সতী–হারা উদাসী ভৈরব কাঁদে

বাণী

সতী–হারা উদাসী ভৈরব কাঁদে।
বিষাণ ত্রিশূল ফেলি’ গভীর বিষাদে।।
	জটাজুটে গঙ্গা
	নিস্তরঙ্গা,
রাহু যেন গ্রাসিয়াছে ললাটের চাঁদে।।
দুই করে দেবী–দেহ ধরি’ বুকে বাঁধে,
রোদনের সুর বাজে প্রণব–নিনাদে।
ভক্তের চোখে আজি ভগবান শঙ্কর —
সুন্দরতর হ’ল – পড়ি’ মায়া ফাঁদে।।

ওরে অবোধ গরম জলে

বাণী

ওরে অবোধ! গরম জলে ঘর কি কভু পোড়ে?
আপন জনের আঘাত কি কেউ রাখে মনে করে (রে)?
	তুই বিদায় নিলি অভিমানে
	শেষে ফিরতে হল প্রাণের টানে (রে)।
ওরে এ স্নেহ-ডোর ছিন্ন করে কোথায় যাবি সরে।।

ব্যনমে শুন স্যখিরি পিয়া পিয়া বোলে

বাণী

ব্যনমে শুন স্যখিরি পিয়া পিয়া বোলে বাঁশুরিয়া।
সখি ক্যওন উও বন্‌শী ব্যজায় ঘ্যরমে ন্য র‍্যহন্‌ যায়,
মন্‌ ভ্যয়ে উদাস্‌ সখি ন্যহি মানে জিয়া রি।।
নিরালা ঢং বাজে মৃদঙ্গ ম্যওর পাপিহা বোলে রি
চ্যরণন্‌ মে ছ্যন্দ জাগে ত্যন্‌ মন্‌ প্রাণ ডোলে রি
প্রেম্‌সে ম্যতওয়ালী ভ্যয়ি চাঁদ কি আঁখিয়া রি।।
স্যখি প্যহনো নীল শাড়ি চূড়া বাঁধো ম্যনহারি
যাঁহা ব্যন্‌চারী চ্যলো ক্যরকে সিঙ্গার
চ্যরণন্‌ মে গুজরী গ্যালেমে চম্পা হার —
নাচুঙ্গী আজ ওয়াকে সাথ্‌ গাউঙ্গি র‍্যসিয়ারি।।

ধীরে যায় ফিরে ফিরে চায়

বাণী

ধীরে যায় ফিরে ফিরে চায়।
চলে নব অভিসারে, ভীরু কিশোরী,
ওঠে পাতাটি নড়লে সে চম্‌কে।।
হরিণ নয়নে সভয় চাহনি,
আসিছে কে যেন দেখিবে এখনি
পথে সে দেয় ফেলে মুখর নূপুর খুলে,
আপন ছায়া হেরি ওঠে গা ছম্‌কে॥
‘চোখ গেল চোখ গেল’ ডাকে পাপিয়া
শুনিয়া শরমে ওঠে কাঁপিয়া;
হায়, যার লাগি এত, কোথায় সে
ঝিল্লি-রবে ভাবে কেউ হবে
বনে ফুল ঝরার আওয়াজে দাঁড়ায় সে থম্‌কে॥

আমারে চোখ ইশারায় ডাক দিলে হায়

বাণী

আমারে চোখ ইশারায় ডাক দিলে হায় কে গো দরদি।
খুলে দাও রং মহলার তিমির-দুয়ার ডাকিলে যদি।।
গোপনে চৈতী হাওয়ায় গুল্‌-বাগিচায় পাঠালে লিপি,
দেখে তাই ডাক্‌ছে ডালে কু কু ব’লে কোয়েলা ননদী।।
পাঠালে ঘূর্ণি-দূতী ঝড়-কপোতী বৈশাখে সখি
বরষায় সেই ভরসায় মোর পানে চায় জল-ভরা নদী।।
তোমারি অশ্রু ঝলে শিউলি তলে সিক্ত শরতে,
হিমানীর পরশ বুলাও ঘুম ভেঙে দাও দ্বার যদি রোধি।।
পউষের শূন্য মাঠে একলা বাটে চাও বিরহিণী,
দুঁহু হায় চাই বিষাদে, মধ্যে কাঁদে তৃষ্ণা-জলধি।।
ভিড়ে যা ভোর-বাতাসে ফুল-সুবাসে রে ভোমর কবি
ঊষসীর শিশ্‌-মহলে আস্‌তে যদি চাস্‌ নিরবধি।।

দোলন চাঁপা বনে দোলে

বাণী

দোলন চাঁপা বনে দোলে —
	দোল-পূর্ণিমা-রাতে চাঁদের সাথে।
শ্যাম পল্লব কোলে যেন দোলে রাধা
	লতার দোলনাতে॥
যেন দেব-কুমারীর শুভ্র হাসি
ফুল হয়ে দোলে ধরায় আসি’
আরতির মৃদু জ্যোতি প্রদীপ-কলি
	দোলে যেন দেউল-আঙিনাতে॥
বন-দেবীর ওকী রুপালি ঝুমকা
	চৈতি সমীরণে দোলে —
রাতের সলাজ আঁখি-তারা
	যেন তিমির আঁচলে।
ও যেন মুঠিভরা চন্দন-গন্ধ
দোলে রে গোপিনির গোপন আনন্দ,
ও কী রে চুরি করা শ্যামের নূপুর —
	চন্দ্র-যামিনীর মোহন হাতে॥