যে ব্যথায় এ অন্তর-তল নিশিদিন উঠিছে দুলে

বাণী

যে ব্যথায় এ অন্তর-তল নিশিদিন উঠিছে দুলে'।
তারি ঢেউ এ সঙ্গীতে মোর মুরছায় সুরের কূলে।।
	ভালোবাসা তোমরা যারে
	দু'দিনেই ভোলো গো তারে (হায়)
শরতের সজল মেঘ-প্রায় কেঁদে যাও নিমেষে ভুলে।।
	কঠিন পুরুষেরি মন
	গলিয়া বহে গো যখন
বহে সে নদীর মতন চিরদিন পাষাণ-মূলে।।
আলোর লাগি' জাগে ফুল, নদী ধায় সাগরে যেমন,
চকোর চায় চাঁদ, চাতক মেঘ, যারে চায় তায় চাহে এই রে মন।
নিয়ে যায় সুদূর অমরায় পূজে তায় বাণী-দেউলে।।

চুড়ি কিঙ্কিনী রিনি রিন ঝিনি বীণ বাজায়ে চলে

বাণী

চুড়ি কিঙ্কিনী রিনি রিন ঝিনি বীণ বাজায়ে চলে
শুনি নদীর নীল জলে জোয়ার উথলে।।
বাজে পায়ে পাঁইজোর ঘুঙুর ঝুমুর ঝুমুর
গাহে পাপিয়া পিয়া পিয়া শুনি সে সুর
শত পরান হতে চায় ঐ চরণে নূপুর
হৃদি হতে চায় চাবি তাহার আঁচলে।।
পথিকে বধিতে কি নদীতে সে জলকে যায়
ছল চল বলি তাহার কলসিতে জল ছ’লকে যায়
কাজল-ঘন চোখে বিজলি জ্বালা ঝলকে যায়
মন-পতঙ্গ ধায় ঐ আঁখির অনলে
শুনি নদীর নীল জলে জোয়ার উথলে।।

নতুন নেশার আমার এ মদ

বাণী

নতুন নেশার আমার এ মদ বল কি নাম দেবো এরে বঁধুয়া।
গোপী চন্দন গন্ধ মুখে এর বরণ সোনার চাঁদ চুঁয়া।।
	মধু হ'তে মিঠে পিয়ে আমার মদ
	গোধূলি রং ধরে কাজল নীরদ,
প্রিয়েরে প্রিয়তম করে এ মদ মম, চোখে লাগায় নভোনীল ছোঁওয়া।।
	ঝিম্ হয়ে আসে সুখে জীবন ছেয়ে,
	পান্‌সে জোছনাতে পান্‌সি চলে বেয়ে,
মধুর এ মদ নববধূর চেয়ে আমার মিতালী এ মহুয়া।। 

আমায় যারা ঘিরে আছে

বাণী

আমায় যারা ঘিরে আছে আমার মুখে চেয়ে।
তারা আমার নহে হে নাথ, (তারা) তোমার ছেলে মেয়ে।।
	ওদের তুমি রেখো সুখে
	ধ’রে তোমার আপন বুকে
বাঁচুক ওরা তোমার আশির্বাদের প্রসাদ পেয়ে।।
	আমায় দিও দুর্ভাবনার বোঝা যত আছে
(নাথ)	থাকুক পরম নির্ভরতায় ওরা আমার কাছে।
	শুধু তোমার ভরসাতে নাথ
	আমি ওদের ধরেছি হাত,
তোমার স্নেহ মায়ের মত থাকুক ওদের ছেয়ে।।

সেদিন প্রভাতে অরুণ শোভাতে

বাণী

সেদিন প্রভাতে অরুণ শোভাতে হেসেছ বুকে মোর মধু-হাসিনী।
পরেছ গলায় আমার দেওয়া ফুল সে কি গো সবি ভুল বিজন-বাসিনী।।
		যেচেছ কত না আদর সোহাগ
		ক্ষণে অভিমান ক্ষণে অনুরাগ,
কত প্রিয় নামে ডেকেছ আমায় সে কি গো গেছ ভুলে মধুভাষিণী।।
		আমার সাধ-আশ-সাধনা-সুখ-হাসি
		তোমার সনে প্রিয় সকলি গেছে ভাসি,
কেন ফেলে দিলে নিরাশার কূলে, কোন্ অপরাধে বল উদাসিনী।।

দোল ফাগুনের দোল লেগেছে

বাণী

দোল ফাগুনের দোল লেগেছে, আমের বোলে দোলন-চাঁপায়।
মৌমাছিরা পলাশ-ফুলের গেলাশ ভ’রে মউ পিয়ে যায়।।
		শ্যামল পাতার কোলে কোলে
		আবির-রাঙা কুসুম দোলে,
দোয়েল শ্যামা লহর তোলে কৃষ্ণচূড়ার ফুলেল শাখায়।।
বন-গোপিনী ফুল ছুঁড়ে ঐ খেলে হোরী দখিন-বায়ে,
হলদে পাখি দোদুল দুলে সোনাল শাখায় আদুল গায়ে।
		ভাঁট-ফুলের ঐ নাট-দেউলে
		রঙিন প্রজাপতি দুলে,
মন ছুটে যায় দূর গোকুলে, বৃন্দাবনে প্রেম যমুনায়।।