দীপ নিভিয়াছে ঝড়ে জেগে আছে মোর আঁখি

বাণী

দীপ নিভিয়াছে ঝড়ে জেগে আছে মোর আঁখি।
কে যেন কহিছে কেঁদে মোর বুকে মুখ রাখি’
	‘পথিক এসেছ না কি’।।
হারায়ে গিয়াছে চাঁদ জল-ভরা কালো মেঘে
আঁচলে লুকায়ে ফুল বাতায়নে আছি জেগে’
শূন্য গগনে দেয়া কহিতেছে যেন ডাকি’
	‘পথিক এসেছ না কি’।।
ভাঙিয়া দুয়ার মম কাড়িয়া লইতে মোরে
এলে কি ভিখারি ওগো প্রলয়ের রূপ ধ’রে?
ফুরাইয়া যায় বঁধু শুভ-লগনের বেলা
আনো আনো ত্বরা করি’ ওপারে যাবার ভেলা
‘পিয়া পিয়া’ ব’লে বনে ঝুরিছে পাপিয়া পাখি
	‘পথিক এসেছ না কি’।।

ঝিলের জলে কে ভাসালো নীল শালুকের ভেলা

বাণী

ঝিলের জলে কে ভাসালো নীল শালুকের ভেলা
		মেঘলা সকাল বেলা।
বেণু বনে কে খেলে রে পাতা ঝরার খেলা।
		মেঘলা সকাল বেলা।।
	কাজল বরণ পল্লী মেয়ে
	বৃষ্টি ধারায় বেড়ায় নেয়ে,
ব'সে দিঘীর ধারে মেঘের পানে রয় চেয়ে একেলা।।
দুলিয়ে কেয়া ফুলের বেনী শাপলা মালা প'রে
খেলতে এলো মেঘ পরীরা ঘুমতী নদীর চরে।
বিজলিতে কে দূর বিমানে, সোনার চুড়ির ঝিলিক হানে,
বনে বনে কে বসালো যুঁই-চামেলির মেলা।।

নীল কবুতর লয়ে নবীর দুলালী

বাণী

নীল কবুতর লয়ে নবীর দুলালী মেয়ে খেলে মদিনায়
দেহের জ্যোতিতে তার জাফরানি পিরহান ম্লান হয়ে যায়॥
	মুখে তার নবীজীর মুখেরি আদল
	আঁখি দুটি করুণায় সদা ঢল ঢল,
মেষ শাবকেরে ধরি মধুর মিনতি করি কলেমা শোনায়॥
জুম্মার মস্‌জিদে কোন্ সে ভক্ত পড়ে কোরান আয়াত,
অমনি সে খেলা ভুলি কচি দুটি হাত তুলে করে মোনাজাত।
	নীল দরিয়ার পানি নয়নে বহে
	‘উম্মতে কর ত্রাণ’ কাঁদিয়া কহে
হজরত কোলে তুলে ‘বেহেশ্‌ত্‌ রানী তুমি’ বলে ফাতেমায়॥

ও মন চল অকুল পানে

বাণী

	ও মন চল অকুল পানে, মাতি হরিপ্রেম-গুণগানে।
	নদী যেমন ধায় অকূলে কূল যত তায় টানে।।
তুই	কোন্ পাহাড়ে ঠেক্‌লি এসে কোন্‌ পাথারের জল
	হরির প্রেমে গ’লে এবার সেই অসীমে চল্,
তুই	স্রোতের বেগে দুল্‌বি রে কূল-বাধা যদি হানে।।
	এ পারের সব যাত্রী যাবে তোর বুকে ওপারে
	তোর কূলে শ্যাম বাজিয়ে বাঁশি আস্‌বে অভিসারে,
	শ্যামের ছবি ধর্‌বি বুকে মাত্‌বি প্রেম-তুফানে।।

মরুর ধুলি উঠলো রেঙে রঙিন গোলাপ রাগে

বাণী

মরুর ধুলি উঠলো রেঙে রঙিন গোলাপ রাগে
বুলবুলিরা উঠলো গেয়ে মক্কার গুলবাগে।।
	খোদার প্রেমের কোন দিওয়ানা
	দ্বারে দ্বারে দেয় রে হানা,
নবীন আশার আলোক পেয়ে, ঘুমন্ত সব জাগে।।
এ কোন তরণ প্রেমিক এলো কা'বার অঙ্গনে
সবুজ পাতার নিশান দোলায় শুকনো খেজুর বনে।
	এলো নব দীনের নকীব
	চির-চাওয়া খোদার হাবীব
নিখিল পাপী-তাপী যাঁহার পায়ের পরশ মাগে।।

প্রেম আর ফুলের জাতি কুল

বাণী

প্রেম আর ফুলের জাতি কুল নাই,
বুল্‌বুলি সে কথা ভুলিল কি হায়।
সে কেন তবে আসে না
রাতের ফুল মোর হাতে শুকায়।।
রাজ-বাগিচার ফুল হোক যত গরবী
পথের ফুলেও আছে তা’রি মত সুরভি,
রসের পুতলী হয় পথের ভিখারিনী
		যদি প্রেম পায়।।