এলো ফুল-দোল ওরে এলো ফুল দোল

বাণী

এলো ফুল-দোল ওরে এলো ফুল দোল আনো রঙ-ঝারি।
অশোকমঞ্জরি অলকে পরি এসো গোপ-নারী।।
ঝরিছে আকাশে রঙের ঝরনা
হায় শ্যামা ধরণী হ’ল আবির-বরণা,
ত্যজি’ গৃহ-কাজ এসো চল-চরণা — ডাকে গিরিধারী।।
পরাগ-আবির হানে বনবালা সুরের পিচ্‌কারি হানিছে কুহু,
রঙিন্‌ স্বপন রাতের ঘুমে অনুরাগ-রং ঝরে মনে মুহু মুহু।
রাঙে গিরি-মল্লিকা রঙিন বর্ণে,
রাতের আঁচল ভরে জোছনার স্বর্ণে
কুলের কালি সখি দেবে ধুয়ে রাঙা পিচ্‌কারি।।

দেশ গৌড়-বিজয়ে দেবরাজ গগনে

বাণী

দেশ গৌড়-বিজয়ে দেবরাজ গগনে এলো বুঝি সমর-সাজে।
তাহারি মেঘ-মৃদঙ্গ গুরু গুরু আষাঢ়-প্রভাতে সহসা বাজে।।
	গহন কৃষ্ণ ঐরাবত-দল
	রবিরে আবরি’ ঘিরিল নভতল,
হানে খরশর বৃষ্টি ধারা জল — পবন-বেগে প্রতি ভবন-মাঝে।।
	বনের এলোকেশ বিজলি-পাশে
	বাঁধিয়া দেব্-সেনা অট্রহাসে।
	শ্যামল গৌড়ের অমল হাসি
	শস্যে-কুসুমে ওঠে প্রকাশি’,
অঙ্গে তাহার আঘাত-রাশি — দেব-আশীর্বাদ হয়ে বিরাজে।।

আল্লাকে যে পাইতে চায়

বাণী

আল্লাকে যে পাইতে চায় হজরতকে ভালবেসে।
আরশ্‌ কুরসি লওহ কালাম, না চাহিতেই পেয়েছে সে।।
রসুল নামের রশি ধ’রে যেতে হবে খোদার ঘরে,
নদী-তরঙ্গে যে পড়েছে ভাই, দরিয়াতে সে আপনি মেশে।।
তর্ক ক’রে দুঃখ ছাড়া কি পেয়েছিস্‌ অবিশ্বাসী,
কি পাওয়া যায় দেখ্‌ না বারেক হজরতে মোর ভালবাসি’।
এই দুনিয়ায় দিবা-রাতি ঈদ্‌ হবে তোর নিত্য সাথী,
তুই যা চাস্‌ তাই পাবি রে ভাই আহমদ চান যদি হেসে।।

দেবতা গো দ্বার খোলো

বাণী

দেবতা গো, দ্বার খোলো।
অভিসার নিশি বাহির দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রভাত হ’ল॥
	পাষাণের আবরণে তুমি যদি
	এমনি গোপন রবে নিরবধি,
বেণুকার সুরে হৃদি যমুনায় কেন এ লহর তোলো॥
আর	সহিতে পারি না একা,
প্রাণে	কেন দিয়ে আশা এত ভালোবাসা
যদি	নাহি দিবে দেখা।
	বহিতে পারি না আর এই ভার,
	এই ফুল সাজ পূজা-সম্ভার
তুমি	দেখা দেও একবার দেখা দেও —
দেখা	দিয়ে চিরতরে মোরে ভোলো॥

আজি অলি ব‍্যাকুল ওই বকুলের ফুলে

বাণী

আজি অলি ব‍্যাকুল ওই বকুলের ফুলে
কত আদরে টানি, চুমে বদনখানি
ফুলকলি লাজে পড়ে বুকে ঢুলে ঢুলে।।
আসে ফুল-বধূ, বুকে ভরা মধু
হাসে ভ্রমর-বঁধু কলি সনে দুলে দুলে।।
সোহাগে গুনগুনিয়ে সব কথা তার কইতে বাকি
সলাজ ফুল-কুমারীর ঘোমটাখানি খুলতে বাকি,
গোপনে গোপন বুকের সুধাটুকু লুটতে বাকি,
না কওয়া যত কথা কানে কানে বলে খুলে।।

কেমনে রাখি আঁখি–বারি চাপিয়া

বাণী

কেমনে রাখি আঁখি–বারি চাপিয়া
প্রাতে কোকিল কাঁদে নিশীথে পাপিয়া।।
এ ভরা ভাদরে আমার মরা নদী
উথলি’ উথলি’ উঠিছে নিরবধি
আমার এ ভাঙা ঘটে, আমার এ হৃদিতটে
চাপিতে গেলে ওঠে দু’কূল ছাপিয়া।।
নিষেধ নাহি মানে আমার এ পোড়া আঁখি
জল লুকাবো কত কাজল মাখি’ মাখি’
ছলনা ক’রে হাসি, অমনি জলে ভাসি
ছলিতে গিয়া আসি ভয়েতে কাঁপিয়া।।