সাপুড়িয়া রে বাজাও বাজাও

বাণী

গানের শুরুতে নীচের কথাগুলি সাপুড়েদের মন্ত্র-পড়ার ঢংয়ে আবৃত্তি করা হয়েছে :-

[খা খা খা
তোর বক্ষিলারে খা
তারি দিব্যি ফণাতে তোর যে ঠাকুরের পা'
বিষহরি শিবের আজ্ঞ্যে দোহাই মনসা,
আমায় যদি কামড়াস খাস জরৎ-কারুর হাড়
নাচ নাগিনী ফণা তুলে, নাচ রে হেলেদুলে
মারলে ছোবল বিষ-দাঁত তোর অমনি নেব তুলে
বাজ তুবরী বাজ ডমরু বাজ, নাচ রে নাগ-রাজা।।]

সাপুড়িয়া রে —
বাজাও বাজাও সাপ-খেলানোর বাঁশি।
কালিদহে ঘোর উঠিল তরঙ্গ রে
কালনাগিনী নাচে বাহিরে আসি।।
ফণি-মনসার কাঁটা-কুঞ্জতলে
গোখরা কেউটে এলো দলে দলে রে
সুর শুনে ছুটে এলো পাতাল-তলের
বিষধর বিষধরী রাশি রাশি।।
শন-শন-শন-শন পুব হাওয়াতে
তোমার বাঁশি বাজে বাদলা-রাতে
মেঘের ডমরু বাজাও গুরু গুরু বাঁশির সাথে।
অঙ্গ জর জর বিষে
বাঁচাও বিষহরি এসে রে
এ কি বাঁশি বাজালো কালা, সর্বনাশী।।

ভক্তি ভরে পড় রে তোরা কলমা শাহাদাত

বাণী

ভক্তি ভরে পড় রে তোরা কলমা শাহাদাত।
আরশ হতে আনলেন নবী বেহেশ্‌তী দাওয়াত
			এই কল্‌মা শাহাদাত।।
পাপে তাপে আছিস্‌ ডুবে একবার বল ভুলে
কলমা শাহাদাতের বাণী, অমনি উঠবি কূলে,
নিভবে দোজখের আগুন পাবি শাফায়ত।।
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’-র তাবিজ বেঁধে হাতে
চল রে পথে দেখবি — আছেন নবীজী তোর সাথে,
(তোর) ইহলোকের পরলোকের মিটবে রে হসরত্।।

কিশোর রাখাল বেশে মেষ চারণে যায় নবী

বাণী

কিশোর রাখাল বেশে মেষ চারণে যায় নবী
নীল রেশমি রুমাল বেঁধে তার চারু-চাঁচর কেশে।
তাঁর রাঙা পদতলে পুলকে ধরা টলে
তাঁর রূপ -লাবনির ঢলে মরুভূমি গেল ভেসে।।
তাঁর মুখে রহে চাহি মেষ-শিশু তৃণ ভুলি‌'
বিশ্বের শাহানশাহ আজ মাখে গোঠের ধূলি,
তাঁর চরণ-নখরে কোটি চাঁদ কেঁদে মরে
তাঁর ছায়া ক'রে চলে আকাশে মেঘ এসে।।
কিশোর নবী গোঠে চলে
তাঁর চরণ-ছোঁয়ায় পথের পাথর মোম হয়ে যায় গ'লে
তসলিম জানায় পাহাড় চরণে ঝুকে তাঁহার।
নারাঙ্গি,আঙুর,খরজুর,পায়ে নজরানা দেয় হেসে।।

কেঁদে কেঁদে নিশি হল ভোর

বাণী

কেঁদে কেঁদে নিশি হল ভোর।
মিটিল না সাধ উঠিল না চাঁদ ফিরিল কেঁদে চকোর।।
	শিয়রে দীপ নিভিয়া আসে
	ভোরের বাতাস কাঁদে হতাশে,
মালার ফুল ঝরে নিরাশে — যেন মোর আঁখি লোর।।
	আমার নয়নে নয়ন রাখি’
	চাহে শুকতারা ছলছল আঁখি,
পাপিয়ার সনে পিয়া পিয়া ডাকি — এসো এসো চিতচোর।।

ভুলিতে পারিনে তাই আসিয়াছি পথ ভুলি

বাণী

ভুলিতে পারিনে তাই আসিয়াছি পথ ভুলি’।
ভোল মোর সে অপরাধ, আজি যে লগ্ন গোধূলি।।
এমনি রঙিন বেলায় খেলেছি তোমায় আমায়,
খুঁজিতে এসেছি তাই সেই পুরানো দিনগুলি।।
তুমি যে গেছ ভুলে – ছিল না আমার মনে,
তাই আসিয়াছি তব বেড়া–দেওয়া ফুলবনে।
গেঁথেছি কতই মালা এই বাগানের ফুল তুলি’—
আজও সেথা গাহে গান আমার পোষা বুলবুলি।।

আয় ওলো সই খেলবো খেলা

বাণী

আয় ওলো সই, খেলবো খেলা ফাগের ফাজিল পিচ্‌কিরিতে।
আজ শ্যামে জোর করব ঘায়েল হোরির সুরে গিট্‌কিরিতে।।
	বসন-ভূষণ ফেল্‌লো খুলে’,
	দে দোল্ দে দোল্ দোদুল-দুলে,
কর্ লালে-লাল কালায় কালো আবির হাসির টিট্‌কিরিতে।।