমার ব’লে রইল শুধু তোর চরণের ধ্যান, এ মনে।।
তোর	কেশ নাকি মা মুক্ত হলো ছুঁয়ে তোর ওই রাঙা চরণ
	মুক্তকেশী, মুক্ত হবো ওই চরণে নিয়ে শরণ।
	তোর	চরণ-চিহ্ন বক্ষে এঁকে
		বিশ্বজনে বলবো ডেকে — মা
	‘দেখে যা কোন্ রত্ন রাজে আমার হৃদয়-সিংহাসনে’।।

হৃদয় যত নিষেধ হানে নয়ন ততই কাঁদে

বাণী

হৃদয় যত নিষেধ হানে নয়ন ততই কাঁদে।
দূরে যত পালাতে চাই নিকট ততই বাঁধে।।
	স্বপন শেষে বিদায় বেলায়
	অলক কাহার জড়ায় গো পায়,
বিধুর কপোল স্মরণ আনায় ভোরের করুণ চাঁদে।।
বাহির আমার পিছল হ’ল কাহার চোখের জলে,
স্মরণ ততই বারণ জানায় চরণ যত চলে।
	পার হতে চাই মরণ-নদী
	দাঁড়ায় কে গো দুয়ার রোধি’,
আমায় ওগো বে-দরদী ফেলিলে কোন্ ফাঁদে।।

জাগো অমৃত-পিয়াসি চিত

বাণী

জাগো অমৃত-পিয়াসি চিত
	আত্মা অনিরুদ্ধ
	কল্যাণ প্রবুদ্ধ।
জাগো শুভ্র জ্ঞান পরম
নব প্রভাত পুষ্প সম
	আলোক-স্নান-শুদ্ধ।।
সকল পাপ কলুষ তাপ দুঃখ গ্লানি ভোলো
পুণ্য প্রাণ-দীপ-শিখা স্বর্গ পানে তোলো।
বাহিরে আলো ডাকিছে জাগো তিমির কারারুদ্ধ।।
	ফুলের সম আলোর সম
	ফুটিয়া ওঠ হৃদয় মম
রূপ রস গন্ধে অনায়াস আনন্দে জাগো মায়া-বিমুগ্ধ।।

ওরে যোগ-সাধনা পরে হবে

বাণী

ওরে	যোগ-সাধনা পরে হবে নাম জপ্ তুই আগে।
	সকল কাজে সকাল সাঁঝে গভীর অনুরাগে।।
	ওরে	যে ঠাকুরে পরান যাচে
	সে	নামের মাঝে লুকিয়ে আছে,
যেমন	বীজের মাঝে মহাতরু সঙ্গোপনে জাগে।।
	বীজ না বুনে আগে ভাগেই ফসল খুঁজিস্ তুই,
	তাই চিরকাল পোড়ো জমি রইল মনের ভুঁই।
তোর	কোন্ পথ নাম জপের শেষে
	দেখিয়ে দেবেন তিনিই এসে,
তোর	জীবন হবে প্রেমে রঙীন রঙ যদি রে লাগে।
	তাঁর মধুর নামের রঙ যদি রে লাগে।।

ফুলের বনে আজ বুঝি সই

বাণী

ফুলের বনে আজ বুঝি সই
	রূপসায়রের ঢেউ লেগেছে।
ঘুমিয়ে পড়া শ্যাম-ভ্রমরা
	গুন্‌গুনিয়ে গান ধ’রেছে।।
	কুড়িয়ে পাওয়া কুসুম দলে
	ডুবিয়ে নিয়ে শিশির-জলে,
পরতে ধরা আপন গলে মালা গেঁথেছে।।
	প্রেম-পিয়াসীর বুকের কাঁদন
	জাগিয়ে দিল মলয় পবন,
পরান-বঁধুর কাজল নয়ন মনে জেগেছে।।

আজ সকালে সূর্য ওঠা সফল হলো মম

বাণী

আজ সকালে সূর্য ওঠা সফল হলো মম
ঘরে এলে ফিরে পরবাসী প্রিয়তম।।
	আজ প্রভাতের কুসুমগুলি
	সফল হলো ডালায় তুলি'
সাজির ফুলে আজ এ মালা হবে অনুপম।।
এতদিনে সুখের হলো প্রভাতী শুকতারা
ললাটে মোর সিঁদুর দিলো ঊষার রঙের ধারা।
	আজকে সকল কাজের মাঝে
	আনন্দেরই বীনা বাজে
দেবতার বর পেয়েছি আজ তপস্বিনীর সম।।