যাবার বেলায় সালাম লহ

বাণী

	যাবার বেলায় সালাম লহ হে পাক রমজান।
তব	বিদায় ব্যথায় কাঁদিছে নিখিল মুসলিম জাহান।। 
	পাপীর তরে তুমি পারের তরী ছিলে দুনিয়ায়, 
	তোমারি গুণে দোজখের আগুন নিভে যায়,
	তোমারি ভয়ে লুকায়ে ছিল দূরে শয়তান।। 
	ওগো রমজান, তোমারি তরে মুসলিম যত 
	রাখিয়া রোজা ছিল জাগিয়া চাহি' তবু পথ,
	আনিয়াছিলে দুনিয়াতে তুমি পবিত্র কোরআন।। 
	পরহেজগারের তুমি যে প্রিয় প্রাণের সাথী, 
	মসজিদে প্রাণের তুমি যে জ্বালাও দ্বীনের বাতি,
	উড়িয়ে গেলে যাবার বেলায় নতুন ঈদের চাঁদের নিশান।।

মোমের পুতুল মমীর দেশের মেয়ে নেচে যায়

বাণী

মোমের পুতুল মমীর দেশের মেয়ে নেচে যায়।
	বিহবল–চঞ্চল–পায়।।
	খর্জুর–বীথির ধারে
	সাহারা মরুর পারে
বাজায় ঘুমুর ঝুমুর ঝুমুর মধুর ঝঙ্কারে।
	উড়িয়ে ওড়না ‘লু’ হাওয়ায়
	পরী–নটিনী নেচে যায়
	দুলে দুলে দূরে সুদূর।।
সুর্মা–পরা আঁখি হানে আস্‌মানে,
জ্যোৎস্না আসে নীল আকাশে তার টানে।
	ঢেউ তুলে নীল দরিয়ায়
	দিল–দরদী নেচে যায়
	দুলে দুলে দূরে সুদূর।।

কে বিদেশি বন-উদাসী

বাণী

কে বিদেশি		বন-উদাসী'
বাঁশের বাঁশি		বাজাও বনে।
সুর-সোহাগে		তন্দ্রা লাগে
কুসুম-বাগের	গুল-বদনে।।
ঝিমিয়ে আসে	ভোমরা-পাখা
যুথীর চোখে		আবেশ মাখা
কাতর ঘুমে		চাঁদিমা রাকা
ভোর গগনের	দর-দালানে
দর-দালানে		ভোর গগনে।।
লজ্জাবতীর		লুলিত লতায়
শিহর লাগে		পুলক-ব্যথায়
মালিকা সম		বঁধুরে জড়ায়
বালিকা-বঁধু		সুখ-স্বপনে।।
বৃথাই গাঁথি		কথার মালা
লুকাস কবি		বুকের জ্বালা,
কাঁদে নিরালা	বনশিওয়ালা
তোরি উতলা	বিরহী মনে।।

আমার হৃদয় মন্দিরে ঘুমায় গিরিধারী

বাণী

আমার হৃদয় মন্দিরে ঘুমায় গিরিধারী।
জাগে আমার জাগ্রত প্রেম দুয়ারে তার দ্বারী ॥
	কানু আমার বুকে ঘুমায় -
	ভক্তি জেগে চামর ঝুলায়,
শিয়রে দীপ আমার আঁখি, প্রীতি দাসী তারি ॥
চোরের মত মোর গুরুজন ঘুরুক কাছে কাছে -
আমি তাদের ভয় করিনে, (আমার) প্রেম যে জেগে আছে।
	আধেক রাতে নিরালাতে
	জাগবে হরি, ধরবে হাতে,
ওগো ধ্যান করে গো সেই আশাতে এ প্রাণ রাধা-প্যারী ॥

একলা গানের পায়রা উড়াই

বাণী

একলা গানের পায়রা উড়াই।
সে কাছে নাই গো সে কাছে নাই।।
চাঁদ ভালো লাগে না, তার চেনা কার যেন ইহুদী মাক্‌ড়ি,
সে কেন কাছে নাই, অভিমানে ঝ’রে যায় গোলাপের পাপ্‌ড়ি।
ফিরোজা আকাশের জাফ্‌রানি জোছনায়
		মন ভরে না, কি যেন চাই গো কি যেন চাই।।

সঙ্গীতালেখ্য : ‘কাফেলা’

বনে যায় আনন্দ-দুলাল

বাণী

বনে যায় আনন্দ-দুলাল
বাজে চরণে নূপুরের রুনুঝুনু তাল
বনে যায় গোঠে যায়।
ও কি নন্দ-দুলাল, ও কি ছন্দ-দুলাল
ও কি নন্দন-পথ, ভোলা নৃত্য-গোপাল।।
বেণু-রবে ধেনুগণ আগে যেতে পিছে চায়
ভক্তের প্রাণ গ'লে উজান বহিয়া যায়
লুকিয়ে দেখিতে এলো দেবতারি দল (তায়)
হয়ে কদম তমাল-
ব্রজ-গোপিকার প্রাণ তার চরণে নূপুর
শ্রীমতী রাধিকা তার বাশরির সুর।
সে যে ত্রিলোকের স্বামী তাই ত্রিভঙ্গ-রূপ
করে বিশ্বের রাখালি সে চির-রাখাল।।