ও কূল-ভাঙ্গা নদী রে

বাণী

	ও, কূল-ভাঙ্গা নদী রে,
	আমার চোখের নীর এনেছি মিশাতে তোর নীরে।।
	যে লোনা জলের সিন্ধুতে নদী, নিতি তব আনাগোনা
	মোর চোখের জল লাগবে না ভাই তার চেয়ে বেশি লোনা।
	আমায় কাঁদাতে দেখে আসবিনে তুই রে,
	উজান বেয়ে ফিরে' নদী, উজান বেয়ে ফিরে'।।
		আমার মন বোঝে না, নদী —
তাই	বারে বারে আসি ফিরে তোর কাছে নিরবধি।
	তোরই অতল তলে ডুবিতে চাই রে,
		তুই ঠেলে দিস তীরে (ওরে)।।

ও ভাই হাজি! কোন্ কাবা ঘর

বাণী

ও ভাই হাজি! কোন্ কাবা ঘর হজ করিয়া এলে।
গিয়ে কি ভাই খোদায় পাওয়ার পথের দিশা পেলে।।
খোদার ঘরের দিদার পেয়ে বল কেমন ক’রে
ফিরে এলে দুনিয়াদারীর এই না-পাক ঘরে,
কেউ বলেছে কি কোন্ কাবাতে গেলে খোদায় মেলে।।
খেলেছিলেন নবীজী যে-মক্কা মদিনায়
বেহোঁশ হয়ে পড়নি কি পৌঁছিয়া সেথায়,
কেমন ক’রে ফিরে এলে সেই মদিনা ফেলে
এই দুনিয়ার কারবালাতে অধিক তৃষা আরো
এনেছ কি আব্হায়াতের পানি? দিতে পারো?
মোর আঁধার ঘরে দিতে পারো নূরের চেরাগ জ্বেলে?

বরিষণ শেষে ডাকিয়া যূথীরে

বাণী

বরিষণ-শেষে ডাকিয়া যূথীরে কহিল মালতী-কলি — 
‘আমি দুলিব পিয়াল-কোলে পিয়া, পিয়া বলি’।।
	চাহিয়া বারেক রবিকরে
	তুমি বুঝিবে ধূলির ’পরে,
সৌরভ তব থরে থরে, তবু আসিবে না তব অলি।।
	সিক্ত বাতাসে চাঁদের আবেশে
	শ্বেত পুষ্পের স্নিগ্ধ সুবাসে,
প্রেম ও প্রীতির সুরভি-আকাশে — যূথী-দল প’ড়ে ঢলি’।।
বিদায়-বেলায় যূথিকা কহিল — বিলাতে আমি
			আসিনু ধরায় নামি’,
প্রেমের মিলন-বাসরে, আমারে যেয়ো গো দলি’।।

আঁধারের এলোকেশ ছড়িয়ে এলে

বাণী

আঁধারের এলোকেশ ছড়িয়ে এলে
			তুমি ধূসর সন্ধ্যা।
তোমারে অর্ঘ্য দিতে বনে ফুটিল কি তাই
			রজনীগন্ধা?
গোধূলির রং সম তব মুখ, হায়!
তরুণ হাসি কেন চকিতে মিলায়?
সহসা মহুয়া বনে চঞ্চল বায়
			হ’ল নিথর সুমন্দা।।
বিষাদ-গভীর তব নয়ন যেন নিশীথের সিন্ধু;
মুদিত কমলের দলিত দলে তুমি শিশিরের বিন্দু।
তুমি সকরুণ প্রার্থনা বেলাশেষের,
পথ-হারা পাখি তুমি দূর বিদেশের,
স্নিগ্ধ-স্রোত তুমি দূর অমরার অলকানন্দা।।

ঝুমুর নাচে ডুমুর গাছে ঘুঙুর বেঁধে গায়

বাণী

দ্বৈত	:	ঝুমুর নাচে ডুমুর গাছে ঘুঙুর বেঁধে গায় (লো)।
		নাচন দুজন মাদল, বাঁশি, নূপুর নিয়ে আয় (লো)।।
স্ত্রী	:	আর জনমে চোরকাঁটা তুই ছিলি (রে)
		এই জনমে আঁচল ছিঁড়ে হৃদয়ে বিঁধিলি।
পুরুষ	:	চোরকাঁটা নয় ছিলাম পানের খিলি লো
		গয়না ছিলাম গায় (লো)।।
স্ত্রী	:	ঝিলমিলয়ে ঝিলের জল নাচায় শালুক ফুল —
পুরুষ	:	শালুক যেন মুখাখানি তোর লো ঝিলের ঢেউ যেন এলোচুল।
স্ত্রী	:	কুহু কুহু ডেকে কোকিল কাহার কথা কহে
পুরুষ	:	সেই কথা কয় কোয়েলা আর জনমে করেছি যা তোরই বিরহে।
দ্বৈত	:	সে জনমের দু’টি হৃদয় এ জনমে হায়
		এক হতে যে চায় লো এক হতে যে চায়।।

তুমি যে আমার আধখানি চাঁদ

বাণী

তুমি যে আমার আধখানি চাঁদ, আধখানি ঐ আকাশে।
তুমি হাস যবে মোর বুকে থাকি’ ঝলকে জোছনা হাসে।।
	কত বেদনায় মোর হিয়াতল
	ঘন হয়ে আসে যেন দীঘিজল,
তারি বুকে তুমি অমল কমল — দুলিছ দখিনা বাতাসে।।
আমি যে বাঁধিনু খেলাঘরখানি, তুমি যে পুতুল তারি,
বাহিব সেথায় তরণী আমার — তুমি যে অসীম বারি।
	পথগুলি মোর মিশিল যেথায়
	আসিনু ফিরিয়া সেই মোহনায়,
ভালোবাসা তব জীবনে আমার সৌরভ হ’য়ে ভাসে।।