চাঁদিনী রাতে কানন-সভাতে আপন হাতে

বাণী

চাঁদিনী রাতে কানন-সভাতে আপন হাতে গাঁথিলে মালা।
সয়েছি বুকে নিবিড় সুখে তোমারি হাতের সূচিব জ্বালা।।
আজিও জাগে লোহিত রাগে রঙিন গোলাবে তাহারি ব‍্যথা
তব ও গলে দুলিব ব’লে দিয়েছি কুলে কলঙ্ক-কালা ।।
যদি ও গলে নেবে না তুলে কেন বধিলে ফুলের পরান
অভিমানে হায় মালা যে শুকায় ঝ’রে ঝ’রে যায় লাজে নিরালা।।

নাটকঃ‘আলেয়া’

মোরা ভেসে যাব কৃষ্ণ নামের স্রোতে

বাণী

মোরা ভেসে যাব কৃষ্ণ নামের স্রোতে গো
ঐ নাম ধরে গো, উঠব মোরা ব্রজধামের পথে।।
ঐ নামেরই মন্ত্র গুণে
পথের মানুষ গোঠের বেণু শোনে গো
ভুলের কূলে কূলে খেলে যে সে ওঠে ফুলের রথে।।
ঐ নাম পেল যে, সুমুখে তার শ্যাম গো
দেখা দেবার তরে নিতুই ঘোরে অবিরাম গো।
ঐ কৃষ্ণ নামের টানে
ধীরে ধীরে প্রেম যমুনা আনে।
ঐ নামের গুণে গঙ্গাধারা নামে হিমগিরি হতে।।

কেন রঙীন নেশায় মোরে রাঙালে

বাণী

কেন রঙীন নেশায় মোরে রাঙালে
কেন সহজ ছন্দে যতি ভাঙালে।।
শীর্ণা তনুর মোর তটিনীতে কেন
আনিলে ফেনিল জল-উচ্ছ্বাস হেন,
পাতাল-তলের ক্ষুধা মাতাল এ যৌবন —
		মদির-পরশে কেন জাগালে।।

নাটক : ‘আলেয়া’ (মাদালসার গান)

আজকে না হয় একটি কথা

বাণী

আজকে না হয় একটি কথা কইলে আবার মোর সাথে।
ওগো একটু না হয় বসলে এসে এই পাথরের পৈঠাতে।।
	শুধুই কি গো আমার আঁখি
	ঝিমায় মদির স্বপ্ন মাখি’,
ওগো তোমার কি চোখ ধরে নাকো ঢুলতে নেশার মৌতাতে।।
আজকে তোমার নয়ন আমার নয়ন হেরি’ লজ্জা পায়,
আজকে তোমার মুখের কথা শুধু্ই কি গো মুখ রাঙায়?
	ফাগুন হাওয়ার দোদুল দোলায়
	এই যে এসে দোল দিয়ে যায় —
ওগো মোরাই কি গো দুল্‌ব শুধু মান বিরহের দোল্‌নাতে।।

আসিলে কে গো অতিথি উড়ায়ে নিশান

বাণী

আসিলে কে গো অতিথি উড়ায়ে নিশান সোনালি!
ও চরণ ছুঁই কেমনে দুই হাতে মোর মাখা যে কালি।।
দখিনের হালকা হাওয়ায় আসলে ভেসে সুদূর বরাতী!
শবে’রাত আজ উজালা গো আঙিনায় জ্বলল দীপালি।।
তালি-বন ঝুমকি বাজায় গা ‘মোবারক-বাদ’ কোয়েলা।
উলসি’ উপচে প’ল পলাশ-অশোক-ডালের ঐ ডালি।।
প্রাচীন ঐ বটের ঝুরির দোলনাতে হায় দুলিছে শিশু।
ভাঙা ঐ দেউল-চূড়ে উঠ্‌ল বুঝি নৌ-চাঁদের ফালি।।
এলো কি অলখ্‌-আকাশ বেয়ে তরুণ হারুণ-আল্‌-রশীদ।
এলো কি আল্‌-বেরুণী, হাফিজ, খৈয়াম, কায়েস, গাজ্জালী।।
সানাইয়াঁ ভয়রোঁ বাজায়, নিঁদমহলায় জাগ্‌ল শাহজাদী।
কারুনের রূপার পুরে নূপুর-পায়ে আস্‌ল রূপ-ওয়ালী।।
খুশির এ বুলবুলিস্তানে মিলেছে ফরহাদ ও শিঁরি।
লাল এ লায়লি-লোকে মজনুঁ হর্দম চালায় পেয়ালী।।
বাসিফুল কুড়িয়ে মালা না-ই গাঁথিলি রে ফুল-মালি।
নবীনের আসার পথে উজাড় করে দে ফুল-ডালি।।

ফুরাবে না এই মালা গাঁথা মোর

বাণী

ফুরাবে না এই মালা গাঁথা মোর ফুরাবে না এই ফুল
এই হাসি ঐ চাঁপার সুরভি ভুল নহে, ভুল নহে, নহে ভুল॥
		জানি জানি মোর জীবনের সঞ্চয়,
		রসঘন-মাধুরীতে হবে মধুময়
তবে কেন আমার বকুল-কুঞ্জে বাঁশরি হইল আকুল॥
		কৃষ্ণা তিথিতে নাই যদি হাসে চাঁদ,
		ফুরাবে না মোর পূর্ণ রসের সাধ
যমুনার ঢেউ থাকুক আমার (আমি) নাই দেখিলাম কূল॥

চলচ্চিত্রঃ ‘দিকশূল’