যাদের তরে এ সংসারে খাটনু জনম ভর

বাণী

যাদের তরে এ সংসারে খাটনু জনম ভর,
তাদের কেউ হবে না হে নাথ মরণ-সাথি মোর।।
	শত পাপ শত অধর্ম ক’রে
বিভব রতন আনলেম ঘরে
সে সকল ভাগ বাটোয়ারা ক’রে খাবে পাঁচ ভুত চোর।।
জীবনে তোমার লই নাই নাম তোমাতে হয় নাই মতি
মরণ-বেলায় তাই কাঁদি প্রভু কি হবে মোর গতি।
	চেয়ে দেখি আজ  যাবার বেলায়
	কর্ম কেবল মোর সাথে যায়
তরিবার আর না দেখি উপায় বিনা পদতরী তোর।।

কোয়েলা কুহু কুহু ডাকে

বাণী

কোয়েলা কুহু কুহু ডাকে।
নব মুকুলিত আমের শাখে।।
	যাহার দরশ লাগি’
	একেলা কুটীরে জাগি,
মোর সাথে পাখিও কি ডাকিছে তাহাকে।।
চাঁদিনী নিভে যায় আমার চোখে,
চাঁদে মনে পড়ে চাঁদের আলোকে।
	কুহু স্বর প্রাণে মম
	বাজিতেছে তার সম,
চাঁদিনী নিশীথ মোর বিষাদ-মেঘে ঢাকে।।

ঝঞ্ঝার ঝাঁঝর বাজে ঝনঝন

বাণী

ঝঞ্ঝার ঝাঁঝর বাজে ঝনঝন
বনানী-কুন্তল এলাইয়া ধরণী
কাঁদিছে পড়ি চরণে শনশন শনশন।।
দোলে ধূলি-গৈরিক পতাকা গগনে,
ঝামর কেশে নাচে ধূর্জটি সঘনে।
হর-তপোভঙ্গের ভুজঙ্গ নয়নে,
সিন্ধুর মঞ্জীর চরণে বাজে রনরন রনরন।।

নদী এই মিনতি তোমার কাছে

বাণী

নদী এই মিনতি তোমার কাছে।
ভাসিয়ে নিয়ে যাও আমারে যে দেশে মোর বন্ধু আছে।।
নদী, তোমার জলের পথ ধ’রে সে চ’লে গেল একা,
আমি সেই হ’তে তার পথ চেয়ে রই, পেলাম না আর দেখা,
ধূলার এ পথ নয় সে বন্ধু থাকবে চরণ-রেখা।
আমি মীন হয়ে রহিব জলে, ছুট্‌ব ঢেউ-এর পাছে।।
আমি ডুবে যদি মরি, তোমার নয় সে অপরাধ,
কুলে থেকে পাইনে খুঁজে, তাই জেগেছে সাধ।
আমি দেখ্‌ব ডু’বে তোমার জলে আছে কি মোর চাঁদ,
বড় জ্বালা বুকে রে নদী টেনে লহ কাছে
	নদী, অভাগা এই যাচে।।

পিয়াসী প্রাণ তারে চায়

বাণী

পিয়াসী প্রাণ তারে চায়, এনে দে তা’য়।
জনম জনম বিরহী প্রাণ মম
সাথিহীন পাখি সম কাঁদিয়া বেড়ায়।।
চাঁদের দীপ জ্বালি’ খুঁজিছে আকাশ তা’রে
না পেয়ে তাহার দিশা কাঁদে সে বাদল-ধারে।
ঝরে অভিমানে ফুল তারে না-দেখতে পেয়ে,
বহে কাঁদন-নদী পাষাণ গিরি বেয়ে।
আসিব ব’লে সে গেছে চ’লে —
(আমি) আজো আছি বেঁচে তা’রি আশায়।।

তুষার-মৌলি জাগো জাগো গিরি-রাজ

বাণী

তুষার-মৌলি জাগো জাগো গিরি-রাজ।
পঙ্গু তোমারে আজি হানিতেছে লাজ।।
রুদ্র ও রুদ্রাণী অঙ্কে যাহার,
দৈত্য হরিছে আজ সম্মান তার।
হে মহা-মৌনী, জাগো, পর নব সাজ।।
স্বর্গ তোমার শিরে, পদতলে হায়,
আর্যাবর্ত কাঁদে চির অসহায়
মেঘ-লোক হ’তে হান দৈত্যেরি বাজ।।