পুবান হাওয়া পশ্চিমে যাও কাবার পথে বইয়া

বাণী

		পুবান হাওয়া পশ্চিমে যাও কাবার পথে বইয়া
		যাও রে বইয়া এই গরিবের সালামখানি লইয়া।।
		কাবার জিয়ারতের আমার নাই সম্বল ভাই
		সারা জনম সাধ ছিল যে মদিনাতে যাই (রে ভাই)
		মিটল না সাধ, দিন গেল মোর দুনিয়ার বোঝা বইয়া।।
(তোমার)	পানির সাথে লইয়া যাও রে আমার চোখের পানি
		লইয়া যাও রে এই নিরাশের, দীর্ঘ নিশাসখানি।
		নবীজীর রওজায় কাঁদিও ভাই রে আমার হইয়া।।
		মা ফাতেমা হজরত আলীর মাজার যথায় আছে
আমার	সালাম দিয়া আইস তাদের পায়ের কাছে (রে ভাই!)
		কাবায় মোনাজাত করিও আমার কথা কইয়া।।

বুনো পাখি বুনো পাখি

বাণী

বুনো পাখি, বুনো পাখি চোখে তোর নেই কেন ঘুম।
ঘুমায় তেপান্তর আকাশ সাগর বন নিঝ্ঝুম।।
	জোছনা-আঁচল জড়াইয়া গায়
	শ্রান্ত ধরণী অঘোর ঘুমায়,
ঘুমায় ভ্রমর লতার কোলে মাখিয়া পরাগ-কুম্‌কুম্‌।।
	আমিও জাগি তোরই মত পাখি
	বিরহ-শয়নে ভবনে একাকী,
হুতাশ পবনে ছড়ায় সুরভি বিফল মালার কুসুম।।

সখি বাঁধো লো বাঁধো লো

বাণী

সখি বাঁধো লো বাঁধো লো ঝুলনিয়া।।
নামিল মেঘলা ঘোর বাদরিয়া।।
চল কদম তমাল তলে গাহি কাজরিয়া
চল লো গৌরী শ্যামলিয়া।।
বাদল-পরীরা নাচে গগন-আঙিনায়,
ঝমাঝম বৃষ্টি-নূপুর পায়।
শোনো ঝমঝম বৃষ্টি নূপুর পায়
এ হিয়া মেঘ হেরিয়া ওঠে মাতিয়া।।
মেঘ-বেণীতে বেঁধে বিজলি-জরীন্‌ ফিতা,
গাহিব দু’লে দু’লে শাওন-গীতি কবিতা,
শুনিব বঁধুর বাঁশি বন-হরিণী চকিতা,
দয়িত-বুকে হব বাদল-রাতে দয়িতা।
পর মেঘ-নীল শাড়ি ধানী-রঙের চুনরিয়া,
কাজলে মাজি’ লহ আঁখিয়া।।

বনে মোর ফুল-ঝরার বেলা

বাণী

বনে মোর ফুল-ঝরার বেলা, জাগিল একি চঞ্চলতা।(অবেলায়)
এলো ঐ শুকনো ডালে ডালে কোন অতিথির ফুল-বারতা।।(এলো ঐ)
বিদায়-নেওয়া কুহু সহসা এলো ফিরে,
জোয়ার ওঠে দুলে, মরা নদীর তীরে,
শীতের বনে বহে দখিনা হাওয়া ধীরে
			জাগায়ে বিধুর মধুর ব্যথা।।(পরানে)
রুদ্ধ বাতায়ন খুলে দে, চেয়ে দেখি
হেনার মঞ্জরি আবার ফুটেছে কী?
হারানো মানসী ফিরেছে লয়ে কি
			গত বসন্তের বিহ্বলতা।।(পরানে)

যায় ঝিলমিল্ ঝিলমিল্ ঢেউ তুলে

বাণী

যায়	ঝিল্‌মিল্ ঝিল্‌মিল্ ঢেউ তুলে দেহের কূলে
	কে চঞ্চলা দিগঞ্চলা মেঘ-ঘন-কুন্তলা।
	দেয় দোলা পুব-সমীরণে বনে বনে দেয় দোলা।।
	চলে নাগরি দোলে ঘাগরি
	কাঁখে বরষা-জলের গাগরি
	বাজে নূপুর-সুর-লহরি
	রিমি ঝিম্‌, রিম ঝিম্, রিম ঝিম্‌ চল-চপলা।।
	দেয়ারই তালে কেয়া কদম নাচে
	ময়ূর-ময়ূরী নাচে তমাল-গাছে।
	এলায়ে মেঘ-বেণী কাল-ফণি
	আসিল কি দেব-কুমারী নন্দন-পথ-ভোলা।।

কত দূরে তুমি ওগো আঁধারের সাথি

বাণী

কত দূরে তুমি, ওগো আঁধারের সাথি।
হাত ধর মোর নিভিয়া গিয়াছে বাতি।।
চলিতে চলিতে তোমার তীর্থ-পথে
হারায়ে গিয়াছি অন্ধকারের স্রোতে,
এসে তু’লে লও তোমার সোনার রথে —
(লহ) প্রভাতের তীরে, শেষ হয় যথা রাতি।।
যে ধ্রুব-তারার পথ দেখাইয়া নীরবে চলেছ তুমি,
সে-পথ ভুলিয়া আসিলাম মায়া-তৃষ্ণার মরুভূমি।
সাড়া নাহি পাই আর আজ ডেকে ডেকে
কাঁদিছ কি তুমি মোরে সাথে নাহি দেখে?
হয়ত ফিরিবে অমৃতের তীর থেকে —
সেই আশে আছি পথ পানে আঁখি-পাতি’।।