মা আমি আর কি ভুলি

বাণী

মা আমি আর কি ভুলি
মাগো আমি আর কি ভুলি।
চরণ যখন ধরেছি তোর মাগো আমি আর কি ভুলি।
আমায় বহু জনম ঘুরিয়েছিস্ মা পরিয়ে চোখে মায়ার ঠুলি॥
	তোর পা ছেড়ে যে মোক্ষ যাচে,
	তুই বর্‌ নিয়ে যা তাহার কাছে
ওমা আমি যেন যুগে যুগে পাই মা প্রসাদ চরণ-ধূলি॥
মোরে শিশু পেয়ে খেল্‌না দিয়ে, রেখেছিলি মা ভুলিয়ে
এখন খেল্‌না ফেলে কোলে নিতে মাকে ডাকি দু’হাত তুলি।
	তোর ঐশ্বর্য যা কিছু মা
	দে ভক্তগণে বিলিয়ে উমা,
তোর ভিখারি এই সন্তানে দিস্ মাতৃনামের ভিক্ষাঝুলি॥

ওরে বাবা এর নাম নাকি পূজা

বাণী

ওরে বাবা! এর নাম নাকি পূজা! (রে ভাই)।
(এই) পূজার ঠ্যালা সইতে সোজা মানুষ হয় যে কুঁজা।
ষষ্ঠীর কৃপায় দশটি মেয়ে রাবণের গুষ্টি সঙ্গে
আঁচিলের মতন এঁটুলির মতন নেপটে আছেন অঙ্গে।
এরা ছাড়ে না, — তবু আঁচিল ছাড়ে খেলে হোমিওপ্যাথিক থুজা।।
বেনারসি, ঢাকাই, রেশমি তসর, এণ্ডি, মট্‌কা
বইতে বইতে গা দিয়ে দাদা ঘাম ছুটে যায় বোঁট্‌কা।
(এই) চাওয়ার ভয়ে শিব ন্যাংটা, কথা কন্‌ না দশভুজা।।
গিন্নি কন্যে হন্যে হয়ে সদাই সওদা করে
(ওরা ভাবে) ব্যাঙ্কের টাকা যেন ট্যাঙ্কের জলের মতন ঝরঝর ক’রে ঝরে
তাদের এক গোঁ থিয়েটার, সিনেমা, এসেন্স, পাউডার খুঁজা।।
এ সব যদি জুটল, তবে যেতে হবে চেঞ্জে
শালা শালী সবাই এক জোটে বলে এবার ‘সস্তায় ট্রেন যে,’ ও বোনাই।
(না গেলে) দেখব সদাই গিন্নীর কুতুরে চক্ষু কেৎরে-বুঁজা।।
সবাই যেন শ্রীদুর্গার গুষ্টি, আমি যেন বাহন সিঙ্গি,
আসছে বছর পূজায় মাগো হব আমি ফিরিঙ্গি। জয় বাবা যীশুখ্রিস্টের জয়
(এই পূজার সময়) পিতা হওয়ার চেয়ে হাড়িকাঠের পাঁঠা হওয়া সোজা।।

‘পূজার ঠ্যালা’

মোরে পূজারি কর তোমার

বাণী

মোরে পূজারি কর তোমার ঠাকুর ঘরে হে ত্রিজগতের নাথ।
মোর সকল দেহ লুটাক তোমার পায়ে (হয়ে) একটি প্রণিপাত।।
	নিত্য যেন তোমারি মন্দিরে
	চিত্ত আমার ব্যাকুল হয়ে ফিরে
গ্রহ যেমন সূর্যলোক ঘিরে ঘুরে দিবস রাত।।
মোর নয়ন যেন তোমারি রূপ হেরে সকল দেখার মাঝে
যেন এ রসনা জপে তোমারি নাম হে নাথ সকল কাজে।
	তোমার চরণ রয় যে শতদলে
	তারি পানে মোর মন যেন চলে
নিত্য তোমায় নমস্কারের ছলে (যেন) যুক্ত থাকে হাত।।

সুন্দর অতিথি এসো এসো কুসুম-ঝরা বনপথে

বাণী

সুন্দর অতিথি এসো, এসো, কুসুম-ঝরা বনপথে,
তোমার আশায় মুকুলগুলি চেয়ে আছে প্রভাত হ'তে।।
	তোমার আসার অনুরাগে
	পাতায় পাতায় শিহর লাগে
কণ্ঠে কুহুর কুজন জাগে ভাসলো আকাশ আলোর স্রোতে।।
চলতে যদি বেদনা পায় তব কোমল চরণ-কমল
বন-বীথিকার পথ-ধূলি ঝরা পল্লব পাপড়ি-দল।
	পেয়ে আজি আসার আভাস
	উতল হ'ল মন্দ বাতাস
চেয়ে আছে উদাসী আকাশ আসবে কবে সোনার রথে।।

ওগো পিয়া তব অকরুণ ভালোবাসা

বাণী

ওগো পিয়া তব অকরুণ ভালোবাসা।
অন্তরে দিল বিপুল বিরহ, কবিতায় দিল ভাষা।।
	মোর গানে দিল সুর
	করুণ ব্যথা বিধুর,
বাণীতে দিল সুদূর স্বর্গের পিপাসা।।
তুমি ভালো করিয়াছ ভালোবাস নাই মোরে,
রাখ নাই ধ’রে আমারে তোমার ক’রে।
	মম বিরহের বেদনাতে
	তাই ত্রিভুবন কাঁদে সাথে,
ভুলেছি সবারে চেয়ে তোমারে পাবার আশা।।

হে বিজয়ী হে না-দেখা রূপের কুমার

বাণী

(এসো এসো) হে বিজয়ী! হে না-দেখা রূপের কুমার।
তন্দ্রা-অলস এই চন্দ্রা নিশির ভাঙো ভাঙো দ্বার।।
স্বপন কুমারীর খোলো গুণ্ঠন
ঘুম-কিশোরীর আনো জাগরণ,
দস্যুসম এসে কর লুণ্ঠন
কুণ্ঠিত প্রেম-মধুনিশি গন্ধার।।

নাটক : ‘মধুমালা’