আজি মধুর গগন মধুর পবন

বাণী

আজি মধুর গগন মধুর পবন মধুর ধরতীধাম
আয়ে ব্রিজমে ঘনশ্যাম।
বাজত বনমে মধুর মুরলী বোলাতা রাধা নাম
আয়ে ব্রিজমে ঘনশ্যাম।
আজ থির যমুনা আধীর ভায়ি
আয়ে গোকুলকে চাঁদ অন্ধেরি গ্যয়ি,
বোলে কোয়েলিয়া ময়ূর পাপিহা পিয়া পিয়া অবিরাম।।
ব্রিজকে কোঁয়ারি বনকে যোগিনী রোতি থী বিরহ মে,
আজ লেকে গাগরি ওড়ে নীল শাড়ি চলে ফের নীর ভরণে।
	আজ হরিকে সাথ হরিভি আয়ে
	রাঙা আবিরমে গোকুল ছায়ে,
বনশী বাজাওয়ে রসিয়া গারে বিভোর ব্রিজধাম।।

নিশীথ হয়ে আসে ভোর

বাণী

নিশীথ হয়ে আসে ভোর, বিদায় দেহ প্রিয় মোর।
রজনী-গন্ধ্যার বনে হের গুঞ্জরিছে ভ্রমর।।
হের ঐ তন্দ্রা ঢুলু ঢুল্, জড়ায়ে হাতে এলোচুল।
বধূ যায় সিনান-ঘাটে পথে লুটায় বসন-আকুল।।
খোল খোল বাহুর মালা, মোছ মোছ প্রিয়া আঁখি,
শোন্ কুঞ্জ-দ্বারে তব কুহু মুহু মুহু ওঠে ডাকি’।
হের লো, শিয়রে তব প্রদীপ হয়ে এলো ম্লান,
দাঁড়াল রাঙা ঊষা ঐ রঙের সাগরে করি’ স্নান।
আকাশ-অলিন্দে কাঁদে পাণ্ডুর-কপোল শশী,
শুকতারা নিবু-নিবু ঐ, মলয়া উঠে উছসি,।
কাঁদে রাতের আঁধার মোর বুকে মুখ রাখি’।।

ভুল করেছি ওমা শ্যামা

বাণী

		ভুল করেছি ওমা শ্যামা বনের পশু বলি দিয়ে।
(তাই)		পূজিতে তোর রাঙা চরণ এলাম মনের পশু নিয়ে॥
			তুই যে বলিদান চেয়েছিস
			কাম-ছাগ, ক্রোধ-রূপী মহিষ,
		মা তোর পায়ে দিলাম লোভের জবা মোহ-রিপুর ধূপ জ্বালিয়ে॥
মাগো		দিলাম হৃদয়-কমন্ডলুর মদ-সলিল তোর চরণে,
		মাৎসর্য্যের পূর্ণাহুতি দিলাম পায়ে পূর্ণ মনে।
			ষড় রিপুর উপচারে
			যে পূজা চাস্ মা বারে বারে
		সেই পূজারই মন্ত্র মাগো ভক্তরে তোর দে শিখিয়ে॥

ভুল করে আসিয়াছি অপরাধ যেয়ো ভুলে

বাণী

ভুল করে আসিয়াছি অপরাধ যেয়ো ভুলে’।
দেবতা চাহে কি ফুল মরে যবে পদমূলে।।
	ভুলে গেছি স্বপন-ঘোরে
	তুমি যে ভুলেছ মোরে,
তবু খুঁজি স্মৃতির রেখা ভাঙন-ধরা মনের কূলে।।
নাহি মনে — ব্যথা দিয়ে কবে কথা কয়েছিলে
বিশ্ব আমার শূন্য ক’রে কবে বঁধু বিদায় নিলে,
হাসি-মুখখানি শুধু মনে ওঠে দুলে’ দুলে’।।
আমার স্মৃতির চিতা পুড়িয়ে সে-কত বাকি
দেখিয়া চলিয়া যাব যে দেশে নাই তোমার আঁখি,
তুমি থাক হাসির দেশে, আমি হতাশার কূলে।।

ও ভাই হাজি! কোন্ কাবা ঘর

বাণী

ও ভাই হাজি! কোন্ কাবা ঘর হজ করিয়া এলে।
গিয়ে কি ভাই খোদায় পাওয়ার পথের দিশা পেলে।।
খোদার ঘরের দিদার পেয়ে বল কেমন ক’রে
ফিরে এলে দুনিয়াদারীর এই না-পাক ঘরে,
কেউ বলেছে কি কোন্ কাবাতে গেলে খোদায় মেলে।।
খেলেছিলেন নবীজী যে-মক্কা মদিনায়
বেহোঁশ হয়ে পড়নি কি পৌঁছিয়া সেথায়,
কেমন ক’রে ফিরে এলে সেই মদিনা ফেলে
এই দুনিয়ার কারবালাতে অধিক তৃষা আরো
এনেছ কি আব্হায়াতের পানি? দিতে পারো?
মোর আঁধার ঘরে দিতে পারো নূরের চেরাগ জ্বেলে?

একেলা গোরী জল্‌কে চলে গঙ্গাতীর

বাণী

একেলা গোরী জল্‌কে চলে গঙ্গাতীর
অঙ্গে ঢুলিয়া পড়ে লালসে অলস সমীর।।
কাঁকনে কলসে বাজে
কত কথা পথ মাঝে
		আঁচল চুমিছে শিশির।।
তটিনীতে চলে কি গো
সোনার বরণ মায়া-মৃগ
		নয়নে আবেশ মদির।।