আজি চৈতী হাওয়ার মাতন লাগে

বাণী

আজি	চৈতী হাওয়ার মাতন লাগে হলুদ চাঁপার ডালে ডালে।
	তালী বনে বাজে তারি করতালি ঐ তালে তালে।।
		ভ্রমর মুখে গুনগুনিয়ে
		যায় সে মৃদু সুর শুনিয়ে
	শুকনো পাতার মর্মরে তার নূপুর বাজে রুনুঝুনিয়ে।।
	ফুলে পাতায় রঙ মাখায় সে ফিকে সবুজ নীলে লালে
আজি	ওড়ে তাহার রঙের নিশান প্রজাপতির পাখার পালে পালে।।

রেকর্ড-নাটিকা, ‘বাসন্তিকা’

কেন তুমি কাঁদাও মোরে হে মদিনাওয়ালা

বাণী

কেন তুমি কাঁদাও মোরে, হে মদিনাওয়ালা!
অবরোধবাসিনী আমি কুলের কুলবালা।।
ঈদের চাঁদের ইশারাতে কেন ডাক নিঝুম রাতে,
হাসিন ইউসুফ! জুলেখারে কত দিবে জ্বালা।।
একি লিপি পাঠালে নাথ কোরানের আয়াতে —
পড়তে গিয়ে অশ্রু-বাদল নামে আঁখি-পাতে।
বাজিয়ে শাহাদতের বাঁশি কেন ডাক নিত্য আসি';
হাজার বছর আগে তোমায় দিয়েছি তো মালা।।

দূর প্রবাসে প্রাণ কাঁদে আজ

বাণী

দূর প্রবাসে প্রাণ কাঁদে আজ শরতের ভোর হাওয়ায়।
শিশির-ভেজা শিউলি ফুলের গন্ধে কেন কান্না পায়।।
সন্ধ্যা বেলার পাখির সম মন উড়ে যায় নীড়-পানে।
নয়ন-জলের মালা গাঁথে বিরহিণী এক্‌লা, হায়।।
কোন্ সুদূরে নওবতে কার বাজে সানাই যোগিয়ায়।
টলমল টলিছে মন কমল-পাতে শিশির-প্রায়।।
ফেরেনি আজ ঘরে কে হায় ঘরে যে আর ফিরবে না।
কেঁদে কেঁদে তারেই যেন ডাকে বাঁশি, ‘ফিরে আয়’।।

নাচে ঐ আনন্দে নন্দ-দুলাল

বাণী

নাচে ঐ আনন্দে নন্দ-দুলাল
তাতা থৈ তাতা থৈ — নাচে বৃন্দাবনে হরি ব্রজ-গোপাল।।
ছন্দ নামে, দক্ষিণে বামে,
টলে বাঁকা শিখী-পাখা।
উছল যমুনা-জলে বাজিছে তাল।
		নাচে নন্দ-দুলাল।।
বিরাট খেলে হের আজ শিশুর রূপে,
স্বর্গে কাঙাল করি’ ধরায় এলো চুপে চুপে।
এত রূপ কেমনে দেখি,
দিলে কেন দুটি আঁখি
তাহে আবার পলক পড়ে;
আজি বিশ্ব-পালক হ’ল বালক রাখাল।।

সখি তখন আমার বালিকা বয়স

বাণী

সখি তখন আমার বালিকা বয়স বেণু শুনেছিনু যবে।
আমি বুঝিনি সেদিন, ডাকে বাশুরিয়া আমারেই বেণু রবে, 
				সখি, আমারেই বেণু রবে।।
তার বাঁশরির সুরে মাঝে মাঝে সখি শিহরিয়া উঠিতাম গো —
মনে হ’ত ঐ সুরের আড়ালে আছে যেন মোর নাম গো।
ডাকিত — ‌‘রাধা জাগো, জাগো প্রিয়া’,
হের গো যমুনা তোমার বিরহে উঠিয়াছে উথলিয়া।।
শিহরিত কলেবর, জাগিত ভীতি গো,
ও কি পূর্বানুরাগ, ও কি প্রথম প্রীতি গো।সখি গো — 
সখি, হেরিনু স্বপনে নব জলধর রসে-ঢলঢল কালা
মোর বুকে এসে কাঁদে, বলে লহ, রাধে, কণ্ঠের বনমালা
তার শিরে শিখি-পাখা, চাঁচর চিকুর দোলে কপোলের কাছে লো
দোলে দোলে দোলে দোলে গো —
সে বাঁশী রেখে পায় মুখপানে চায়, কি যেন ভিক্ষা যাচে।।
আমি দিতে যে নারি লো, যাহা চায় তাহা আমি দিতে যে নারি লো;
ও বোঝে না কুলবতী কুলের বাধা,
দিতে যে নারী লো, দিতে যে নারি লো।

আয় ওলো সই খেলবো খেলা

বাণী

আয় ওলো সই, খেলবো খেলা ফাগের ফাজিল পিচ্‌কিরিতে।
আজ শ্যামে জোর করব ঘায়েল হোরির সুরে গিট্‌কিরিতে।।
	বসন-ভূষণ ফেল্‌লো খুলে’,
	দে দোল্ দে দোল্ দোদুল-দুলে,
কর্ লালে-লাল কালায় কালো আবির হাসির টিট্‌কিরিতে।।