দূর বনান্তের পথ ভুলি কোন্ বুলবুলি

বাণী

দূর বনান্তের পথ ভুলি কোন্ বুলবুলি বুকে মোর আসিলি হেথায়।
হায় আনন্দের দূত যে তুই, তবু তোর চোখে কেন জল কি ব্যথায়।।
কোথা দিই ঠাঁই তোরে ওরে ভীরু পাখি, বেদনাময় আমার ও প্রাণ,
এ মরুতে নাই তরু, নাই তোর তৃষার তরে জল যে হেথায়।।
নিকুঞ্জে কার গাইতে গেলি গান, বিঁধিল বুক কণ্টকে;
হায় পুড়িয়া বৈশাখে এলি ভিজিতে অশ্রুর বরষায়।।

ফুলে ফুলে বন ফুলেলা

বাণী

ফুলে ফুলে বন ফুলেলা।
ফুলের দোলা ফুলের মেলা
ফুল-তরঙ্গে ফুলের ভেলা।।
ফুলের ভাষা ভ্রমর কুঞ্জে
দোলন চাঁপার ঝুলন কুঞ্জে,
মুহু মুহু কুহরে কুহু
সহিতে না পারি ফুল-ঝামেলা।।

নাটক: ‘সাবিত্রী’

চঞ্চল শ্যামল এলো গগনে

বাণী

চঞ্চল শ্যামল এলো গগনে।
নয়ন-পলকে বিজলি ঝলকে চাঁচর অলক ওড়ে পবনে।।
		রিম্‌ঝিম্‌ বৃষ্টির নূপুর বোলে
		মৃদঙ্গ বাজে গুরু গম্ভীর রোলে;
হেরি’ সেই নৃত্য ধরার চিত্ত ডুবু ডুবু বরিষার প্রেম-প্লাবনে।।
		উদাসী বেণু তার অশান্ত বায়ে
		বাজে রহি’ রহি’ দূর বনছায়ে;
আকাশে অনুরাগে ইন্দ্রধনু জাগে ভাবের বন্যা বহে বৃন্দাবনে।।

বনপথে কে যায়

বাণী

বনপথে কে যায়।
মনে হয় যেন তারে চিনি আমি হায়।।
ছন্দে জাগায়ে সে-নিশীথ নিঝুম
বাজে নূপুর তার রুমা ঝুমা ঝুম্,
জাগে নিশীথিনী এলোচুলে পাষাণ বুকে নির্ঝর জাগায়।।

ত্রাণ কর মওলা মদিনার উম্মত তোমার

বাণী

ত্রাণ কর মওলা মদিনার, উম্মত তোমার গুনাহ্‌গার কাঁদে।
তব প্রিয় মুসলিম দুনিয়া পড়েছে আবার গুনাহের ফাঁদে।।
	নাহি কেউ ঈমানদার, নাহি নিশান-বরদার,
	মুসলিম জাহানে নাহি আর পরহেজগার,
	জামাত শামিল হতে যায় না মসজিদে,
	পড়ে নাকো কোরআন মানে না মুর্শিদে;
ভুলিয়াছে কল্‌মা শাহাদাত, পড়ে না নামাজ ঈদের চাঁদে।।
	নাহি দান খয়রাত, ভুলে মোহ ফাঁসে
	মেতে আছে সবে বিভবে বিলাসে;
	বসিয়াছে জালিম শাহী তখ্‌তে তব —
	মজলুমের এ ফরিয়াদ আর কাহে কব,
তলোয়ার নাহি আর, পায়ে গোলামীর জিঞ্জির বাঁধে।।

নয়নে নিদ নাহি

বাণী

নয়নে নিদ নাহি।
নিশীথ-প্রহর জাগি, একাকিনী গান গাহি।।
কোথা তুমি কোন দূরে, ফিরিয়া কি আসিবে না,
তোমার সাজানো বনে ফুটিয়া ঝরিল হেনা —
কত মালা গাঁথি, কত আর পথ চাহি।।
কত আশা অনুরাগে হৃদয় দেউলে রেখে
পূজিনু তোমারে পাষাণ, কাঁদিলাম ডেকে ডেকে।
এস অভিনামি ফিরে, নিরাশায় এ তিমিরে
			চাঁদের তরণী বাহি’।।