আমার সারা জনম কেঁদে গেল

বাণী

আমার সারা জনম কেঁদে গেল
	(কবে) শেষ হবে মোর কাঁদা।
পথে পথে ঘুরে মরি, পদে পদে বাধা।।
	বাঁচ্‌তে চাইরে যে ডাল ধরে’
	সে ডাল অম্‌নি ভেঙে পড়ে,
সুখের আশায় ছুটে ছুটে দুঃখ হ’ল সাধা।।
দুঃখী জনের বন্ধু কোথায় দীনের সহায় কোথা,
(নাই) অসহায়ের তরে বুঝি বিধাতারও ব্যথা।
	আকুল হয়ে কাঁদি যত
	বেড়ে ওঠে বোঝা তত,
আদায় ক’রে ফিরি যেন আমি দুখের চাঁদা।।

কৃষ্ণ-প্রিয়া লো কেমনে যাবি

বাণী

কৃষ্ণ-প্রিয়া লো! কেমনে যাবি অভিসারে?
সে বিরহী রসে মানস সুরধুনী ’পারে।।
সে এ পারে রহে না
পারাপারের অতীত সে, এ পারে রহে না,
এ পারে না, ও পারেও রহে না, কোন পারে রহে না।।
গগনে গুরু গুরু মেঘ গরজে অবিরল বাদল ঝর ঝর ঝরে,
আঁখি-জলে আঁখি তোর টলমল সই অন্তর দুরুদুরু করে।
পথ দেখিবি কেমনে
আঁখি-জলে পিছল আঁখি, পথ দেখিবি কেমনে।
তোর আঁখি পিছল পথও পিছল পথে যাবি কেমনে,
তোর অন্তরে মেঘ, বাহিরে মেঘ পথ দেখিবি কেমনে।
একে কুহু-যামিনী তাহে কুল-কামিনী পথে পথে কালনাগিনী (লো),
আছে আড় পেতে শাশুড়ি ননদিনী লো।
তুই চাতকীর মত কেতকীর মত রাই
মেঘ দেখে মত্ত হইলি ভয় নাই,
যার প্রেমের পথে বাধা বিধির অভিশাপ — সাপেরে সে ভয় করে না।।

আলগা কর গো খোঁপার বাঁধন

বাণী

আলগা কর গো খোঁপার বাঁধন দিল ওহি মেরা ফঁস্‌ গয়ি।
বিনোদ বেণীর জরীন ফিতায় আন্ধা এশ্‌ক্‌ মেরা কস্‌ গয়ি।।
	তোমার কেশের গন্ধ কখন,
	লুকায়ে আসিল লোভী আমার মন
বেহুঁশ হো কর্‌ গির্‌ পড়ি হাথ মে বাজু বন্দ মে বস্‌ গয়ি।।
	কানের দুলে প্রাণ রাখিলে বিঁধিয়া,
	আঁখ্‌, ফিরা দিয়া চোরী কর্‌ নিদিয়া,
দেহের দেউড়িতে বেড়াতে আসিয়া আউর নেহিঁ উয়ো ওয়াপস্‌ গয়ি।।

এসো বঁধূ ফিরে এসো

বাণী

এসো বঁধূ ফিরে এসো, ভোলো ভোলো অভিমান।
দিব ও-চরণে ডারি’ মোর তনু মন প্রাণ।।
	জানি আমি অপরাধী
	তাই দিবানিশি কাঁদি’,
নিমেষের অপরাধের কবে হবে অবসান।।
	ফিরে গেলে দ্বারে আসি’
	বাসি কিনা ভালোবাসি,
কাঁদে আজ তব দাসী — তুমি তার হৃদে ধ্যান।।
	সে-দিন বালিকা-বধূ
	শরমে মরম-মধু
পি’য়াতে পারিনি বঁধূ — আজ এসে কর পান।।
	ফিরিয়া আসিয়া হেথা
	দিও দুখ দিও ব্যথা,
সহে না এ নীরবতা — হে দেবতা পাষান।।

বিদায়ের বেলা মোর ঘনায়ে আসে

বাণী

বিদায়ের বেলা মোর ঘনায়ে আসে।
দিনের চিতা জ্বলে অস্ত আকাশে।।
দিন শেষে শুভদিন এলো বুঝি মম
মরণের রূপে এলে মোর প্রিয়তম,
গোধূলির রঙে তাই দশ দিশি হাসে।।
দিন গুণে নিরাশার পথ-চাওয়া ফুরালো,
শ্রান্ত এ জীবনের জ্বালা আজ জুড়ালো।
ওপার হ’তে কে এলো তরী বাহি’
হেরিলাম সুন্দরে, আর ভয় নাহি,
আঁধারের ’পারে তার চাঁদ-মুখ ভাসে।।

তোমার কুসুম বনে আমি আসিয়াছি ভুলে

বাণী

তোমার কুসুম বনে আমি আসিয়াছি ভুলে।
তবু মুখপানে প্রিয় চাহ মুখ তুলে।।
দেখি সে-দিনের সম, ওগো ভুলে-যাওয়া স্মৃতি মম
তব ও-নয়নে আজো ওঠে কি-না দুলে।।
ওগো ভুল ক’রে আসিয়াছি, জানি ভুলেছ, তুমিও
তবু ক্ষণেকের তরে সে-ভুল ভেঙো না প্রিয়।
তীর্থে এসেছি মম দেবীর দেউলে।।
তোমার মাধবী-রাতে, আসিনি আমি কাঁদাতে
কাঁদিতে এসেছি একা বিদায়-নদীর কূলে।।