অনেক ছিল বলার যদি সেদিন

বাণী

অনেক ছিল বলার, যদি সেদিন ভালোবাস্‌তে গো।
পথ ছিল গো চলার, যদি দু’দিন আগে আস্‌তে গো।।
আজিকে মহাসাগর–স্রোতে, চলেছি দূর পারের পথে
ঝরা–পাতা হারায় যথা, সেই আঁধারে ভাস্‌তে গো।।
গহন রাতি ডাকে আমায় এলে তুমি আজ্‌কে
কাঁদিয়ে গেলে হায় গো আমার বিদায়–বেলার সাঁঝ্‌কে।
আস্‌তে যদি হে অতিথি
ছিল যখন শুক্লা তিথি
ফুটত চাঁপা, সেদিন যদি চৈতালী–চাঁদ হাস্‌তে।।

ঝাঁপিয়া অঞ্চলে কেন বিধুবদন অবনত

বাণী

ঝাঁপিয়া অঞ্চলে কেন বিধুবদন অবনত কাঁদে নয়ান।
অভিমান পরিহর হরি-হৃদি বিহারিণী প্রেম দিয়া জুড়াও এ প্রাণ।
তুয়া বিনা নয়নে অন্যে না হেরি
একই রাধা আছে ত্রিভুবন ঘেরি’
(আমি রাধা ছাড়া জানি’ না
অনন্ত বিশ্বে রাধারই রূপধারা,
রাধা ছাড়া দেখি না)
ভৃঙ্গার ভরি’ তুমি শৃঙ্গার রস
করাও পান, তাই হই যে অবশ।।
তুমি রাধা হয়ে মধু দিলে মাধব হই,
তুমি ধারা হয়ে নামিলে সৃষ্টিতে রই
রাধা, সকলি তোমার খেলা
তবে কেন কর অভিমান, কেন কর হেলা।
প্রতি দেহ-বিম্বে তোরি
পদতলে হর হয়ে রহি তাই ছবি।
হরিরত হর-জ্ঞান মহামায়া হরিলী
(এ যে) তোমারই ইচ্ছা, আমি নিজে নিজে রূপ ধরিণী।
ভোল মানের খেলা
দূরে থেকোনা, দাও চরণ ভেলা
আমি তরে’ যাই, তরে’ যাই
রাধা-প্রেম যমুনায় ডুবিয়া মরে’ যাই।।

পাঠান্তর : রেকর্ডের জন্য কবি এই গানটির বহু অংশ বর্জন করেন।বর্জিত অংশগুলো এই:
গলে দিয়া পীতধড়া গো, পদতলে দিয়া শিখী-চূড়া গো
পদযুগ ধরিয়া চাহি ক্ষমা, ক্ষম অপরাধ প্রিয়তমা!
হরি-মনোরমা ক্ষমা কর গো।।
তব প্রেমে অবগাহন করি সব দাহন চিরতরে জুড়াব
কল্প-কদম-তরু-তলে চিরদিন তোমার প্রেম-কণা কেশর কুড়াব।।

সজল-কাজল-শ্যামল এসো তমাল-কানন-ঘেরি

বাণী

সজল-কাজল-শ্যামল এসো তমাল-কানন-ঘেরি,
কদম-তমাল-কানন ঘেরি।
মনের ময়ূর কলাপ মেলিয়া নাচুক তোমারে হেরি’।।
ফোটাও নীরস চিত্তে সরস মেঘমায়া,
আনো তৃষিত নয়নে মেঘল ছায়া,
বাজাও কিশোর বাঁশের বাঁশরি ব্যাকুল বিরহেরই।।
দাও পদরজঃ হে ব্রজবিহারী, মনের ব্রজধামে —
রুমু-ঝুমু ঝুমু বাজুক নূপুর চরণ ঘেরি,
কদম-তমাল-কানন ঘেরি।।

সাজিয়াছ যোগী বল কার লাগি

বাণী

সাজিয়াছ যোগী বল কার লাগি’
		তরুণ বিবাগী
	হের তব পায়ে
	কাঁদিছে লুটায়ে
নিখিলের প্রিয়া তব প্রেম মাগি’
		তরুণ বিবাগী।।
ফাল্গুন কাঁদে
দুয়ারে বিষাদে
	‌খোলো দ্বার খোলো!
	যোগী, যোগ ভোলো!
	এত গীত হাসি
	সব আজি বাসি,
উদাসী গো জাগো! নব অনুরাগে
		জাগো অনুরাগী
		তরুণ বিবাগী।।

বন-ফুলে তুমি মঞ্জরি গো

বাণী

	বন-ফুলে তুমি মঞ্জরি গো
	তোমার নেশায় পথিক-ভ্রমর ব্যাকুল হ'ল গুঞ্জরি' গো।।
তুমি	মায়ালোকের নন্দিনী ন্দনের আনন্দিনী
তুমি	ধূলির ধরার বন্দিনী, যাও গহন কাননে সঞ্চরি গো।।
	মৃদু পরশ-কুঞ্চিতা তুমি বালিকা
	বল্লভ-ভীতা পল্লব অবগণি্ঠিতা মুকুলিকা।
তুমি	প্রভাত বেলায় মঞ্জরি লাজে সন্ধ্যায় যাও ঝরি'
	অরণ্যা-বল্লরি শোভা, পুণ্য পল্লী-সুন্দরী।।

ভুল করেছি ওমা শ্যামা

বাণী

		ভুল করেছি ওমা শ্যামা বনের পশু বলি দিয়ে।
(তাই)		পূজিতে তোর রাঙা চরণ এলাম মনের পশু নিয়ে॥
			তুই যে বলিদান চেয়েছিস
			কাম-ছাগ, ক্রোধ-রূপী মহিষ,
		মা তোর পায়ে দিলাম লোভের জবা মোহ-রিপুর ধূপ জ্বালিয়ে॥
মাগো		দিলাম হৃদয়-কমন্ডলুর মদ-সলিল তোর চরণে,
		মাৎসর্য্যের পূর্ণাহুতি দিলাম পায়ে পূর্ণ মনে।
			ষড় রিপুর উপচারে
			যে পূজা চাস্ মা বারে বারে
		সেই পূজারই মন্ত্র মাগো ভক্তরে তোর দে শিখিয়ে॥