রহি' রহি' কেন আজো সেই মুখ মনে পড়ে

বাণী

রহি' রহি' কেন আজো সেই মুখ মনে পড়ে।
ভুলিতে তা'য় চাহি যত, তত স্মৃতি কেঁদে মরে।।
দিয়েছি তাহারে বিদায় ভাসায়ে নয়ন-নীরে,
সেই আঁখি-বারি আজো মোর নয়নে ঝরে।।
হেনেছি যে অবহেলা পাষাণে বাঁধিয়া হিয়া,
তারি ব্যথা পাষাণ সম রহিল বুকে চাপিয়া।
সেই বসন্ত ও বরষা আসিবে গো ফিরে ফিরে,
আসিবে না আর ফিরে অভিমানী মোর ঘরে।।

আমিনার কোলে নাচে হেলে দুলে

বাণী

আমিনার কোলে নাচে হেলে দুলে
শিশু নবী আহমদ রূপের লহর তুলে।।
রাঙা মেঘের কাছে ঈদের চাঁদ নাচে
যেন নাচে ভোরের আলো গোলাব গাছে।
চরণে ভ্রমরা গুঞ্জরে গুল ভুলে।।
সে খুশির ঢেউ লাগে আরশ কুরসি পাশে
হাততালি দিয়ে হুরী সব বেহেশতে হাসে
সুখে ওঠে কেঁপে হিয়া চরণ মূলে।।
চাঁদনি রাঙা অতুল মোহন মোমের পুতুল
আদুল গায়ে নাচে খোদার প্রেমে বেভুল
আল্লার দয়ার তোহ্ফা এলো ধরার কূলে।।

তোমায় দেখি নিতুই চেয়ে চেয়ে

বাণী

স্ত্রী	:	তোমায় দেখি নিতুই চেয়ে চেয়ে
		ওগো অচেনা বিদেশি নেয়ে॥
পুরুষ	:	যেতে এই পথে তরী বেয়ে
		দেখি নদীর ধারে তোমায় বারে বারে
		সজল কাজল বরণী মেয়ে॥
স্ত্রী	:	তোমার তরণীর আসার আশায়
		বসে থাকি কূলে কলস ভেসে যায়।
পুরুষ	:	তুমি পরো যে শাড়ি ভিন গাঁয়ের নারী
		আমি নাও বেয়ে যাই তারি সারি গান গেয়ে।
স্ত্রী	:	গাগরির গলায় মালা জড়ায়ে
		দিই তোমার তরে বঁধু স্রোতে ভাসায়ে॥
পুরুষ	:	সেই মালা চাহি’, নিতি এই পথে গো
		আমি তরী বাহি।
উভয়ে	:	মোরা এক তরীতে একই নদীর স্রোতে
		যাব অকূলে ধেয়ে॥

বনদেবী জাগো সহকার-করে

বাণী

বনদেবী জাগো সহকার-করে বাঁধো বল্লরি-কঙ্কণ।
আকাশে জাগাও তব নব কিশলয়-কেতন-কম্পন।।
	অশান্ত দক্ষিণা সমীরণ
	গেয়ে যাক বসন্ত আবাহন,
বনে বনে হোক ফুল-আল্‌পনা-অঙ্কন।।
মধূপ গুঞ্জরে ঝিল্লীর মণি-মঞ্জিরে তোলো ঝংকার,
মুহু মুহু কুহু রবে আনো আনন্দিত ছন্দ ধরণীতে অলকানন্দার।
	ঝরা পল্লব মর্‌মরে
	মৃদু ঝরনার ঝর্‌ঝরে,
মুখরিত হোক তব বন-ভূমি-অঙ্গন।।

নাহি কেহ আমার ব্যথার সাথী

বাণী

নাহি কেহ আমার ব্যথার সাথী,
জ্বলি পিল্‌সুজে একা মোমের বাতি।
পতঙ্গ সুখি, পুড়ে এক নিমেষে –
পুড়িয়া মরি আমি সারা রাতি।।
আসে যে সুখের দিনে বন্ধু রূপে,
অসময়ে যায় স’রে চুপে চুপে।
	উড়ে গেছে অলি
	ফুল ঝরেছে বলি’ – 
কাঁদি একাকী কণ্টক-শয্যা পাতি’।।
কেহ কারো নয় তবু প্রাণ কাঁদে
চকোর চাহে যেন সুদূর চাঁদে,
শুধু বেদনা পাই প্রেম-মোহে মাতি’।।

ফুটিল মানস মাধবী কুঞ্জে

বাণী

ফুটিল মানস-মাধবী-কুঞ্জে প্রেম কুসুম পুঞ্জে পুঞ্জে
মাধব, তুমি এসো হে।
হে মধু-পিয়াসী চপল মধুপ, হৃদে এসো হৃদয়েশ হে।
(নীল) মাধব, তুমি এসো হে।।
তুমি আসিলে না বলি’ শ্যামরায়
অভিমানে ফুল লুটায় ধূলায়
মাধব, তুমি এসো হে।।
বনমালী! বনে বন-ফুল হায়
হায়! শুকাইয়া যায়, আঁখিজলে তায়
জিয়াইয়া রাখি কত আর?
এসো গোপন পায়ে! চিতচোর এসো গোপন পায়ে!
যেমন নবনী চুরি করে খেতে, এসো শ্যাম সেই গোপন পায়ে।
যেমন নবনী চুরি করে খেতে এসো হে তেমনি গোপন পায়ে।
না হয় নূপুর খুলিও,
শ্যাম, যমুনায় থির নীরে বাঁশরির তানে না হয় লহরি না তুলিও!
যেমন নীরবে ফোটে ফুল,
যেমন নীরবে রেঙে ওঠে সন্ধ্যা-গগন-কুল —
এসো তেমনি গোপন পায়ে
অনুরাগ-ঘসা হরি-চন্দন শুকায়ে যায় —
আর রহিতে নারি, এসো হৃষিকেশ শ্যামরায়।।

১. পাঠান্তর :
মম মানস মাধবী লতার কুঞ্জে, এই তো প্রথম মধুপ গুঞ্জে।
(নীল) মাধব তুমি এসো হে, হে মধু পিয়াসী চপল মধুপ
হৃদে এসো হে হৃদয়েশ হে।
তোমার আমার পথ চেয়ে হায় অভিমানে ফুল লুটায় ধূলায়
(নীল) মাধব তুমি এসো হে।।
বনমালী বিনে বন ফুল হার
(হায়) শুকাইয়া যায় আঁখি জলে তায় জিয়াইয়া রাখি কত আর।
চিতচোর এসো গোপন পায়ে
যেমন নবনী চুরি করে খেতে, এসো শ্যাম সেই গোপন পায়ে।।
না হয় নূপুর খুলিও
(শ্যাম) যমুনার থির নীরে বাঁশরির তানে না হয় লহরি না তুলিও।
(যেমন) নীরবে ফোটে ফুল,
যেমন নীরবে রেঙে ওঠে সন্ধ্যা গগন কুল।
এসো তেমনি গোপন পায়ে
অনুরাগ-ঘষা হয়ে চন্দন শুকায়ে যায়।

নাটিকা : ‘ধ্রুব’