বঁধু আমি ছিনু বুঝি বৃন্দাবনের

বাণী

বঁধু	আমি ছিনু বুঝি বৃন্দাবনের রাধিকার আঁখি-জলে।
	বাদল সাঁঝের যুঁই ফুল হয়ে আসিয়াছি ধরাতলে।।
তাই	যেমনি মিলন সাধ ওঠে জেগে
তুমি	লুকাও হে চাঁদ বিরহের মেঘে,
আমি	পূবালী পবনে ঝরে যাই বনে দলগুলি যেই খোলে।।
বঁধু	এই বুঝি হায় নিয়তির লেখা মিলন আমার নহে —
	ক্ষনিকের শুভ-দৃষ্টি লভিয়া কাঁদিব পরম বিরহে।
			বুঝি মিলন আমার নহে —
		আসিব না আমি মাধবী নিশীথে
		বরষায় শুধু আসিব ঝুরিতে,
	অসহায় ধারা-স্রোতে ভেসে যাব, মালা হব নাকো গলে।।

মেঘ-মেদুর গগন কাঁদে হুতাশ পবন

বাণী

মেঘ-মেদুর গগন কাঁদে হুতাশ পবন
কে বিরহী রহি’রহি’দ্বারে আঘাত হানো।
শাওন ঘন ঘোর ঝরিছে বারি অঝোর
কাঁপিছে কুটির মোর দীপ নেভানো।।
বজ্রে বাজিয়া ওঠে তব সঙ্গীত,
বিদ্যুতে ঝলকিছে আঁখি-ইঙ্গিত,
চাঁচর চিকুরে তব ঝড় দুলানো, ওগো মন ভুলানো।।
এক হাতে, সুন্দর, কুসুম ফোটাও!
আর হাতে নিষ্ঠুর মুকুল ঝরাও।
হে পথিক, তব সুর অশান্ত ব‍ায়
জন্মান্তর হতে যেন ভেসে আসে হায়!
বিজড়িত তব স্মৃতি চেনা অচেনায় প্রাণ কাঁদানো।।

কত খুঁজিলাম নীল কুমুদ তোরে

বাণী

কত খুঁজিলাম নীল কুমুদ তোরে।
আছে নীল জল শূন্যে সরসী ভ’রে।।
উঠেছে আকাশে চাঁদ, ফুটেছে তারা
আছে সব একা মোর কুমুদ হারা,
অভিমানে সে কি গিয়াছে ঝ’রে।।

নাটক : ‘মহুয়া’

ভবনে ভুবনে আজি ছড়িয়ে গেছে রঙ

বাণী

ভবনে ভুবনে আজি ছড়িয়ে গেছে রঙ।
রাঙিল, মাতিল ধরা অভিনব ঢং।।
রাঙা বসন্ত হাসে নন্দন-আনন্দে
চিত্ত-শিখী নাচে মদালস-ছন্দে,
নাচিছে পরানে আজি তরুণ দূরন্ত বাজায়ে মৃদঙ।।
কামোদে নটে আমোদে ওঠে গান,
মাতিয়া ওঠে প্রাণ।
উতল যমুনা-জল-তরঙ্গ,
অঙ্গে অপাঙ্গে আজি খেলিছে অনঙ্গ,
পরানে বাজে সারং সুর কাফির সঙ্গ।।

ইরানের রূপ-মহলের শাহজাদী শিঁরি

বাণী

ইরানের রূপ-মহলের শাহজাদী শিঁরি! জাগো জাগো শিঁরি।
‘প্রিয়া জাগো’ ব’লে ফরহাদ ডাকে শোনো আজো রাতে ধীরি ধীরি।।
তুমি ধরা দিবে তারে বলেছিলে, বে-দরদি,
যদি পাহাড় কাটিয়া আনিতে পারে সে নদী।
হের গো শিলায় শিলায় আজি উঠিয়াছে ঢেউ
সেথা তব মুখ ছাড়া নাহি আর কেউ,
প্রেমের পরশে যেন মোমের পুতুল হয়েছে পাষাণ-গিরি।।
গলিল পাষাণ, তুমি গলিলে না ব’লে —
যে প্রেমিক মরেছিল তোমার পাষাণ-প্রতিমার তলে,
সেই বিরহীর রোদন যেন গো উঠিছে ভুবন ঘিরি’।।

১. আধো

নাটকঃ ‘মদিনা’

কার মঞ্জীর রিনিঝিনি বাজে

বাণী

কার মঞ্জির রিনিঝিনি বাজে — চিনি চিনি।
প্রাণের মাঝে সদা বাজে তারি রাগিণী।।
বন-শিরিষের জিরিজিরি পাতায়
ধীরি ধীরি ঝিরি ঝিরি নূপুর বাজায়,
তমাল-ছায়ায় বেড়ায় ঘুরে মায়া-হরিণী।।
আমার গানে তারি চরণের অনুরণনে
ছন্দ জাগে গন্ধে রসে রূপে বরণে। 
কান পেতে রই দুয়ার পাশে —
তারি আসার আভাস আসে,
ঝঙ্কার তোলে মনের বীণায় বীণ-বাদিনী।।