দূর আজানের মধুর ধ্বনি বাজে বাজে

বাণী

দূর আজানের মধুর ধ্বনি বাজে বাজে মসজিদেরই মিনারে।
এ কী খুশির অধীর তরঙ্গ উঠলো জেগে’ প্রাণের কিনারে।।
মনে জাগে হাজার বছর আগে
	ডাকিত বেলাল এমনি অনুরাগে,
তাঁর খোশ এলেহান, মাতাইত প্রাণ গলাইত পাষাণ ভাসাইত মদিনারে
		প্রেমে ভাসাইত মদিনারে।।
তোরা ভোল গৃহকাজ, ওরে মুসলিম থাম
চল খোদার রাহে, শোন, ডাকিছে ইমাম।
মেখে’ দুনিয়ারই খা, বৃথা রহিলি না-পাক,
চল মসজিদে তুই, শোন মোয়াজ্জিনের ডাক,
তোর জনম যাবে বিফলে যে ভাই এই ইবাদতে বিনা রে।।

নদীর স্রোতে মালার কুসুম ভাসিয়ে দিলাম প্রিয়

বাণী

নদীর স্রোতে মালার কুসুম ভাসিয়ে দিলাম, প্রিয়!
আমায় তুমি নিলে না, মোর ফুলের পূঁজা নিও।।
	পথ-চাওয়া মোর দিনগুলিরে
	রেখে গেলাম নদীর তীরে
আবার যদি আস ফিরে- তুলে গলায় দিও।।
নিভে এলো পরান -প্রদীপ পাষাণ-বেদীর তলে,
জ্বালিয়ে তা'রে রাখব কত শুধু চোখের জলে।
	তারা হয়ে দুর আকাশে
	রইব জেগে' তোমার আশে
চাঁদের পানে চেয়ে চেয়ে' আমারে স্মরিও।।

নিশির নিশুতি যেন হিয়ার ভিতরে গো

বাণী

নিশির নিশুতি যেন হিয়ার ভিতরে গো,
সে বলেও না টলেও না থমথম করে গো॥
যেন নতুন পিঞ্জরের পাখি, ঘেরা টোপে ঢাকা থাকি
জটিলা-কুটিলার ভয়ে আছি আমি ম’রে গো॥
যেন চোরের বউ কান্‌তে নারি ভয়ে ফুকারিয়া গো,
আমি রান্না ঘরে কান্না লুকাই লঙ্কা-ফোড়ন দিয়া গো।
ব্যথার ব্যথী পাইরে কোথা, জানাই যা’রে মনের ব্যথা
বুকে ধিকি ধিকি তুষের আগুন জ্ব’লবে চিরতরে
বুঝি জ্ব’লবে জনম ভ’রে গো॥

সাগর হ’তে চুরি ডাগর তার আঁখি

বাণী

সাগর হ’তে চুরি ডাগর তার আঁখি।
গভীর চাহনীতে করুণা মাখামাখি।।
সফরী সম তাহে ভাসিছে আঁখি-তারা,
তাহারি লোভে যেন উড়িছে ভুরু-পাখি।।
দুলে তরঙ্গ তাহে কভু ঘোর কভু ধীরে,
আঁখির লীলা হেরি’ আঁখিতে আঁখি রাখি।।
ভীরু হরিণ-চোখে অশনি হান কেন,
শারাব-পিয়ালাতে জহর কেন সাকি।।
আঁখির ঝিনুকে কবে ফলিবে প্রেম-মোতি,
ডুবিবে আঁখি-নীরে সেদিনের নাহি বাকী।।

রহি' রহি' কেন আজো সেই মুখ মনে পড়ে

বাণী

রহি' রহি' কেন আজো সেই মুখ মনে পড়ে।
ভুলিতে তা'য় চাহি যত, তত স্মৃতি কেঁদে মরে।।
দিয়েছি তাহারে বিদায় ভাসায়ে নয়ন-নীরে,
সেই আঁখি-বারি আজো মোর নয়নে ঝরে।।
হেনেছি যে অবহেলা পাষাণে বাঁধিয়া হিয়া,
তারি ব্যথা পাষাণ সম রহিল বুকে চাপিয়া।
সেই বসন্ত ও বরষা আসিবে গো ফিরে ফিরে,
আসিবে না আর ফিরে অভিমানী মোর ঘরে।।

এই আমাদের বাংলাদেশ

বাণী

এই আমাদের বাংলাদেশ এই আমাদের বাংলাদেশ
যে দিকে চাই স্নিগ্ধ শ্যামল চোখ জুড়ানো রূপ অশেষ।।
চন্দনিত শীতল বাতাস বয় এ দেশে নিরন্তর
জোছনা সম কোমল হয়ে আসে হেথায় রবির কর
জীবন হেথায় স্নেহ সরস সরল হৃদয় সহজ বেশ।।
নিত্য হেথা করছে মেঘে স্বর্গ হতে শান্তি জল
মাঠে ঘাটে লক্ষ্মী হেথায় ছড়িয়ে রাখে ফুল কমল।
হাঙ্গোর কুমির শার্দুল সাপ খেলার সাথি এই জাতির
দিল্লির যশ করল হরণ এই দেশেরি প্রতাপ বীর
একদা এই দেশের ছেলে জয় করেছে দেশ বিদেশ।।

রেকর্ড: ‘প্রতাপদিত্য’, (নাটিকার: যোগেশ চৌধুরী)