যে রসুল বলতে নয়ন ঝরে

বাণী

যে রসুল বলতে নয়ন ঝরে সেই রসুলের প্রেমিক আমি।
চাহে আমার হৃদয়-লায়লী সে-মজনুঁরে দিবস-যামী।।
	ফরহাদ সে, আমি শিঁরি
	ঐ নামের প্রেমে পথে ফিরি,
ঈমান আমার রইল কিনা জানেন তিনি অন্তর্যামী।।
প্রেমে তাঁর দীওয়ানা হ’য়ে গেল দুনিয়া আখের সবি,
কোথায় রোজা, কোথায় নামাজ, কেবল কাঁদি — ‘নবী নবী।’
	রোজ-কেয়ামত আসবে কবে
	কখন তাঁহার দিদার হবে,
নিত্য আমার রোজ-কেয়ামত বিনে জীবন-স্বামী।।

ওলো বিন্দে গোবিন্দে আর দিস্‌নে

বাণী

শ্রীরাধা : ওলো বিন্দে! গোবিন্দে আর দিস্‌নে ব্যথা, দিস্‌নে।
ওর দু নয়নে লো অঝোর ধারে বারি ঝরে, চোখে কি দেখিস্ নে?
চোখের মাথা খেলি নাকি?
[ঐ সজল কাজল চোখ দেখে তুই ঐ ডাগর চোখের চাওয়া দেখে তুই]
ওর অশ্রুত নিবেদন অশ্রুতে ঝরে, ওরে কাঁদিতে দেখিলে মন কেমন করে।
আমি রেইতে নারি — [হ’য়ে নারী সইতে নারি ওর নয়ন-বারি]।
মোর পায়ে ধরার সাধে পদে-পদে অপরাধে আপনারে বাঁধে,
কলঙ্ক হতে, সখি অধিক জোছনা দেয় কলঙ্কী-চাঁদে।
ওরে তাই ভালোবাসি গো — [ত্রিভুবন ভালোবাসে ওরে]।
এ-কুলে ও-কুলে যত নারী আছে, বৃন্দে, গোবিন্দে সকলে চায় —
ও সকলের প্রিয় তবু কারো সে নয় কভু,
প্রেমময় প্রেম দিয়ে কেবলি কাঁদায়, ওরে কে ধ’রে রাখবে?
[ঐ দুরন্তরে বল্ ঐ উড়ন্ত পাখির]
আমারি প্রিয়তমে সকলে বাসে ভালো গরবিনী আমি সেই গরব-ভরে।
নিন্দা করি’, ‘বৃন্দা, বৃন্দাবনে লো — মনে মনে ক্ষমা চাই চরণ ধ’রে।
ওর মন যে জানি লো, [ও চন্দ্রা’র বুকে কাঁদে ‘রাধা, রাধা’ ব’লে]
ওর মনে যদি থাকত কিছু আবেশে, এ বেশে কি আসত?
[চোর কি নিজে দেয় ধরা সই? অ-ধরা, ধরায়, ধরা পড়ত না সই]
ও অত মুখ্যু নয় লো’
[কোটি কোটি মুমুক্ষেরে মোক্ষ দেয় যে, সে অত মুখ্যু নয় লো]
প্রাণ গোবিন্দে, আন্ লো বৃন্দে — জুড়াক এ বুকের জ্বালা।
বনমালী-কণ্ঠে নাহি জড়ালে সখি, প্রাণ-হীন আমি বনমালা!
মোর কৃষ্ণ প্রাণ লো
কৃষ্ণ ধ্যান, কৃষ্ণ জ্ঞান, কৃষ্ণ অভিমান — কৃষ্ণ প্রাণ লো!
মোর কৃষ্ণ বিরহ, কৃষ্ণ কলহ, কৃষ্ণ প্রাণ লো!

‌‘কলহ-কলহান্তরিতা’

আমি মুক্তা নিতে আসিনি মা

বাণী

(মা)	আমি, মুক্তা নিতে আসিনি মা ও মা তোর মুক্তি-সাগর কূলে।
	মোর ভিক্ষা-ঝুলি হ’তে মায়ার মুক্তা মানিক নে মা তুলে।।
		মা তুই, সবই জানিস অন্তর্যামী,
		সেই চরণ-প্রসাদ ভিক্ষু আমি,
	শবেরও হয় শিবত্ব লাভ মা তোর যে চরণ ছুঁলে।।
	তুই অর্থ দিয়ে কেন ভুলাস এই পরমার্থ ভিখারিরে,
	তোর প্রসাদী ফুল পাই যদি মা গঙ্গা ধারাও চাই না শিরে।
		তোর শক্তিমন্ত্রে শক্তিময়ী
		আমি হতে পারি ব্রহ্ম-জয়ী
	সেই মাতৃনামের মহাভিক্ষু তোর মায়াতেও নাহি ভুলে।।

এসো মাধব এসে পিও মধু

বাণী

এসো মাধব এসে পিও মধু।
এসো মাধবী লতার কুঞ্জ বিতানে (মধু) মাধবী রাতে এসো বঁধু।।
এসো মৃদুল মধুর পা ফেলে
এসো ঝুমুর ঝুমুর ঘুমুর বাজায়ে শ্রবণে অমিয়া মধু ঢেলে,
এসো বাজায়ে বাঁশরি যে সুর-লহরী শুনে কুল ভোলে ব্রজবধূ।।
এসো নিবিড় নীরদ বরণ শ্যাম
তমাল কাননে কাজল বুলায়ে দুলায়ে চাঁচর চিকুর দাম,
এসো বামে হেলায়ে শিখী-পাখা ত্রিভঙ্গ ঠামে এসো বঁধু।।
এসো নারায়ণ এসো অবতার
পার্থসারথি বেশে এসো পাপ কুরুক্ষেত্রে আরবার,
তুমি মহাভারতের ভাগ্যবিধাতা গীতি উদ্গাতা নহ শুধু।।

বিষ্ণুসহ ভৈরব অপরূপ মধুর

বাণী

বিষ্ণুসহ ভৈরব
অপরূপ মধুর মিলন শম্ভু মাধব।
দক্ষিণে শঙ্কর শ্রীহরি বামে,
মিলিয়াছে যেন রে কানু বলরামে
দেখি এক সাথে যেন দেখি রে
		স্বয়ম্ভু কেশব।।
বিমল চেতনা আনন্দ মদন
শিব-নারায়ণের যুগল মিলন,
এক সাথে ব্রজধাম শিবলোকে
অরূপ স্বরূপ নেহারি চোখে —  
শোন্ রে একসাথে বেণূকার প্রণব।।

কোন্‌ বন হ’তে করেছ চুরি

বাণী

কোন্ বন হ’তে করেছ চুরি হরিণ-আঁখি (গো ঐ)।
যেন আননে বেঁধেছে বাসা কানন-পাখি (ভীরু)।।
চুরি করা ঐ নয়ন কি তাই ভয় এত চোখে।
নীল সাগর বলে, ডাগর ও-চোখ আমারি নাকি।।
চিরকালের বিজয়িনী ও-উজল নয়নে।
(তুমি) দু’ধারী তলোয়ার রেখেছ জহর মাখি’।।
পুড়িল মদন তোমার ঐ চোখের দাহে।
সে গেছে তোমার ঐ চোখে তার ফুল-বাণ রাখি’।।