বলেছিলে তুমি ভালোবাস মোরে

বাণী

বলেছিলে তুমি ভালোবাস মোরে, মোর হাতখানি ধ’রে।
সেই দুটি কথা ভুলিতে পারি না, নিশিদিন মনে পড়ে।।
		সেই কথা যবে মনে জাগে
		সারা দেহে শিহরণ লাগে,
মোর হৃদয়ের পুষ্পাঞ্জলি অশ্রু হইয়া ঝরে।।
পথ চেয়ে থাকি’ মনে মনে ডাকি, তেমনি সন্ধ্যা হল,
সেদিন যে কথা বলেছিলে বঁধু, আবার সে কথা বল।
	প্রিয়	সেদিনের মত এসে
	মোর	হাত ধর ভালোবেসে,
হের ছিন্নলতার মত সেই হাত প’ড়ে আছে অনাদরে।।

আয় বনফুল ডাকিছে মলয়

বাণী

আয় বনফুল ডাকিছে মলয়
এলোমেলো হাওয়ায় নূপুর বাজায় , কচি কিশলয়।।
তোমরা এলে না ব'লে - ভোমরা কাদেঁ
অভিমানে মেঘ ঢাকিল চাদেঁ
'ভুল বঁধু ভুল' টুলটুলে মৌটুসি বুলবুলে কয়।।
কুহু যামিনীর তিমির টুটে
মুহু মুহু কুহু কুহরি ওঠে।
হে বন-কলি, গুণ্ঠন খোলো
হে মৃদুলজি্জিতা, লজ্জা ভোলো,
কোথা তার দুল দোলে নটিনী তটিনী খুজেঁ বনময়।।

চারু চপল পায়ে যায়

বাণী

চারু চপল পায়ে যায় যুবতী গোরী।।
আঁচলের পাল তুলে সে চলে ময়ূর-পঙ্খি-তরী।।
	আয়রে দেখবি যদি
	ভাদরের ভরা নদী,
চলে কে বে-দরদি — ভেঙে কূল গিরি-দরি।।
	মুখে চাঁদের মায়া
	কেশে তমাল-ছায়া,
এলোচুলে দুলে দুলে নেচে চলে হাওয়া-পরী।।
	নয়ন-বাণে মারে প্রাণে
	চরণ-ছোঁয়ায় জীবন দানে,
মায়াবিনী যাদু জানে — হার মানে ঊর্বশী অপ্সরী।।

আমার সকলি হরেছ হরি

বাণী

আমার	সকলি হরেছ হরি এবার আমায় হ’রে নিও।
যদি	সব হরিলে নিখিল-হরণ তবে ঐ চরণে শরণ দিও।।
আমায়	ছিল যারা আড়াল ক’রে 
	হরি তুমি নিলে তাদের হ’রে,
ছিল	প্রিয় যারা গেল তারা (হরি) এবার তুমিই হও হে প্রিয়।।

সেই মিঠে সুরে মাঠের বাঁশরি বাজে

বাণী

সেই মিঠে সুরে মাঠের বাঁশরি বাজে।
নিঝুম নিশীথে ব্যথিত বুকের মাঝে॥
	মনে প’ড়ে যায় সহসা কখন
	জল ভরা দু’টি ডাগর নয়ন,
পিঠ-ভরা চুল সেই চাঁপা ফুল ফেলে ছু’টে যাওয়া লাজে॥
হারানো সে-দিন পাব না গো আর ফিরে,
দেখিতে পাব না আর সেই কিশোরীরে।
	তবু মাঝে মাঝে আশা জাগে কেন
	আমি ভুলিয়াছি ভোলেনি সে যেন,
গোমতীর তীরে পাতার কুটীরে (সে) আজও পথ চাহে সাঁঝে।

ঝুমকো-লতার চিকন পাতায়

বাণী

ঝুমকো-লতার চিকন পাতায়
হেরেছি তোমার লাবনি প্রিয়া।
মহুয়া-ফুলের মদির গন্ধে
তোমারই মুখ-মদের অমিয়া।।
শুকতারায় তব নয়নের মায়া,
তমাল-বনে তারি স্নিগ্ধ-ঘন-ছায়া।
তাল পিয়ালে হেরি দীঘল তনু তব,
ইহুদী দুল্ দুলে শশী-লেখায় নব।।
ডালিম-দানাতে তব গালের লালী,
তোমারি সুরে গাহে পিয়া-পাপিয়া।।