ওরে বাবা এর নাম নাকি পূজা

বাণী

ওরে বাবা! এর নাম নাকি পূজা! (রে ভাই)।
(এই) পূজার ঠ্যালা সইতে সোজা মানুষ হয় যে কুঁজা।
ষষ্ঠীর কৃপায় দশটি মেয়ে রাবণের গুষ্টি সঙ্গে
আঁচিলের মতন এঁটুলির মতন নেপটে আছেন অঙ্গে।
এরা ছাড়ে না, — তবু আঁচিল ছাড়ে খেলে হোমিওপ্যাথিক থুজা।।
বেনারসি, ঢাকাই, রেশমি তসর, এণ্ডি, মট্‌কা
বইতে বইতে গা দিয়ে দাদা ঘাম ছুটে যায় বোঁট্‌কা।
(এই) চাওয়ার ভয়ে শিব ন্যাংটা, কথা কন্‌ না দশভুজা।।
গিন্নি কন্যে হন্যে হয়ে সদাই সওদা করে
(ওরা ভাবে) ব্যাঙ্কের টাকা যেন ট্যাঙ্কের জলের মতন ঝরঝর ক’রে ঝরে
তাদের এক গোঁ থিয়েটার, সিনেমা, এসেন্স, পাউডার খুঁজা।।
এ সব যদি জুটল, তবে যেতে হবে চেঞ্জে
শালা শালী সবাই এক জোটে বলে এবার ‘সস্তায় ট্রেন যে,’ ও বোনাই।
(না গেলে) দেখব সদাই গিন্নীর কুতুরে চক্ষু কেৎরে-বুঁজা।।
সবাই যেন শ্রীদুর্গার গুষ্টি, আমি যেন বাহন সিঙ্গি,
আসছে বছর পূজায় মাগো হব আমি ফিরিঙ্গি। জয় বাবা যীশুখ্রিস্টের জয়
(এই পূজার সময়) পিতা হওয়ার চেয়ে হাড়িকাঠের পাঁঠা হওয়া সোজা।।

‘পূজার ঠ্যালা’

হে প্রবল দর্পহারী কৃষ্ণ-মুরারি

বাণী

হে প্রবল দর্পহারী কৃষ্ণ-মুরারি।
শরণাগত আর্ত-পরিত্রাণ-পরায়ণ —
		যুগ যুগ সম্ভব নারায়ণ দানবারি।।
ভূ-ভার হরণে এসো জনার্দন হৃষিকেশ,
কল্কীরূপে অধর্ম নিধনে এসো দনুজারি —
		কংসারি গিরিধারী ডাকে ভয়ার্ত নরনারী।।
দুর্বল দীনের বন্ধু, জন-গণ ত্রাতা
নিঃস্বের সহায় পরমেশ বিশ্ব-বিধাতা,
		তিমির-বিদারি এসো মহা-ভারত-বিহারী।।
এসো উৎপীড়িতের নীরব রোদনে এসো
এসো বীরের আত্মদানে প্রাণ-উদ্বোধনে এসো,
দেশ-দ্রৌপদীর লজ্জাহারী, দৈত্য-গর্ব-খর্ব-কারী —
		শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম-ধারী।।

মনে যে মোর মনের ঠাকুর তারেই আমি

বাণী

মনে যে মোর মনের ঠাকুর তারেই আমি পূজা করি,
আমার দেহের পঞ্চভূতের পঞ্চপ্রদীপ তুলে ধরি।।
	ফকির যোগী হয়ে বনে
	ফিরি না তার অন্বেষণে
আমি	মনের দুয়ার খুলে দেখি রূপের জোয়ার মরি মরি।।
	আছেন যিনি ঘিরে আমায়
	তারে আমি খুঁজব কোথায়
সাগরে খুঁজে বেড়াই সাগর বুকে ভাসিয়ে তরী।
	মন্দিরের ঐ বন্ধ খোঁপে
	ঠাকুর কি রয় পূজার লোভে?
পেতে রাখি ভক্তি বেদী আসবে নেমে প্রেমের হরি।।

আজি বাদল বঁধূ এলো শ্রাবণ-সাঁঝে

বাণী

আজি বাদল বঁধূ এলো শ্রাবণ-সাঁঝে —
নীপের দীপ ঢাকি’ আঁচল ভাঁজে।।
	জ্বালি’ হেনার ধুনা
	যাচি’ কার করুণা
বন-তুলসী তলে এলে পূজারিণী সাজে।।
সেদিন এমনি সাঁঝে মোর বেদীর মূলে
প্রিয়া জ্বালিলে এ দীপ, তাহা গেছ কি ভুলে?
	সেই সন্ধ্যা-স্মৃতি
	সে যে করুণ গীতি,
দূরে দাদুরি আনে বহি’ মরম মাঝে।।

গহন বনে শ্রীহরি নামের মোহন বাঁশি কে

বাণী

গহন বনে শ্রীহরি নামের মোহন বাঁশি কে বাজায়।
ভুবন ভরি’ সেই সুরেরি সুরধুনি বয়ে যায়।।
সেই নামেরি বাঁশির সুরে, বনে পূজার কুসুম ঝুরে
সেই নামেরি নামাবলি, গ্রহ তারা আকাশ জুড়ে
অন্ত বিহীন সেই নামেরি সুর-স্রোতে কে ভাসবি আয়।।

চলচ্চিত্রঃ ধ্রুব (কাহিনীকার: গিরিশ ঘোষ)

বদ্‌না গাড়ুতে বসে মুখোমুখী

বাণী

বদ্না গাড়ুতে বসে মুখোমুখী দিব্বি হয়েছে ভাব!
বদনা চাহিছে শুক্তুনী আর – চাহিছে গাড়ু কাবাব।।
গাড়ু বলে এসো বদনা ভাইটি হোক শুভ চোখাচোখি।
তুমি মোর হাতে পেঁয়াজ দাও আর আমি দিই হরতকি।।
[শুনে বদনা ভাবে গদগদ হয়ে বলছেন
‘গাড়ুদাদা দাড়িতে একবার টিকিতে বুলাও না’]
ও গাড়ু দাদা দাড়িতে বুলাও টিকি –
ছুরি ও নাদ্না রাখি দোঁহে এসো আস্‌নাই করা শিখি।।
[গাড়ু তখন ভাব জমিয়ে বলছেন]
পাখিদের মাঝে বামুন যে রাম পাখি।
কেননা মাথায় উহার জবা-ফুল বাঁধা টিকি
দেখ নাকি তাহা দেখ নাকি?
[বদনা তখন বদন ব্যাদন করে বলছেন]
ও তো টিকি নয় দাদা ও যে তুর্কী ফেজ্।
পাখিদের মাঝে উনি মোল্লাজী হ্যাঁদু নয় হরগেজ।।
[গাড়ু তখন বদনার পিঠে নল বুলিয়ে বলছেন]
হাতে দিব ক্ষীর নাড়ু ভাই, ছেড়ে দাও খাওয়া ঐ বড়টা।
[শুনে বদনা অবাক – বল্লে]
রে মদনা তাহলে কি দিয়ে খাইব পরটা?
গাড়ু বলে, আহা দোস্তীর তরে ছাড়িতে হয়।
এসা দাদা এসো জড়াজড়ি করি বদ্না গড়ায়ে কয়।।
জড়াজড়ি থেকে গড়াগড়ি দুই নলে প্রেমবারি ঝরে।
সেই ভাব দেখে বিদেশী কেটলী রাগে টগবগ করে।।

‘ভাই ভাই এক-ঠাঁই’